"প্রথমবার হ্যাপি ভ্যালি ওয়াটার পার্কে বান্ধবীদের সাথে কাটানো আনন্দের মুহূর্ত - প্রথম পর্ব"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
আমার দিনটিও মোটামুটি ভালোই কাটলো। তবে আজ আর দিন যাপনের গল্প নয়, আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আমার জীবনের প্রথমবার ওয়াটার পার্কে ঘোরার অভিজ্ঞতা।
যদিও গত বছরের একটা সুন্দর দিনের গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি, তবে ছবিগুলো দেখতে দেখতে যেন মনে হলঝ এই তো কয়েকদিন আগের কথা। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এবং বছরের পর বছর বোধহয় এইরকম ভাবেই কেটে যাচ্ছে আমাদের প্রত্যেকেরই।
সকলের ক্ষেত্রেই বোধহয় খারাপ সময় গুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়।আর ভালো সময় গুলো এতো দ্রুত চলে যায় যে, সেগুলো শত চেষ্টাতেও যেন আমরা ধরে রাখতে পারি না।
যাইহোক গত বছর এপ্রিল মাসের ১৬ তারিখে রাখি ও পিয়ালীর সঙ্গে হ্যাপি ভ্যালি পার্কে যাওয়ার প্রোগ্রাম করেছিলাম। আপনাদের হ্যাপি ভ্যালি পার্কে ঘোরার অভিজ্ঞতা আগেও শেয়ার করেছি, তবে সেটা শুধুমাত্র ড্রাই পার্ক। সেখানকার ওয়াটার পার্কের ঘোরার অভিজ্ঞতা আজ প্রথম আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
অনেকদিন ধরে প্ল্যান করার পরেও ফাইনালি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি আমরা ওয়াটার পার্কে গিয়েছিলাম। সেই সময় বেশ গরম ছিলো, আর ওয়াটার পার্কে গরমকালে যাওয়ার মজাই আলাদা, যাদের ব্যক্তিগতভাবে সেই অভিজ্ঞতা আছে, তারা নিশ্চয়ই আমার সাথে সহমত পোষণ করবেন।
যাইহোক আমার ট্রেন যখন বিড়া স্টেশন পৌঁছালো, তখনও রাখিদের ট্রেন আসতে অনেকটাই দেরি ছিলো। কারণ ওরা আমার উল্টো দিক থেকে আসছিলো। কথা হয়েছিলো বিড়া স্টেশনে নেমে একসঙ্গে দেখা করে, সেখান থেকে পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা করবো। তবে যেহেতু আমি আগে পৌঁছেছিলাম, তাই বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম ওদের জন্য।
একটু বাদে ওদের ট্রেন ঢুকলো। তারপর ওদের সঙ্গে দেখা করে বিড়া স্টেশন থেকে আমরা টোটো ঠিক করলাম পার্কে যাওয়ার জন্য। যাওয়ার সময় অনলাইনেও আমরা টিকিট কেটে নিয়েছিলাম, কারণ তাতে প্রতি টিকিটে আমাদের ৫০ টাকা কম পরেছিলো।
টিকিট কাটার পর আমাদের কাছে যে ওটিপি এসেছিলো, পার্কে পৌঁছে টিকিট কাউন্টারে সেটা দেখানোর পর, আমাদের তিনজনকে তিনটে ব্যান্ড দিয়ে দিলো, যেটা নিয়ে আমরা পার্কে প্রবেশ করলাম।
ওয়াটার পার্কে যাওয়ার সময় এই বুদ্ধমূর্তিটি আমরা সেদিনও দেখেছিলাম, কয়েকদিন আগে যখন দাদাদের সাথে পার্কে গিয়েছিলাম। তখনকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার সময় এই বুদ্ধমূর্তিটি সম্পর্কে আপনাদের জানিয়েছিলাম, যারা আমার তখনকার পোস্ট পড়েছেন, হয়তো তাদের মনে থাকবে।
যাইহোক সেখান থেকে আমরা প্রবেশ করলাম ওয়াটার পার্কে। প্রথমেই আমাদের ব্যাগ ভালো করে চেক করে নেওয়া হলো। কোনোরকম পানীয় নিয়ে পার্কের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয় না। জলের বোতল নিয়ে গেলেও সেটা পরীক্ষা করে তারপর আপনাকে ভেতরে ঢুকতে দেবে। আমরা অবশ্য একটা জলের বোতল বাইরে থেকে কিনে নিয়েই ঢুকেছিলাম।
প্রথমে ঢুকেই পার্কটা দেখে বেশ ভালো লাগলো। বাচ্চাদের সেকশনটা আলাদা করা আছে এবং বড়দের আলাদা আলাদা বেশ অনেকগুলো রাইড রয়েছে। যদিও এই সমস্ত কিছুতে চড়তে আমার বেশ ভয় লাগে, তবে পিয়ালী এবং রাখি জোর করাতে আমি যেতে রাজি হয়েছিলাম। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যদি ভাবি, তাহলে সেদিন না গেলে হয়তো সত্যিই মিস করতাম।
|
|---|
যাইহোক পার্কে ঢুকেই প্রথমে আমরা কিছু ছবি তুলে নিলাম। তারপর পার্কের সম্পূর্ণ এড়িয়াটা ঘুরে দেখলাম। যাতে করে আমরা বুঝতে পারি যে, কোথায় কোথায় সময় কাটালে সবথেকে বেশি এনজয় করা যাবে। সেদিন মানুষের ভিড় একেবারে কম ছিল না। আমরা একটু সকাল সকাল গিয়েছিলাম ঠিকই, তবে যত বেলা বেড়েছে পরবর্তীতে ভিড় আরও অনেক বেশি হয়েছিলো।
![]()
|
|---|
যাইহোক সম্পূর্ণ জায়গাটা ভালোভাবে দেখে তারপর পৌঁছে গেলাম চেঞ্জিং রুমে। ছেলেদের এবং মেয়েদের আলাদা করে করা রুম করা আছে। পোশাকের ক্ষেত্রে এই পার্কে বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে, যেগুলো আপনাকে পালন করতেই হবে। আমার বিশ্বাস এমনটা বোধহয় সব পার্কেই থাকে।
|
|---|
যাইহোক সেখানে জামা আলাদা কিনতে পাওয়া যাচ্ছে, চাইলে আপনারা ভাড়াও করে নিতে পারেন। তবে আমরা কেউই জামা কিনিনি। রাখি এবং পিয়ালী ওদের সাথে সাথে আমার জন্যও ড্রেস নিয়ে এসেছিলো। তাই আমাকে আর আলাদা করে ড্রেস নিতে হয়নি।
|
|---|
চেঞ্জিং রুমেও বেশ মানুষের ভিড় ছিলো। চেঞ্জ করার পরে আমরা চলে গিয়েছিলাম লকার রুমে। কারণ আমাদের ব্যাগগুলো একটা লকারের মধ্যে রাখার জন্য আলাদা টিকিট কেটে নিয়েছিলাম। ওরা একটা চাবি দিয়েছিলো, সেটা নিয়ে গিয়ে ব্যাগগুলো রেখে তারপর চলে গেলাম জলের দিকে।যেখানে বেশ কিছুক্ষণ বসে সময় কাটালাম।
এরপর শুরু হলো পিয়ালীর র পাগলামি। ওর কথা ছিলো যেহেতু এতো দাম দিয়ে টিকিট কেটেছি, তাই পার্কের ভিতরে যতগুলো রাইড আছে সবগুলো ও চড়বে। কিন্তু জলে আমার আবার বড্ড বেশি ভয় লাগে। তাই আমি ওকে বলেছিলাম বড় বড় রাইড গুলো আমি চড়বো না। কিন্তু ও একেবারেই কোনো কথা শুনতে রাজি হয়নি। ওর একটাই কথা, তিনজন একসাথে এসেছি, তাই সব কটা রাইডে সবাইকে একবার করে অন্তত চড়তেই হবে।
ওর কথা মতো প্রথম রাইডে গেলাম। সব থেকে কষ্টকর বিষয় ছিলো সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠা। নামার সময় প্রথমবার সত্যিই আমার ভয় করছিলো, কারণ এতোটা উঁচু থেকে নিচের দিকে এসে যখন জলের মধ্যে পড়ছিলাম, ওই মুহূর্তটায় প্রথমবার বেশ ভয় লেগেছে আমার। কিন্তু পরের দুবার বেশ মজাই লেগেছে।
তবে সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার কষ্ট বড্ড বেশি। যাইহোক সেখান থেকে আমরা এক করে পরবর্তী সব রাইটগুলো এনজয় করেছিলাম। যার অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে পরবর্তী পোস্টে শেয়ার করবো। কারণ একটা পোস্টে শেয়ার করতে গেলে সেটা বেশ বড় হয়ে যাবে।
|
|---|
তাই আজকের পোস্টে ওয়াটার পার্কের ঘোরার অভিজ্ঞতা এই পর্যন্তই থাক। আপনাদের প্রথম বার ওয়াটার পার্কে ঘুরতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো, তা মন্তব্যের মাধ্যমে অবশ্যই জানাবেন।
সকলে খুব ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভ রাত্রি।

























Thank you for your support 🙏.