"শীতকালীন একটি জনপ্রিয় পিঠের ভিন্ন ধরনের রেসিপি: বিটরুটের মালপোয়া"

in Incredible India4 days ago
IMG-20260118-WA0003.jpg
"বিটরুটের মালপোয়া"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।

আজকাল আমার দিনগুলো খুব বেশি ভালো যাচ্ছে না, কারণটা অন্য কিছু নয় আমার শ্বশুর মশাইয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতিতে বাড়ির সকলে ভীষণ চিন্তিত, পাশাপাশি মানসিক দিক থেকেও একেবারেই বিধ্বস্ত।

নিজের মানুষগুলোকে চোখের সামনে প্রতিদিন লড়াই করতে দেখাটা আসলেই অনেক কঠিন। যাইহোক এই বিষয়টা না হয় আজ থাক। আসলে আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি মালপোয়া তৈরির রেসিপি।

মালপোয়া যদিও খুবই সহজেই তৈরি করা যায়, তবে আজকের মালপোয়ার বিশেষত্ব এটাই যে, এটি বিট দিয়ে তৈরি যার, কারণে মালপোয়ার রঙটা অসাধারণ হয়েছিলো। মূলত কোনোরকম ফুড কালার ব্যবহার না করে, প্রাকৃতিক উপায়ে পরিবর্তিত রঙটাই ছিলো এই মালপোয়ার প্রধান আকর্ষণ।

তবে বলে রাখি এই মালপোয়াটা আমি তৈরি করিনি। আমার মামীর কথা আপনারা আমার অনেক পোস্টেই ইতিপূর্বে পড়েছেন। এই রেসিপিটি আমার মামীর তৈরি। প্রতিটি ধাপের ছবি যেহেতু তোলা হয়েছিলো, তাই ভাবলাম যে আপনাদের সাথে রেসিপিটি শেয়ার করি। তাহলে আপনারাও বাড়িতে এই রকম রঙিন মালপোয়া তৈরি করতে পারবেন।আর বাড়িতে যদি বাচ্চারা থাকে তাহলে তাদের জন্য এটা অনেক আকর্ষণীয় হবে।

"প্রয়োজনীয় উপকরণ"

চলুন এটা তৈরি করতে মামী কি কি উপকরণ ব্যবহার করেছিলো, সেটা‌ আপনাদের জানাই। কিন্তু যেদিন একটি তৈরি হচ্ছিলো সেদিন আমি যখন মামা বাড়িতে পৌঁছেছিলাম, ততক্ষণে মামীর আয়োজন করা প্রায় শেষ। তাই উপকরণ গুলোর আলাদা আলাদা করে ছবি শেয়ার করা সম্ভব হলো না।

নংউপকরণপরিমাণ
১.আঁতপ চালের গুঁড়ো৫০০ গ্ৰাম
২.বীটরুট১ টা (মাঝারি সাইজের)
৩.চিনি২ কাপ
৪.পাতিলেবুঅর্ধেক
৫.দুধ২ প্যাকেট
৬.সাদা তেল২৫০ গ্ৰাম
৭.লবন১ চা চামচ
৮.জলপ্রয়োজন অনুসারে

"বীটরুটের মালপোয়া তৈরির পদ্ধতি"

চলুন এরপর মালপোয়া তৈরীর পদ্ধতি আপনাদের সাথে শেয়ার করি,-

IMG-20260118-WA0009.jpg

IMG-20260118-WA0012.jpg

সবার প্রথমে আঁতপ চালের গুড়োর সঙ্গে বিটরুটের পেস্ট ও দুধ একসাথে মিশিয়ে নিয়ে ব্যাটার তৈরি করতে হবে। আপনারা চাইলে সম্পূর্ণ দুধের বদলে অর্ধেক দুধ ও অর্ধেক জল ব্যবহার করতে পারেন। তবে বলাই বাহুল্য যে সম্পূর্ণ দুধ দিয়ে করলে তার স্বাদ অন্যরকম হবে।

1737775560596.png

IMG-20260118-WA0010.jpg

বীটরুটের পেস্টটা তৈরি করার সময় একেবারে কম জল ব্যবহার করবেন। কারন বেশি জল দিয়ে যদি বিটরুটের‌ পেস্ট করে, সেটা আবার চালের গুঁড়োর সাথে মেশান তখন সম্পূর্ণ ব্যাটারটা অনেক বেশি পাতলা হয়ে যাবে।

1737775560596.png

IMG_20260218_195454.jpg

যাইহোক বিটরুট পেস্ট এমন ভাবে মেশাতে হবে যাতে ব্যাটারের রঙ লাল হয়ে যায়। আপনারা হয়তো আমার শেয়ার করা ছবিটা দেখে বিটরুটের পেস্ট কেমন হবে, তা কিছুটা আন্দাজ করতে পারছেন। মামী এই ভাবেই চামচের সাহায্যে পেস্টটা অল্প অল্প করে ব্যাটারের সাথে মিশিয়ে ছিলো।

1737775560596.png

IMG-20260118-WA0007.jpg

IMG-20260118-WA0006.jpg

আমাদের বাড়িতে মূলত মালপোয়া তৈরি করার সময় আমার শাশুড়ি মা পরিমাণ মতো চিনি এই ব্যাটারের মধ্যে দিয়ে দেন। তবে মামীকে বরাবর দেখেছি মালপোয়া গুলোকে তেলে ভেজে চিনির সিরার মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে।

আমার মামা এই ভাবেই খেতে বেশি পছন্দ করে, তাই মামি বরাবর এইভাবেই তৈরি করে। তাই মালপোয়া ভাজা শুরু করার আগে হাফ কাপ জলের মধ্যে দুইকাপ চিনি দিয়ে মামী ভালোভাবে ফুটিয়ে সিরাটা তৈরি করে নিয়েছিলো। গ্যাস বন্ধ করে দেওয়ার পর সামান্য লেবুর রস দিয়ে দিয়েছিলো, যাতে সিরাটা জমাট বেঁধে না যায়।

1737775560596.png

IMG-20260118-WA0008.jpg

IMG-20260118-WA0014.jpg

এরপর আর কি লাল লাল মালপোয়া ভাজার পালা এলো। কড়াই বসিয়ে তাতে সাদা তেল ভালোভাবে গরম করে, আগে থেকে গুলে রাখা ব্যাটারের মধ্যে থেকে বেশ কিছুটা ব্যাটার একটা ছোট্ট গ্লাসের মধ্যে নিয়ে, মামি কড়াইয়ের ঠিক মাঝখানে অল্প করে ঢেলে দিলো, যাতে সেটা মালপোয়া আকৃতির হয়।

1737775560596.png

IMG-20260118-WA0017.jpg

IMG-20260118-WA0015.jpg

আমরা বাড়িতে যদিও গোল হাতার সাহায্যে মালপোয়া তৈরি করি। তবে মামী দেখলাম ছোট্ট একটা গ্লাসের সাহায্যে তৈরি করেছে। আপনারা দেখতেই পারছেন বেশ সুন্দর ছোট্ট মালপোয়া তৈরি হয়েছে। কিছুক্ষণ পর খুন্তি দিয়ে হালকা নাড়া দিলে মালপোয়াটা নিচ থেকে ছেড়ে তেলের উপরে ভাসছিলো।

1737775560596.png

IMG-20260118-WA0013.jpg

এরপর এপাশ ওপাশ করে মালপোয়াটা সুন্দরভাবে ভাজা হয়ে গেলে, ভালোভাবে তেল ঝরিয়ে নিয়ে আগে থেকে তৈরি করে রাখা চিনির সিরার মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। কিছুক্ষণ সিরার মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে হবে, যাতে মালপোয়ার ভিতরে মিষ্টিটা ভালোভাবে ঢুকতে পারে। তেল থেকে ছেঁকে নিয়ে সরাসরি চিনির সিরায় দেবেন, যাতে তখনও মালপোয়াটা গরম থাকে এবং চিনির রসটা শুষতে পারে।

1737775560596.png

IMG-20260118-WA0005.jpg

IMG-20260118-WA0004.jpg

এই ভাবেই একের পর এক মালপোয়া মামি তৈরি করে নিয়েছিলো। সত্যি বলতে বীট রুট ব্যবহার করার কারণে মালপোয়া গুলোর রং এতো সুন্দর হয়েছিল যে, মালপোয়া খেতে যারা পছন্দ না করে, তারাও একবার টেস্ট করার ইচ্ছা প্রকাশ করবে।

1737775560596.png

সেদিন যদিও ভাত খাওয়ার পর আমি একটাই মালপোয়া খেয়েছিলাম। তবে খেতে বেশ ভালো হয়েছিলো। যদিও মালপোয়া হোক বা যেকোনো পিঠে পুলি গরম অবস্থার থেকেও ঠান্ডা হলে বেশি সুস্বাদু লাগে। যাইহোক এইরকম ভিন্ন ধরনের মালপোয়া, যার রংটা অসাধারণ ছিলো, তার রেসিপি পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।

সকলেই বাড়িতে কমবেশি মালপোয়া তৈরি করেন, তবে এই ধরনের কিছু ঘরোয়া টিপস ব্যবহার করে, কোনো রকম কৃত্রিম ফুড কালার ব্যবহার না করে, প্রাকৃতিক উপায়ে সেটাকে আরও আকর্ষণীয় করাটা আপনাদের জন্য কতখানি আকর্ষণীয় লাগলো, তা মন্তব্যের মাধ্যমে অবশ্যই জানাবেন।

সকলেই খুব ভালো থাকবেন, সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করি। শুভ রাত্রি।

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.29
JST 0.043
BTC 68063.92
ETH 1975.57
USDT 1.00
SBD 0.39