দুই ভাই (brother in law) এর জন্মদিন পালন

in Incredible India8 days ago

নমস্কার বন্ধুরা,

সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে এক নতুন দিনের গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।

গত সপ্তাহে ছিল আমার মাসি শাশুড়ির দুই ছেলের জন্মদিন।না দুই জনের date of birth একই নয়। দুইজনের মধ্যে বয়সের পার্থক্য প্রায় ১৩ বছরের। আর দুজনের জন্মদিন কয়েক দিন আগে পরে। আমি আমার শাশুড়ি মায়ের কাছ থেকে যা শুনলাম তা হল-- মাসিমণি মানে, মাসি শাশুড়ি দের বাড়িতে কোনো ছেলের জন্মদিন পালন করা হয় না। প্রসঙ্গত ওদের বংশে কোনো মেয়ে সন্তান নেই। ছোটোবেলায় বাড়ির বড়ো ছেলের জন্মদিন খুব ধুমধাম করে পালন করা হবে বলে সব কিছু এলাহী আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু জন্মদিনের আগের দিন ওদের ঠাকুমা মানে মাসিমণির শ্বাশুড়ি মা মারা যায়। মারা যাওয়ার মতো কোনো লক্ষণ আগে থেকে ছিল না। তাও এই রকম অকাল মৃত্যুর কারণে তারপর থেকে ওদের বাড়িতে আর কোনো ছেলের জন্মদিন পালন করা হয় না।

1000427726.jpg

তবে ছোটো ভাই এর এবার দশ বছর পূর্ণ হলো। তাই ওর খুব উচ্ছাস। ছেলে মানুষ তো, সব বন্ধুদের জন্মদিনে যায়, তাই ও এবার মাসিমণি কে খুব করে request করেছে জন্মদিন পালন করার জন্য। ও বলেছে, "জন্মদিন পালন না করলে আমি কিন্তু সব বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করে আসবো।" ছেলের এত অনুরোধ শুনে মাসিমণি শেষমেশ রাজি হয়েছিল। তবে জন্মদিনের কোনো রকম নিয়ম কানুন মানা যাবে না, এটাই ছিল শর্ত। হাজার হলেও বহু দিন ধরে চলে আসা নিয়মকে তো এইভাবে ভেঙে ফেলা যায় না। তাতে যদি আবার কোনো অকল্যাণ হয়, তখন তো মাসিমণির ওপরেই চাপ পড়বে। যাইহোক, এইসব কিছু ভেবে দুইজনেরই জন্মদিন চলে যাওয়ার পর একটি দিন ঠিক করা হয়েছিল কেক কাটিং ও খাওয়া দাওয়ার জন্য।

1000427799.jpg
তাই নির্ধারিত দিনে আমি আর আমার বর চলে গিয়েছিলাম গিফ্ট নিয়ে। যাওয়ার পথে Express Bazaar থেকে দুটো T-shirt নিয়ে নিয়েছিলাম। ওরা দুজনেই T-shirt বেশি পছন্দ করে। যাওয়ার পর দেখলাম দুই ভাই মিলে বেড়িয়েছে কেক কিনতে। তাই আমরা কিছুক্ষণ বসে গল্প করছিলাম। তারপর বেশ অনেকক্ষণ পরে ওরা এলো। ওদের কে গিফ্ট দিয়ে উইশ করলাম। দুজনেরই গিফ্ট খুব পছন্দ হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে পরে দেখলো গায়ে ঠিকঠাক ফিট হয়েছে কিনা।

1000427800.jpg

এরপর দুই ভাইকে দাঁড় করিয়ে ফটো তোলা হলো। বড়ো ভাই তো খুবই লজ্জা পাচ্ছিল। ও ছোটো ভাই এর সাথে ফটো তোলার সময় বলছিল," সিং কেটে বাছুর দের দলে নাম লিখিয়েছি মনে হচ্ছে। যাইহোক, এরপর ওদের কেক কাটিং হলো। তারপর সকলকে কেক ভাগ করে দিল। প্রসঙ্গত জন্মদিন কিন্তু সেই ভাবে সেলিব্রেট হয়নি। একদম ঘরোয়া ভাবে কয়েক জন পরিবারের সদস্যদের নিয়েই হয়েছিল।*

1000427793.jpg

এরপর সকলে মিলে ফটোশ্যুট হলো। একে একে সকলে মিলে ভাইদের সাথে ফটো তুললাম। তারপর চলে গিয়েছিলাম খাওয়ার জন্য। ছাদে বসিয়েছিল। বেশ সুন্দর হাওয়া হচ্ছিল। টেবিলে বসার সঙ্গে সঙ্গে ছোটো ভাই এসে একটা হাতে লেখা মেনু দিয়ে গিয়েছিল। ও যে কতটা excited ছিল তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয় না। বসে বসে সকলের জন্য এইরকম মেনু কার্ড বানিয়েছিল। মেনুতে ছিল -- বাড়িতে বানানো বিরিয়ানি, চিকেন চাপ, রায়তা, মিষ্টি ইত্যাদি।

1000427795.jpg

খাওয়া দাওয়া শেষ করে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। তাই আমরা ৫ মিনিট বসে বাড়ি চলে এসেছিলাম। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Sort:  
Loading...

image.png