Steemit Challenge Season 34 – Week 5 | My Plan as Mayor for One Week
আমি দিনাজপুর জেলার একটি ছোট্ট উপজেলা পার্বতীপুরে বাস করি। আমাকে যদি এক সপ্তাহের জন্য পার্বতীপুরের মেয়র হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই এটি আমার জন্য অনেক সম্মানের এবং একই সঙ্গে বড় একটি দায়িত্বের বিষয় হবে।
এক সপ্তাহ খুবই অল্প সময়। তাই এই অল্প সময়ে অনেক কিছু পরিবর্তন করার চেষ্টা না করে আমি এমন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করতে চাই, যেগুলো স্থানীয় মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
১. মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ

আমার প্রথম কাজ হবে মাদকের বিস্তার কমানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
আমাদের এলাকায় কোথায় কোথায় মাদকের আড্ডা রয়েছে, তার সবগুলো হয়তো আমি জানি না। প্রশাসন সব জায়গার খবর জানে কিনা, সেটিও নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না। তবে মাদকের কারণে অনেক কিশোর-তরুণসহ সাধারণ মানুষও তাদের স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, এটি খুবই চিন্তার বিষয়।
তাই প্রথম সপ্তাহেই আমি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং তরুণদের নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে চাই। মাদকের বিক্রয় ও সরবরাহের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তরুণদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচির ব্যবস্থা করতে চাই।
এই কাজে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাব বলে মনে করি অভিভাবক, শিক্ষক, তরুণ সমাজ এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। তবে যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বা এর মাধ্যমে লাভবান হয়, তারা অবশ্যই এই উদ্যোগের বিরোধিতা করতে পারে।
২. বেকারত্ব কমাতে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা

আমার দ্বিতীয় কাজ হবে বেকার তরুণদের কর্মমুখী করার জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা।
বেকারত্বের সমস্যা এক সপ্তাহে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তবে আমি এমন একটি পরিকল্পনার শুরু করতে চাই, যার মাধ্যমে আমাদের শহরে একটি কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যায়।
এখানে কম্পিউটার ও প্রযুক্তি, কারিগরি কাজ, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, উদ্যোক্তা তৈরি এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিশেষ করে এমন প্রশিক্ষণ দিতে চাই, যার মাধ্যমে একজন তরুণ প্রশিক্ষণ শেষ করে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজেই কিছু করার সুযোগ পায়।
এই উদ্যোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষক, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং তরুণরা সহযোগিতা করতে পারে। তবে কিছু মানুষ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারে, এত বড় প্রকল্পের জন্য অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং এর বাস্তব ফলাফল কতটা হবে? তাই প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করে ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করব।
৩. বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আমার তৃতীয় পরিবর্তন হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম, কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কাজ করা।
আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়, আমাদের এলাকায় যাতায়াত, শিক্ষা, খাদ্য এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ অনেক সময় নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়।
শিক্ষাক্ষেত্রেও কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে কোনো শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষকের কাছেই পড়তে বাধ্য হতে হয়, অন্যথায় পরীক্ষায় ভালো মার্ক পাওয়া যাবে না, এমন একটি ভয় বা ধারণা তৈরি হয়। আমি মনে করি, একজন শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল তার পড়াশোনা ও যোগ্যতার ওপর নির্ভর করা উচিত, কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষকের কাছে পড়ার ওপর নয়।
এছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা নিয়েও সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের অনিয়ম ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। এসব ক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে সেটি বন্ধ করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
যাতায়াতের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। কোনো কোনো বাস সময়মতো না ছাড়া, ইচ্ছা করে দেরি করা কিংবা যাত্রীদের কাছ থেকে অযৌক্তিক ভাড়া নেওয়ার মতো বিষয় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হতে পারে। খাদ্যের ক্ষেত্রেও কোথাও কোথাও অস্বাভাবিক দাম নেওয়া বা বাজারকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা দেখা যায়।
আমি মেয়র হলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা, নিয়মিত বাজার মনিটরিং, পরিবহন ব্যবস্থার তদারকি এবং শিক্ষা ও নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে চাই।
এখানে সাধারণ মানুষ অবশ্যই আমার বড় সহযোগী হবে। তবে যারা এসব অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লাভবান হয়, তারা স্বাভাবিকভাবেই এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করতে পারে। তাই ব্যক্তিগতভাবে কারও বিরুদ্ধে না গিয়ে নিয়ম, স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াই আমার লক্ষ্য হবে।
আপনার পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করতে আনুমানিক কত টাকা লাগবে, এবং সেই টাকা কীভাবে জোগাড় করবেন? টাকা জোগাড় করতে কি অন্য কোথাও খরচ কমাতে হবে?

আমার মনে হয়, এই তিনটি পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে ঠিক কত টাকা লাগবে তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কারণ এটি কোনো ছোট উদ্যোগ নয়; এর সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, অবকাঠামো উন্নয়ন, নির্মাণকাজ, শ্রমিকদের মজুরি, ইঞ্জিনিয়ারদের খরচ, প্রশিক্ষকদের খরচ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় জড়িত থাকবে। তাই প্রকল্পগুলোর পরিধি ও প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো নির্ধারণ করার পরই সঠিক বাজেট তৈরি করা সম্ভব হবে।
তবে আমি মনে করি, সবগুলো কাজ একসঙ্গে বড় পরিসরে শুরু না করে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়া উচিত। প্রথমে সবচেয়ে জরুরি কাজগুলো চিহ্নিত করে একটি বাস্তবসম্মত বাজেট তৈরি করব। এরপর স্থানীয় সরকার বা সরকারি বরাদ্দ থেকে অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সহযোগীদের কাছ থেকেও বৈধভাবে সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।
অর্থের ঘাটতি থাকলে অবশ্যই কোথায় অপ্রয়োজনীয় খরচ হচ্ছে, সেটি খুঁজে দেখতে হবে। তবে মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা কমিয়ে টাকা সাশ্রয় করতে চাই না। বরং অপ্রয়োজনীয় ও কম গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় কমিয়ে সেই অর্থ জরুরি উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা করব।
আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে শুধু টাকা খরচ করা নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সীমিত অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। প্রথম সপ্তাহে হয়তো সব কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হবে না, কিন্তু একটি পরিষ্কার বাজেট, কাজের অগ্রাধিকার এবং অর্থের উৎস নির্ধারণ করে গেলে পরবর্তীতে অন্যরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিতে পারবে।
আমি চলে যাওয়ার পর কী হবে?

সত্যি বলতে, আমি মনে করি আমার এক সপ্তাহের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার একটা ঝুঁকি থাকবে। কারণ মাদক, বেকারত্ব, অনিয়ম বা সিন্ডিকেট, এসব কোনো একদিনের সমস্যা নয়; এগুলো দীর্ঘদিনের সমস্যা।
তবে আমি যদি যাওয়ার আগে সঠিক মানুষকে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারি, স্থানীয় মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস দিতে পারি এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করে যেতে পারি, তাহলে আমার কাজগুলো কিছুটা হলেও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে, এক সপ্তাহে সব সমস্যা সমাধান করা নয়; বরং এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করে যাওয়া, যা আমার অনুপস্থিতিতেও কাজ করতে পারে।
শেষ পর্যন্ত, যদি আমি এক সপ্তাহের জন্য পার্বতীপুরের মেয়র হওয়ার সুযোগ পাই, তাহলে আমি এমন কিছু পরিবর্তনের শুরু করতে চাই যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে একটু সহজ করবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে।
