বারো ভূতের মেলা ২০২৬

in Incredible India2 days ago

cover-photo.png

বারো ভূতের মেলা দক্ষিণ কলকাতার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মেলা। এই জমজমাট মেলার প্রত্যেক বছর মকর সংক্রান্তির দিন শুভারম্ভ হয়। এই বছর মেলা শুরু হয়েছিল ১৪ই জানুয়ারী আর ৭ দিন পর্যন্ত চলেছে। ভগবান শ্রী নারায়ণের দ্বাদশ অবতারকে কেন্দ্র করে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাই এই নামকরণ। এই মেলা ৭ দিন চললেও এখানে বারো ভূতের একটি স্থায়ী মন্দির রয়েছে।

1.jpg

2.jpg

এই মেলাকে কেন্দ্র করে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ছোটবেলায় মা-বাবার সাথে প্রতি বছর আমি এই মেলায় আসতাম আর ইস্কুল কলেজ জীবনে এবং পরবর্তী সময়ে বন্ধুবান্ধবদের সাথে। আমার বিয়ের পর প্রথম বছরে আমি আমার স্ত্রীর সাথে এই মেলায় এসেছিলাম। তারপর আর ওকে নিয়ে আসা হয়নি।

6.jpg

5.jpg

এবার প্রায় তিন বছর বাদে আমি বারো ভূতের মেলায় গিয়েছিলাম। বন্ধুদের সাথে টাইমের অ্যাডজাস্টমেন্ট হয়নি, তাই আমি একাই চলে গিয়েছিলাম। যদিও আধঘন্টার বেশি আমি মেলায় থাকিনি। মেলায় খুব একটা কিছু খাইনি, শুধু ঘুগনি আর লটে মাছের চপ খেয়েছি। বাড়ীর জন্যও কিছু নিয়ে যাইনি, কার জন্য নিয়ে যাবো! বাড়ীতে তো আমি একা একা বোকা বোকা।

13.jpg

3.jpg

8.jpg

11.jpg

প্রত্যেক বছর এই মেলায় ২-৩ জন নাগা সন্ন্যাসী আসেন তবে আমি যেদিন গিয়েছিলাম সেদিন কারও দেখা মেলেনি। অন্যান্য সব মেলার মতো এখানেও প্রচুর গৃহস্থালির সরঞ্জাম, মেয়েদের গয়নাগাটি আর খাবারের স্টল দেওয়া হয়েছিল, আর ছিল বেশ কিছু রাইড। যদিও কোনও রাইড আমি চড়িনি, একা একা ভালো লাগে নাকি!

14.jpg

15.jpg

বারো ভূত বা ভগবান শ্রী বিষ্ণুর দ্বাদশ অবতারের পুজো শুরু হওয়ার আগের দিন অনুষ্ঠিত হয় বুড়িমা বা বনদুর্গার পুজো। বুড়িমাকে পুজোয় হাজার হাজার কাঁচা হাঁসের ডিম নিবেদন করা হয়, কখনও কখনও ডিমের সংখ্যা লাখের গন্ডি ছাড়িয়ে যায়।

16.jpg

কথিত আছে একবার দেবী বনদুর্গা বুড়ি ভিখারির বেশে এক গরীব পরিবারে গিয়ে কিছু খেতে চান। সেইসময় সেই পরিবারের কাছে শুধু চাল আর তাদের পোষা হাঁসের ডিম ছিল। সেই ভাত আর ডিম রান্না করে দেবীকে দিলে তিনি অত্যন্ত প্রসন্ন হন। সেই থেকে এই পুজোয় দেবীকে হাঁসের ডিম দেওয়ার প্রচলন শুরু হয়েছিল এবং তা আজও বর্তমান।

17.jpg

শুধু বারো ভূতের দ্বাদশ অবতারদেরই নয়, দেবী বনদুর্গাকে পুজো দেওয়ার জন্যও রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এই মেলায় আসেন। অনেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁসের ডিম মানত করেন দেবীর কাছে আর মানত পূরণ হয়ে গেলে যত সংখ্যক হাঁসের ডিম মানত করেছিলেন সমসংখ্যক হাঁসের ডিম দিয়ে দেবী বনদুর্গার পুজো দেন।

10.jpg

12.jpg

আপনি যদি বারো ভূতের মেলায় আসতে চান তাহলে আপনাকে প্রথমে বাঘাযতীন মোড়ে আসতে হবে। ট্রেনে করে এলে বাঘাযতীন স্টেশনে নেমে রিকশা বা অটো করে বাঘাযতীন মোড়ে আসবেন। সময় লাগবে ৫-৭ মিনিটের মতো। তারপর রাস্তা ক্রস করে কামধেনু মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে থেকে দেখবেন বাঘাযতীন-রানীকুঠি রুটের অটো ছাড়ে। তাতে উঠে বসে মেলার নাম বললেই ৫ মিনিটের মধ্যে আপনাকে বারো ভূতের মেলায় পৌঁছে দেবে। আর হেঁটে যেতে চাইলে বাঘাযতীন মোড় থেকে মেলায় পৌছতে আপনার ১৫ মিনিটের মতো সময় লাগবে।

7.jpg

9.jpg

আজ তাহলে এই পর্যন্তই, সকলে ভালো থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন, এই শুভকামনা জানিয়ে আজকের প্রতিবেদন শেষ করছি।

Source

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.32
JST 0.059
BTC 66876.66
ETH 2023.57
USDT 1.00
SBD 0.49