সন্তানের প্রতিরক্ষায় মাতৃত্বের অবদান (বিড়ালের মা)
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন।আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব মা (বিড়াল) কিভাবে তার সন্তানকে আগলে রাখে। এই সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করছি। মানুষ কিংবা পশু দুজনেই সন্তান আত্মরক্ষার জন্য তারা সবকিছুই করতে পারে। আজকে চোখের সামনে দেখলাম এক প্রাণী সন্তানকে রক্ষা করার জন্য তার লড়াই দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। আমার মামার বাড়ি আশেপাশে বেশ কিছু বিড়াল রয়েছে। আমি বিড়াল ,কুকুর খুব একটা পছন্দ করি না। তাই আমার এসব পশু একদমই ভালো লাগে না। কিন্তু আমার মামার বাড়িতে বেশ কয়েকটা বিড়াল রয়েছে। বড় মামা মাছের আরতে থাকে। এ কথা আমি এর আগে অনেক পোস্টের মাধ্যমে বহুবার আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছিলাম। বড়মামা যখন মাছের আরত থেকে বাড়ি ঢোকে আমাদের বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে যখন দেখতে পায় মামাকে তখন থেকেই বিড়াল গুলো নিজেদের মধ্যে আনন্দ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তখনই ওদের ডাক শুনে আমরা ঘরের ভেতর থেকে বুঝতে পারি মামা বাড়ি ফিরছে।ভোর বেলায় বেরোনোর সময় ও মামার পায়ে পায়ে ঘোরে।কারণ মামা বাড়িতে ঢোকার আগে থেকেই রাস্তা থেকে বিড়াল গুলোকে মাছ দিয়ে দিতে ঢোকে।
এটা হল প্রত্যেক দিনকারই রীতি। ওই বিড়ালটার বেশ কিছুদিন হল তিনটে বাচ্চা হয়েছে। যতবার বাচ্চা হয় অন্যান্য বিড়াল গুলো বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলে।মায়েরা তার বাচ্চাদের আগলে সবসময় বসে থাকে। কিন্তু তাকেও তো খাবারের সন্ধানে বাইরে বেরোতে হয় ।এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতে হয় ।আমাদের পাশের বাড়িতে বিড়ালের বাচ্চাগুলোকে রেখে যথারীতি সে বাইরে বেরোই। তবে আমাদের বাড়ির আশেপাশে বেশ কিছু বেজি রয়েছে। যখন তখন সুযোগ পেলেই বিড়ালের বাচ্চা গুলোকে আক্রমণ করতে ঢুকে পড়ে ।কিন্তু বাড়িতে মানুষ থাকলে তাদের হাত থেকে বিড়ালের বাচ্চা গুলোকে বাঁচানো হয়। গতকালকে যখন দুপুরবেলাতে মামার বাড়িতে গিয়ে ছিলাম । বাড়িতে খানিকক্ষণ বসার পরে দেখছিলাম কয়েকটা বেজি বিড়ালের বাচ্চাটাকে মুখে নিয়ে পিছনের বাগানের মধ্যে নেমে পড়েছে।
এদিকে ছোট মামা লাঠি নিয়ে দৌড়াচ্ছিল কিভাবে বেজির মুখ থেকে বিড়ালের বাচ্চাটাকে রক্ষা করবে। যাইহোক সাথে সাথে গিয়েছিল বলে কোনরকম তাদের মুখে থেকে রক্ষা করতে পেরেছিল। এরপর আবারও সহযত্নে যেখানে বাচ্চাগুলো ছিল সেখানে রেখে দিয়েছিল। এরপর খানিকক্ষণ পর দেখি তার মা মুখে করে নিয়ে অন্য জায়গায় তাদের নিয়ে যাচ্ছিল ।মানে ওর মা ও বুঝতে পারছিল আমার বাচ্চাগুলো এখানে সেভ নয়। তাদের জায়গা পাল্টানো উচিত। তাই অন্য কোন জায়গাতে নিয়ে গিয়ে সযত্নে রেখে দিয়েছিল। তবে আজকে দুপুর বেলাতে হঠাৎ করে এক কান্ড ঘটে গেল। আমি তখন দুপুরের খাবার খেতে বসেছিলাম ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর তিনটে বাজে ।খাওয়া প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল।তখন হঠাৎ দেখি দুটো বিড়াল মিলে খুব মারামারি শুরু করে দিয়েছে ।
আমি আর দিদা উঠে গিয়ে দেখি বিড়ালের বাচ্চাটা মুখে করে নিয়ে এসে এদিকে দুটো বিড়াল মারামারি করছে। দিদা অসুস্থ মানুষ তাও একটা লাঠি নিয়ে কিছুতেই মারামারি ছাড়াতে পারছে না। এদিকে বড় মামাকে উপর থেকে ডাকা হলো। বড়মামা যেই নেমে এসেছিল তখন বিড়াল গুলো ছুটে পালালো।দিদা তখন মুখে করে আনা বাচ্চাটাকে সযত্নে আমাদের সিড়ির উপর রেখে দেওয়া হল। খানিকক্ষণ পর দেখি ওর মা এসেছে বাচ্চাটাকে দেখতে। ওর মা ও বুঝতে পেরেছে আমার বাচ্চাটা এখানে ভালোই আছে ।তাই বাচ্চাটাকে দেখে ঘুরে চলে গেল। এদিকে খানিকক্ষণ পর যখন ছোট মামার বাড়ি ঢুকলো দিদা বলল বাচ্চাটার কথা তখন মামা আবার একটা সুন্দর জায়গা করে দিল বাচ্চাটাকে রাখবার জন্য।
তখন দেখি বড় বিড়ালটাও তার বাচ্চার কাছে এসে তাকে নিয়ে এখানেই সেই থেকে বসে আছে। সে হয়তো বুঝতে পারছে অন্যান্য জায়গা থেকে এই জায়গাতে আমি আমার বাচ্চাটাকে ভালো রাখতে পারব। আরেকটি বাচ্চা ছিল সেটা হয়তো আর নেই। যখনই বাচ্চা হয় তখনই বড় বিড়াল গুলো বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলে। এর কারণ আমার জানা নেই কেন বিড়াল তাদের বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলে। তবে আজকে বড় বিড়ালটাকে দেখলাম তার সন্তানকে রক্ষা করার জন্য সে আপ্রান ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। জানিনা শেষ পর্যন্ত বাচ্চাটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে কিনা। একটা মা তার সমস্ত টুকু দিয়েই তার সন্তানকে আগলে রাখার চেষ্টা করে। সেটা মানুষও কিংবা পশু এটাই চোখের সামনেই প্রমাণ দেখলাম।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



