দার্জিলিং থেকে ফেরার পথে রাস্তায় কাটানো ক্ষনিকের মূহুর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আবারো বেশ কয়েকদিন পর আজকে দার্জিলিং এর একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। কোথাও বেড়াতে গেলে সেখানকার নানা রকম স্মৃতি আমাদের মধ্যে বারবার সুন্দর মুহূর্ত গুলোকে মনে করিয়ে দেয় ।সেই রকম একটি মিষ্টি মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। আজকে শেয়ার করব দার্জিলিং থেকে বাড়ি ফেরার সময় বেশ কিছু জায়গায় ঘুরেছিলাম তার মধ্যে রাস্তায় কাটানো বেশ খানিকটা সময় আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। বেড়াতে গিয়ে যে কোন জায়গাতেই কাটানো সময় বেশ ভালো লাগে। সব থেকে মজার বিষয় হলো দার্জিলিং যখন তখন বৃষ্টি শুরু হয় ।আবার কখনো হঠাৎ করে কুয়াশায় রেখে যায় ।আবার তো কখনো মেঘে থেকে যায়। এই মজার বিষয়গুলো খুব কাছ থেকে অনুভব করে বেশ ভালো লেগেছিল ।
সেদিন হোটেল থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে।বেরোনোর পর যখন একটি স্পটে পৌঁছাব তার আগে পিছনে সকলে দেখে যে আর দুটো গাড়ি ছিল সেই গাড়ি দুটো আমাদের সাথে তখনো এসে পৌঁছায়নি। তাই আবার মাঝ রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তখনই হঠাৎ দেখি আমাদের সামনে রাস্তাটা সাদা কুয়াশার মতো মেঘে ঢেকে গিয়েছিল ।এই সব দৃশ্যগুলো আমরা সচরাচর টিভিতে দেখে থাকতাম। তাই সরাসরি চোখের সামনে দেখে খানিকটা অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ওখানে দাঁড়িয়ে বেশ কিছু ছবি তুলে নিয়েছিলাম। এরপর দেখি ওখানকার আশেপাশের কুকুর গুলোকে দেখতে ভীষণ সুন্দর। আমাদের দেখে বেশ কিছু সুন্দর কুকুর এসে হাজির হয়েছিল। আমরা দোকান থেকে কিছু খাবার কিনে কুকুর গুলোকে খেতে দিয়েছিলাম।আমরা যেমন বাড়িতে কুকুর গুলো পোষা হয় ঠিক তেমনি দেখতে মনে হচ্ছিল ওখান থেকে কুকুর গুলোকে ধরে নিয়ে চলে আসি।
দেখতে বেশ মোটাসোটা। তবে ওখানকার মানুষজন বলছিল ওখান থেকে আমাদের দেশে নিয়ে আসলে নাকি গরমে ওরা থাকতে পারবে না। ওখানে ঠান্ডার কারণে দেখতে কুকুরগুলোকে খুব সুন্দর। কুকুর গুলোর সাথে খানিকক্ষণ খেলা করেছিলাম। এরপর পাশেই ছিল একটা পাহাড়। দার্জিলিংয়ে সব জায়গাতেই উঁচু উঁচু পাহাড়। তাই আমাদের বেশ কয়েকজনের ইচ্ছে হলো পাহাড়ের উপরে উঠে কিছু ছবি তোলার ।সেই জন্য পাহাড়ের উপরে উঠে পড়েছিলাম। এদিকে দেখছিলাম সমস্ত পাহাড়ের গায়ে সুন্দর সুন্দর ফুল গাছ রয়েছে। ওই গুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কে আরো বাড়িয়ে তোলে।আমাদের ভীষণ ইচ্ছে হলো একটা ধুতরা ফুলের ডাল বাড়িতে নিয়ে আসবার জন্য। কিন্তু বেশ খানিকক্ষণ ধরে আমরা প্ল্যান করছিলাম একটা গাছের ডাল ভেঙে নেব।
ছোটখাটো একটা গাছ খুঁজছিলাম যে মুহূর্তে আমরা গাছটাকে ভাঙতে গিয়েছিলাম তখনই ওখানকার মানুষ আমাদের বারণ করল। হয়তো ওদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভেঙে এইভাবে নষ্ট করে না। হয়তো চোখের আড়ালে নিয়ে চলে আসলে ওরা না দেখলে কিছুই বলত না। রাস্তার ওদের কথা শুনে আমরা আর গাছটাকে ভাঙার সাহস দেখায়নি। ওখানে সকলে মিলে বেশ খানিকক্ষণ সময় কাটিয়েছিলাম।এরপর সকলে বলছিল চা খাওয়ার জন্য ।আমরা কেউ খেতে রাজি হয়নি ।কারণ তার মিনিট 15 আগেই আমরা হোটেল থেকে খেয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর পরের গাড়ি দুটো চলে এসেছিল। এরপর আবারো রওনা দিয়েছিলাম পরের গন্তব্য স্থলে পৌঁছানোর জন্য।এই ছিল সেদিন আমাদের রাস্তায় কাটানো বেশ সুন্দর মুহূর্ত।
আজ এখানে শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।



