স্বামী স্ত্রীর মধুর গল্প।।
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ এর প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই?আশা করি আপনারা সবাই অনেক ভালো আছেন।আমিও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি।আমি @shahid420 বাংলাদেশ থেকে।বন্ধুরা আজকে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হলাম নতুন একটি ব্লগ নিয়ে।চলুন আজকের ব্লগ টি শুরু করা যাক।
এই পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ পবিত্র বন্ধন গুলোর মধ্যে হতে একটি হলো স্বামী স্ত্রীর বিয়ের বন্ধন। অজস্র সমস্যা রাগারাগি এবং কত সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পরেও ঢাল হয়ে একে অপরের পাশে থাকার নামই হলো স্বামী স্ত্রী।
একটা শহরে একটা ছেলে এবং একটা মেয়ের মধ্যে বিয়ের সম্পর্ক বন্ধিত হল। তাদের সম্পর্কটাই তৈরি হয়েছিল কেবলমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য দুজনেরই ছিল একই নিয়ত।
তাদের সম্পর্কটা শুরু হয়েছিল বিসমিল্লাহ দিয়ে। বিয়ের পরেই স্বামী একদিন স্ত্রীকে খুবই মৃদু স্বরে কানে কানে বললো, শুনছো প্রিয়সি আমি তোমাকে আল্লাহর জন্যই ভালোবাসবো। স্ত্রী লাজুক হেসে স্বামীর বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে উত্তর দিল "প্রিয় স্বামী শুনুন তাহলে, এই ভালোবাসা কখনো ফুরাবে না, কেননা আল্লাহ চিরন্তন"।স্বামী আলতো করে স্ত্রীর কপালে একটা চুম্বন একে দিলো।
মূলত স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসাটা এবং একই ছাদের নিচে থাকা নয় শুধু। সত্যিই ইহা দুটি হৃদয়ের একদম কঠিন ভাবে জোড়া লাগানোর নিরব বন্ধন। তারা একে অপরকে বলে " ওগো শুনছো তুমি আমার পুরো দুনিয়া, আর আমরা দুজনেই একসাথে আখেরাতের পথিক"।
সন্ধ্যায় যখন স্বামী বাইরে কাজ করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে স্ত্রী তখন দরজা খুলে মুচকি হেসে দিয়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা রেখে জিজ্ঞাসা করে আজকে এত দেরি করলেন কেন আপনি? আপনার অপেক্ষায় অধির আগ্রহে বসে ছিলাম আমি! মুহূর্তেই স্বামীর হৃদয় নরম,প্রশমিত হয়ে গেল।
স্বামীও স্ত্রীর কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে মৃদু সুরে বলে " তুমি তো জানোই আমার মহিয়সী,তোমার জন্যই তো এত কষ্ট করা"
তারপর দুজনে একসাথে খেতে বসে তরকারিতে লবণ কম হয়েছে নাকি বেশি এই নিয়ে ক্ষমা চাবে কে আগে, তারপর একটু অভিমান করে কে আগে সালাম দিয়ে কথা বলা শুরু করবে সেটার মধ্যেও প্রতিযোগিতা করা, তারপর একে অপরকে ভাত খাইয়ে দেওয়া। দুজনে একই প্লেটে ভাত খাওয়া। হঠাৎই স্বামী মুখ দিয়ে বলে বসলো"শুনছো টুকটুকি তুমি আজকে যে তরকারি রান্না করেছো তা দিয়ে আমি পুরো পাঁচ মন চালের ভাত খেয়ে ফেলতে পারবো, খুবই সুস্বাদু হয়েছে তরকারি! এরকম খুনসুটি গুলোতেই লুকিয়ে থাকে অসীম ভালোবাসা।
স্ত্রী তার স্বামীর দিকে তাকিয়ে বলে ওগো স্বামী আমি তোমাকে শুধুমাত্র মানুষ হিসেবে নয় রবের থেকে আমানত হিসেবে পেয়েছি। কক্ষনো আপনার উপর অন্য কারোর ছায়াও সহ্য করব না। সেজন্যই আমি আপনাকে জান্নাতের সঙ্গী বানাবো। তাহাজ্জুদের মুনাজাতে স্ত্রী স্বামীর নাম ধরে উপরওয়ালার কাছে বলেন"হে আল্লাহ আমাদের সম্পর্ককে পবিত্র এবং জান্নাতমুখী করে দিন"। আমার স্বামী হল এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ আমার কাছে। আর বলে, হে রব,আমার স্বামীর মত স্বামী এই পৃথিবীতে আর একটা নারীকেও দিবেন না, এটাই আমার আবদার আপনার প্রতি।
এবার স্বামীও স্ত্রীকে শুনিয়ে বলে," হে আল্লাহ আমাকে যে নারী দান করেছেন এই পৃথিবীতে কক্ষনো আর কোনো পুরুষকে এরকম নারী দিবেন না নয়তো আমি হিংসেই জ্বলে পুড়ে মরে যাব। আমার স্ত্রী হল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ আখেরাতেও তাকেই আমার স্ত্রী হিসাবে আপনার থেকে চেয়ে নেব ইনশাআল্লাহ। স্ত্রীকে বলে ওগো মায়াবতী শুনছো তুমি কেবল আমার স্ত্রীই নও, তুমি হলে আমার ঈমানের সহযাত্রী, তোমাকে নিয়েই জান্নাতে করব যাত্রা।
মাঝে মাঝে স্বামী স্ত্রীর উপর কঠিন রাগ হয় আবার সবকিছুই বুঝিয়ে বলে। স্ত্রী ও কম কিসের সেও অভিমান করে থাকে। আবার একটু পরেই চুপিচুপি স্বামীর কাছে এসে বুকে মাথা রেখে অজানা নানান ধরনের গল্পে মেতে উঠে দুজনেই একটু পরেই হাসাহাসি করে!
স্বামী স্ত্রীর উভয়ের স্বপ্ন শুধুমাত্র এটা দুনিয়ার মধ্যেই থাকা ভালোবাসা নয় তাদের উদ্দেশ্য জান্নাতের বাগানে একই সাথে হাতে হাত ধরে হাটা। যেখানে কোন কষ্ট থাকবে না, অভিমান থাকবে না, থাকবে শুধু চিরন্তন শান্তি। আর দুজনে থাকবে মহা শান্তিতে।
একবার তার স্বামীকে নিয়ে স্ত্রীর বাবার বাড়ির কিছু লোক তথা স্ত্রীর ভাই এবং আরো অনেকে মজা করছিল। ঠিক তখনই স্ত্রী , স্বামীর পাশে গিয়ে দাঁড়ালো এবং স্বামীর হাতটি শক্ত করে ধরল তারপরে সকলের উদ্দেশ্যেই বলল আমার স্বামী হল এই পৃথিবীর মধ্যে সব। আমার স্বামী হল আমার জীবনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। সুতরাং কেউ যদি আর একটা ছোট্ট কথাও আমার স্বামীকে ছোট করার জন্য বলে থাকো তাহলে সবাইকে কচুকাটা করে ফেলব। আর আজ আমি এই মুহূর্তে আমার স্বামীর সাথেই চলে যাচ্ছি ।যতদিন না আমার স্বামীর কাছে আপনারা সকলেই ক্ষমা চাচ্ছেন এই অপরাধের জন্য। ততদিন পর্যন্ত আমার সাথে আপনাদের সকল সম্পর্ক শেষ। স্বামী তখন স্ত্রীর প্রতি এতটাই আসক্ত হলো এবং সন্তুষ্ট হলো যে পরবর্তীতে স্ত্রীকে কখনো বিন্দুমাত্র কষ্ট দেয়নি।
স্বামী একবার স্ত্রীকে বলল তুমি যদি আমার মনের মত হতে পারো তাহলে এই পৃথিবীতে তোমার মত সুখী মানুষ আর কেউ থাকবে না। স্ত্রী এতটাই স্বামী ভক্ত ছিল যে স্বামীর একটা ইশারা পাওয়া মাত্রই উঠতো এবং বসতো। স্বামীর অনুমতির বাইরে বাসার বাইরে পা পর্যন্ত রাখতো না। স্বামী অপছন্দ করে এমন ধরনের কাজ করা তো দূরের কথা চিন্তা করা থেকেও বিরত থাকতো। ছোট ছোট বিষয়গুলো করার পূর্বেও তার প্রাণপ্রিয় স্বামীর অনুমতি চাইতো। অনুমতি না পেলে চুপ করে বসে থাকতো।তারপর স্ত্রী স্বামীর চুল টানতো মাথা আচড়িয়ে দিতো আর বারবার বলত শোনোনা তুমি অনুমতি না দিলে মোটেও আমি এই কাজটি করবো না তবে আমাকে কি অনুমতি দেওয়া যায়না গো স্বামী?
একবার বাসায় মেহমান আসলো, সেই সাথে স্ত্রীর বাবার বাড়ির লোকেরাও এসেছিল, তখন তাদের সাথে একসাথে স্ত্রীকে খেতে বলল বসে। কিন্তু স্ত্রী তাতে আসলো না। কারণ সেখানে পরপুরুষ ছিল। তাতে সবাই অনেক ধরনের কথা শুনিয়েছে তাও স্ত্রী চুপ করে ছিল। এরপরে বাবার বাড়ির লোকজন স্ত্রীকে নিয়ে যেতে চাইছিল কিন্তু স্ত্রী নাছোড়বান্দা,স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাসার বাইরে পা টাও রাখবে না। শত অপমান সহ্য করেও স্ত্রী স্বামীর আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করলো।
যখন স্বামী বাসায় আসলো তখন স্ত্রী সবকিছু স্বামীকে খুলে বলল তখন স্বামী সবার উদ্দেশ্যেই বলল আমার স্ত্রী হল আমার কাছে পরম রত্ন। সুতরাং তাকে খবরদার কেউ কখনো বিন্দুমাত্র বাজে কথা বলবে না। আর যদি কেউ আমার স্ত্রীকে বিন্দুমাত্র বাজে কথা বলেছো, তাহলে তাকে আমার সাথে যুদ্ধ করতে হবে। আহ কি মধুর সম্পর্ক তাইনা? হায় আফসোস যদি এরকম একটা স্ত্রী আমি পেতাম!
তারপরে স্বামী স্ত্রীকে নিয়ে নিজেদের রুমে গেল। স্বামী দেখল স্ত্রী মন খারাপ করে আছে এবং রাগ করে আছে। তখন স্বামী স্ত্রীকে বলল এই যে মহারানী শুনছেন? আপনি রাগ করলে আপনার চেহারাটা নূরের মত উজ্জ্বল এবং ফুটফুটে সুন্দর দেখায়। ঠিক তখনই স্ত্রী মুচকি হেসে দিয়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরল। আর বলল শুনুন স্বামী"আজকে আপনি আমার জন্য যা যা বলেছেন আমি সত্যিই তাতে আপনার প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ।আমি সত্যিই আপনাকে স্বামী হিসেবে পেয়ে খুবই ধন্য।
শুনুন প্রিয় স্বামী"আমি আপনাকে জড়িয়ে ধরে আপনার বুকে মাথা রেখে আজ আবারো প্রতিজ্ঞা করছি কেবল মাত্র মৃত্যু ছাড়া কেউ আমাকে আপনার থেকে আলাদা করতে পারবেনা, এক মাত্র আল্লাহ ছাড়া ইনশা'আল্লাহ্।
তারপরে একে অপরকে ভাত খাইয়ে দিল। দুজন দুজনকে পাশে বসিয়ে স্ত্রী স্বামীর বুকে মাথা রেখে গল্প করছিল। একসময় তারা শুয়ে পরলো একে অপরকে মুখোমুখি ভাবে গলা জড়িয়ে। আর একটু পরেই ঘুমিয়ে পড়ল দুজনেই শান্তির নিদ্রায়। আহ্ এরকম সুশীলা একজন স্ত্রীকে যদি আমিও পেতাম। পুরো জীবনে ধন্য থাকতাম। অপেক্ষায় সেই সহধর্মিণীর।
আমার লিখে যাওয়া প্লাটফর্ম এর এই লেখাগুলো থেকে যাবে চিরকাল, সেই সাথ আপনাদের মন্তব্য গুলিও থেকে যাবে অনন্তকাল।তাই আশা করছি আপনাদের সুন্দর সুন্দর মন্তব্য গুলো কমেন্ট বক্সে দেখতে পাবো ।
| Device | Redmi note 15 |
|---|---|
| Country | Bangladesh |
| Location | Rangpur, Bangladesh |
vote@bangla.witness as a witness
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP













ভুলক্রমে @steembag থেকে ২০ স্টিমে সেন্ড করা হয়েছে। এটা ব্যাক দেয়ার অনুরোধ রইলো।
ভাই,আমি আপনার এই কমেন্ট টি আগে দেখিনি ।দেখলে দিয়ে দিতাম।আজকে ,এখন দেখলাম।
কোন অ্যাকন্ট এ পাঠাবো ,আমাকে এনসিউর করলে ভালো হতো।
@steembag