ভাগ্নেদের অসুস্থতায় কয়েকদিন হাসপাতালের চার দেওয়ালে বন্দী

in আমার বাংলা ব্লগ2 months ago

হ্যালো.......!!
আসসালামু আলাইকুম/আদাব আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গন আমি @kibreay001 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (২৪-১১-২০২৫)

IMG_20251123_211915.jpg

আসসালামু আলাইকুম আমার স্টিম বন্ধু গন আশা করি আপনারা অনেক ভালো আছেন । আপনাদের দোয়ায় আমিও অনেক ভালো আছি। আমি @kibreay001 আমি আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি ভাগ্নেদের অসুস্থতায় কয়েকদিন হাসপাতালের চার দেওয়ালে বন্দী। আসলে কয়েকদিন খুবই ব্যস্ততায় দিন পার করছি এর মাঝেও চেষ্টা করি মাঝেমধ্যে কিছু সময় আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য। কয়েকদিন আমি কাজ করতে পারছিনা বললেই চলে। আসলে আমার আপুর জমজ বাচ্চা তাদের অসুস্থতায় আজকে আমার ব্যস্ততা বেড়েছে। আমার ভাগ্নেদের অসুস্থতা সম্পর্কে @nusuranur আপুকে আমি ইতিমধ্যেই কয়েকবার জানিয়েছি এবং আপুর সাথে আমার কথা হয়েছে। আমার ভাগ্নিদের অসুস্থতার জন্য আমি প্রথমত আমাদের কুষ্টিয়াতে তিন দিন ভর্তি ছিলাম তারপরে আবার রাজশাহীতে পাঁচ দিন ভর্তি থাকার পরে বাড়িতে আসার পরের দিন আবারো অসুস্থ তাই রাতে আমরা আমার ভাগ্নিদের আবারো কুষ্টিয়া সোনা টাওয়ারে ভর্তি করেছিলাম। সব মিলিয়ে খুবই ব্যস্ততাই গত সপ্তাহ অতিবাহিত করছি। আসলে আমি রাতে আমার বন্ধুর মেসে থাকি তাই চেষ্টা করছি সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে কিছুটা কাজ সম্পন্ন করার জন্য। তবে চলুন আজকের পোস্ট শেয়ার করা যাক...........

IMG_20251123_212000.jpg

IMG_20251123_211903.jpg

প্রথমে আমি খুব সুন্দর ভাবে আপনাদের মাঝে দুটি ছবি আমার মোবাইলের ক্যামেরায় ধারণ করে শেয়ার করেছি। আমার ভাগ্নিরা যেদিন প্রথম অসুস্থ হয় প্রথম লালন শাহ ডায়গনস্টিক সেন্টার এন্ড প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলাম। সেখানে খুবই সুন্দরভাবে দুইদিন ট্রিটমেন্ট চলেছিল। তারপরে আরো অসুস্থতা হয়ে পড়ে সেখানে আমরা কুষ্টিয়া মেডিকেলের একজন ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ অনুযায়ী আমার ভাগ্নিদের চিকিৎসা হয়েছিল। প্রথমেই আমার ভাগ্নেদের খুবই শ্বাসকষ্ট ছিল এবং ডাক্তার তখন অক্সিজেন দেওয়ার কথা বলেছি এবং কয়েক ঘণ্টা পর অক্সিজেন লেভেল দেখছিল এটাই ছিল প্রথম চিকিৎসা। যেহেতু আমার ভাগ্নেদের খুবই শ্বাসকষ্ট হয়েছিল তাই অক্সিজেন দেওয়া অবস্থায় অক্সিজেন লেভেলটা ঠিক ছিল কিন্তু অক্সিজেন নাক থেকে খুলে ফেললেই আবার অক্সিজেন লেভেল অনেক কমে আসছিল। অক্সিজেন লেভেল ধরে রাখতে পারছিল না তাই আমরাও অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তবে সেই রাত্রি শেষ হওয়ার সাথে সাথে অক্সিজেন লেভেল মোটামুটি ঠিক ছিল।

IMG_20251123_211850.jpg

আপনারা লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন আমি আবারও আমার ভাগ্নের একটি ছবি আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। আসলে বাচ্চাদের নাকের মধ্য থেকে নল পরানো কতটা কষ্টকর নিজের চোখে না দেখলে বোঝা যায় না। আসলে আমার ভাগ্নের যখন নাকে নল পরানো হয় তখন কাউকে সেখানে থাকতে দেয় না কি যে কষ্ট লাগে বলে বোঝানো যাবে না। আসলে নাকের মধ্যে নল দিয়ে আমার ভাগ্নেদের বুকের কফ তোলা হচ্ছিল এটা আমার নিজের কাছে খুবই খারাপ লেগেছিল। তবে সব থেকে বেশি কষ্ট লাগে যখন ছোট বাচ্চাদের কেনলা করার জন্য বারবার গায়ে ফোটা করে। আমার চোখের সামনে যখন আমার ভাগ্নেদের গায়ের ফোটা করে কেনলা করছিল বারবার তখন নিজের চোখ দিয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছিল নিজের অজান্তেই। এই সমস্ত চিকিৎসা নেওয়ার পরে আমার ভাগ্নেদের যখন আমি নিজে চোখে দেখেছিলাম আসলে তাদের অবস্থা দেখে আমার নিজেকে ঠিক রাখতে পারছিলাম না এতটাই কষ্টকর মুহূর্ত ছিল সময়টা আমার জন্য।

IMG_20251123_211938.jpg

আমি আবারও খুবই চমৎকারভাবে একটি ছবি আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। সন্ধ্যা রাতে ডাক্তার দেখানোর পরে যখন আমাদের ভর্তি করার নির্দেশ দেয় ভর্তি হওয়ার পরেই ডিউটিরত নার্স একটি পদ্ম তৈরি করে ওষুধ নিয়ে আসার জন্য আদেশ করেছিল। আমি সমস্ত ওষুধ নিয়ে আসার পরে নার্স আবারো নতুন ট্রিটমেন্ট শুরু করেছিল। পরের দিন আবারো ডাক্তার খুবই সুন্দরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়ার পরেই আমার ভাগ্নেদের নিমোনিয়ার ধরা পড়েছিল আসলে ছোট বাচ্চাদের ঠান্ডার সময় এই রোগটি সবসময় বেশি দেখা দেয় । যেহেতু আমার আপুর জমজ বাচ্চা ছিল তাই আমরা ভয় পেয়েছিলাম একজন অসুস্থ হলে অন্যজন এমনিতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে দুজন অসুস্থ হওয়ার ভয়টা পেয়েছিলাম কিন্তু একজনের মেমোনিয়ার হওয়ার দুইদিন পরে অন্যজন আবারও নিমোনিয়ারে আক্রান্ত হয়েছিল। তাই ডক্টর আমাদের কুষ্টিয়া থেকে সাথে সাথে রাজশাহীতে ট্রান্সফার করেছিলাম। সব মিলিয়ে এই সময় ছিল আমার জন্য খুবই ব্যস্ততম এবং কষ্টের মুহূর্ত। আশা করি আপনারা সকলে আমার ভাগ্নেদের জন্য দোয়া করবেন যেন খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং আবারও আমার ভাগ্নেদের নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারি। আজকের মত পোস্ট লিখে এখানে শেষ করছি সকলকে আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ অভিনন্দন।

✨💞আমার নিজের পরিচয়💞✨

1000096995.jpg

আমি মোঃ কিবরিয়া হোসেন। আমি বাংলাদেশ খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানা কামারখালী গ্রামে বসবাস করি। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলতে এবং লিখতে অনেক ভালোবাসি। সব থেকে আমি বেশি পছন্দ করি ফটোগ্রাফি ক্যামেরাবন্দি করতে। আমি বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন জায়গা ঘোরাঘুরি করে থাকি। কয়েকটি শখের মধ্যে আমার প্রধান শখ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করা এবং ফটোগ্রাফি ধারণ করা। আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু করেছি ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের ০১ তারিখে । স্টিমিট প্ল্যাটফর্মকে আঁকড়ে ধরে ভবিষ্যতে আরো অনেক দূরে এগিয়ে যেতে চাই এটাই আমার লক্ষ্য। সংক্ষিপ্ত আকারে আমি আমার নিজের পরিচয় শেয়ার করলাম আপনাদের মাঝে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।

(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )

banner-abb3.png

Logo.png

7258xSVeJbKkzXhyseBP4PYz11eBDT8sW2oR1a4vfVFS6JTrGU8e1FPUaNdHG5vjXyg2xthV78bDEmEVvKCQpyzX1kq8gAVzGsPp9GqJVRWxb6T9y35PZmQehnLjELdKKmnhdxQjDuny4.png

Banner.png

1000061548.png


VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

✨💞আমার লেখা পোস্টটি সকলকে ভিজিট করার জন্য ধন্যবাদ💞✨

Posted using SteemX