নিশাচর গ্রামোফোন

1000301330.jpg
নিশাচর গ্রামোফোন
সায়ন পুরনো জিনিস সংগ্রহ করতে খুব ভালোবাসে। একবার কলকাতার এক পুরনো লেনে ঘুরতে ঘুরতে সে এক অদ্ভুত সুন্দর, কিন্তু ধুলোমাখা গ্রামোফোন খুঁজে পেল। বিক্রেতা লোকটা অদ্ভুত ছিল, সায়নের হাতে গ্রামোফোনটা দেওয়ার সময় নিচু স্বরে বলেছিল, "এটা রাতে বাজাবেন না বাবু, এর সুর একটু আলাদা।"
সায়ন হেসেই উড়িয়ে দিল। শখের জিনিস, বাড়ি এনেই সে ড্রয়িং রুমের কোণে সাজিয়ে রাখল।
অচেনা সুর
সেদিন রাত তখন প্রায় ২টো। হঠাৎ নিঝুম বাড়িতে একটা গ্রামোফোন বাজার শব্দে সায়নের ঘুম ভেঙে গেল। একটা করুণ অথচ মিষ্টি নারী কণ্ঠের গান ভেসে আসছে। সায়ন অবাক হলো— সে তো কোনো রেকর্ড গ্রামোফোনে বসায়নি!
সে ঘর থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুমে এল। দেখল, অন্ধকারের মধ্যে গ্রামোফোনের রেকর্ডটা নিজে নিজেই ঘুরছে। কিন্তু আশ্চর্য বিষয় হলো, গ্রামোফোন থেকে কোনো শব্দ বেরোচ্ছে না, বরং শব্দটা আসছে ঠিক তার পেছনের দেওয়াল থেকে!
আয়নার ওপারে
সায়ন যখন গ্রামোফোনটা বন্ধ করার জন্য হাত বাড়াল, তখন হঠাৎ ঘরের বড় আয়নাটার দিকে তার নজর পড়ল। আয়নায় সে নিজের প্রতিফলন দেখল না। দেখল, তার সোফায় বসে আছে ধবধবে সাদা শাড়ি পরা এক মহিলা। সেই মহিলার হাতে কোনো চামড়া নেই, শুধু হাড়ের আঙুল দিয়ে সে যেন একটা অদৃশ্য সুর তুলছে।
মহিলাটি হঠাৎ আয়নার ভেতর থেকেই সায়নের দিকে তাকাল। তার চোখ দুটো ছিল একদম কয়লার মতো কালো, কোনো মণি নেই। সে ফিসফিস করে বলল:
"পুরনো রেকর্ডটা তো শেষ হয়ে গেছে খোকা... এবার কি তোর হৃদস্পন্দন দিয়ে নতুন সুর তুলব?"
পরের দিন
পরদিন সায়নের বন্ধুরা তাকে ঘর থেকে উদ্ধার করে। সে তখনো জ্ঞান হারানো অবস্থায় মেঝের ওপর পড়ে ছিল। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, সেই দামী গ্রামোফোনটা ঘরের কোথাও পাওয়া যায়নি। শুধু সায়নের বুকের বাঁ দিকে ঠিক হাড়ের উপরে একটা কালো হয়ে যাওয়া গোল দাগ ছিল, যেন কেউ সেখানে খুব জোরে একটা জ্বলন্ত কয়লা চেপে ধরেছিল।
আজও সায়ন অন্ধকার ঘরে একা থাকতে পারে না। তার মনে হয়, দেয়ালের ওপার থেকে কেউ এখনো সেই পুরনো গ্রামোফোনের হ্যান্ডেলটা ঘুরিয়ে যাচ্ছে... খড়খড়... খড়খড়...
গল্পটা কেমন লাগল? আপনি কি এমন কোনো রহস্যময় ঘটনার কথা শুনেছেন?

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.29
JST 0.043
BTC 67939.12
ETH 1974.20
USDT 1.00
SBD 0.38