"লাচুং এ কাটানো একটা সুন্দর সকাল, সাথে আপেল বাগান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
চারপাশে পাহাড়ে ঘেরা নর্থ সিকিমের অসাধারণ একটি ছোট্ট গ্রাম লাচুং এর, ওম গ্রীন টরটয়েজ নামক হোমস্টেতে কাটানো আমাদের শেষ সকালের অনুভূতি নিয়ে, সিকিম ডায়েরির পরবর্তী পর্ব আজ এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি।
গতকালের পোস্টেই শেয়ার করেছিলাম জিরো পয়েন্ট, গুরুদংমার লেক, উষ্ণ প্রস্রবণ আর পাহাড়ের কোলে ফুটে থাকা অসংখ্য রডোডেনড্রন ফুলের সৌন্দর্য্য দেখে হোমস্টেতে ফিরে রাত কাটানোর গল্প। আজ তারপর থেকেই শুরু করছি।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
আগের দিনে জার্নিতে সকলেই মোটামুটি ক্লান্ত ছিলাম, আর রাতের দিকে অনেক ঠান্ডাও ছিলো, ফলতো গরম কম্বলের নিচে ঘুমটা দারুন হয়েছিলো। সকালে ঘুম ভেঙ্গে জালনার পর্দা সরাতেই এক অসাধারণ দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠলো, যেন মনে হচ্ছিলো কোনো সিনেমা দেখছি।
![]()
|
|---|
একেবারে রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ ছিলো সেদিন। পাহাড়ের চূড়ায় অল্প অল্প বরফ দেখা যাচ্ছিলো, যে বরফগুলো আগের দিন কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখে এসেছিলাম। সেগুলোই আরও একবার দেখার সুযোগ পেলাম হোমস্টের জানালা দিয়ে। আশাকরি উপরের ছবিগুলো দেখে আপনারাও সেই দিনের সকালের আবহাওয়া অনেকটা উপভোগ করতে পারছেন।
![]()
|
|---|
এদিন সকালের ব্রেকফাস্টের পরেই আমাদের হোমস্টে ছেড়ে বেরোনোর কথা ছিলো। তাই শেষবারের মতো সকলেই যেন দুচোখ ভরে একবার চারিদিকের সৌন্দর্য্য আস্বাদন করার চেষ্টা করছিলাম। পাশাপাশি নিজেরা ফ্রেশ হচ্ছিলাম, সকলের লাগেজ গোছানো চলছিলো। এরই মধ্যে যারা চা খাবে তারা কিন্তু ডাইনিং হলে গিয়ে চা খেয়ে এসেছিলো। তবে আমি চা খাইনি বলে আর আলাদা করে যেতে হয়নি, রুমের মধ্যেই জল গরম করে খেয়ে নিয়েছিলাম।
তারপর এক এক করে সকলে তৈরি হওয়ার সাথে সাথে, মাঝে মধ্যে একবার করে জানালা দিয়ে উঁকি দিচ্ছিলাম, যাতে অপূর্ব দৃশ্যগুলো দুচোখ ভরে দেখে নিতে পারি। এরই মাঝে পিয়ালীর হাজব্যান্ড আমাদেরকে জানালো পাশেই ছোট্ট একটি আপেল বাগানের সন্ধান পেয়েছে। যদিও গাছে এখন আপেল ধরেনি,তবে চাইলে আপেলের ফুল আমরা দেখে আসতে পারি। এ কথা শোনার পর আর লোভ সামলানো গেলো না। সকলে মিলেই রাজি হয়ে গেলাম।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
তবে সকলে মিলে লাগেজ গুলো একেবারে গুছিয়ে নিয়েছিলাম। তারপর চলে গিয়েছিলাম ডাইনিং হলে ব্রেকফাস্ট করতে। ব্রেকফাস্ট করার পর আমরা আপেল বাগান পরিদর্শন করবো ঠিক করেছিলাম। ততক্ষণে যদি গাড়ি চলে আসে, তাহলে লাগেজ গুলো নামাতে নামাতেই আমরা ঠিক চলে আসতে পারবো।
এই দিনের ব্রেকফাস্টে ছিলো অসাধারণ দুটি অপশন। এই দিন ছিলো চিড়ের পোলাও আর পাহাড়ি স্টাইলের ম্যাগি। দুটোর স্বাদই অসাধারণ ছিলো। আমরা সকলে মিলে দুটোই একটু একটু টেস্ট করেছিলাম।
|
|---|
শুধু আমরা বললে ভুল হবে, হোমস্টেতে যতজন ছিলেন তারা সকলেই এই একই কাজ করেছিলেন। ডাইনিং এরিয়াতে কিছু মানুষের তাড়াহুড়ো ছিলো জিরো পয়েন্টে যাওয়ার, আবার আমাদের মতন কিছু মানুষের তাড়াহুড়ো ছিলো গ্যাংটকের উদ্দেশ্যে ফিরে আসার।
দুদিন হোমস্টেতে থাকার ফলে কিছু মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে। ভিন্নভাষী, ভিন্ন রাজ্যের এই মানুষ গুলোর সাথে হয়তো জীবনে আর কখনো দেখা হবে না। কিন্তু তাদের ব্যবহার, হাসি মুখগুলো মনে থাকবে আজীবন। এমনকি হোমস্টেতে যে দিদি এবং ভাইয়েরা আমাদের জন্য রান্না করতেন, আমাদেরকে খাবার সার্ভ করতেন, তাদের সাথেও বেশ মিষ্টি একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো এই দুদিনে।
![]()
|
|---|
এমন ভাবেই তাদের সাথে প্রতিদিন কতো মানুষের দেখাশোনা হয়, কতো মানুষের সাথে তাদের পরিচয় হয়। প্রত্যেকেই তাদের এই হোমস্টেতে হয়তো দু-তিন দিনের অতিথি হয়ে আসেন। তবে সকলের সাথে তারা কত ভালো ব্যবহার করে। এই জিনিসগুলো পাহাড়ি এলাকার মানুষদের থেকে সত্যিই শেখা উচিত। যখনই মানুষের সাথে তারা পরিচিত হয়, সব সময় তাদের মুখে হাসি লেগেই থাকে। সেখানকার মানুষগুলো সেখানকার প্রকৃতির মতনই সুন্দর।
|
|---|
|
|---|
যাইহোক খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম আপেল বাগান পরিদর্শন করতে। হোমস্টে থেকে খুব বেশি দূরে নয়। প্রথম দিন আমরা এরই আশেপাশে হেঁটে গ্রামটা পরিদর্শন করেছিলাম, তবে বুঝতে পারিনি যে একটু নিচের দিকে নামলেই আপেল বাগান দেখতে পাবো। আপেলের ফুল গুলো দেখতে অসাধারণ লাগছিলো।
সকলে মিলে সেখানে বেশ কিছুটা সময় কাটালাম, কিছু ছবি তুললাম। আপেল বাগান থেকে ফেরার পথে একটা অন্য রকমের ফল চোখে পড়লো। কিছু কিছু ফল পেঁকে একেবারে কালো রংয়ের হয়ে গিয়েছিলো। ফলগুলো খাওয়া যায় কি যায় না, সেটা বুঝতে পারছিলাম না। তাই কয়েকটা ফল ছিড়ে নিয়েছিলাম।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
হোমস্টেতে ফিরে এসে সেখানকার একজন দিদিকে দেখাতেই তিনি বললেন, এই ফলটা ওনরা খেয়ে থাকেন। তবে স্বাদে ফলটা একটু তেঁতো। আমি নিজেও মুখে দিয়ে তেমনটাই বুঝতে পারলাম। যাইহোক এরপর সময় হয়ে এলো আমাদের হোমস্টে থেকে বিদায় নেওয়ার। প্রত্যেকের লাগেজ নিচে নেমে গিয়েছিলো। যে ঘরটায় দুটো দিন কাটালাম, অদ্ভুত ভাবে ঘরটার প্রতিও একটা মায়া তৈরি হয়ে গিয়েছিলো।
![]()
|
|---|
তবে সব মায়া কাটিয়ে আবার ঘরে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হলো। ফেরার আগে তাই ঘরে থাকা আয়নার সামনে একটা ছবি তুলে নিলাম। তারপর লাগেজ গাড়িতে তোলা হয়ে গেলে, আমরাও হোমস্টের সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা করলাম গ্যাংটক এর উদ্দেশ্যে। ফেরার পথের গল্প পরবর্তী পোস্টে শেয়ার করবো। আজকের পোস্ট এতোটুকুই।
সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভরাত্রি।
















