প্রথমবার গ্যাংটকের প্রাণকেন্দ্র "এম জি মার্গ" ঘুরে দেখার অনুভূতি

in Incredible India4 days ago (edited)
IMG_20260508_183955.jpg
" 'মনন কেন্দ্র' নামক বিল্ডিং ‌টা ভারতীয় পতাকার রঙের আদলে লাইটিং করা আছে, সামনে থেকে দেখতে অপূর্ব লাগছিলো"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে। গতকাল পাহাড় থেকে ঘুরে বাড়িতে এসেছি, তাই আজ বেশ কিছু কাজ সারতে গিয়ে সারাদিন একটু ব্যস্ততার মধ্যেই কেটেছে।

যাইহোক আজকে থেকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি আমার সিকিম ঘোরার অভিজ্ঞতা। ইতিপূর্বেই আমি আপনাদের সাথে "গ্যাংটকে হোটেল নিউ কাভেরীতে থাকার অভিজ্ঞতা" কিছুটা শেয়ার করেছি। আজ তার পরবর্তী পর্ব‌ উপস্থাপন করতে চলেছি।

IMG_20260508_135044.jpg

IMG_20260508_135450.jpg

IMG_20260508_135336.jpg

IMG_20260508_135320.jpg

সেদিন লাঞ্চ শেষ করার পরে হোটেলের বাইরে বেরিয়ে আমরা কিছুক্ষণ আশেপাশে ঘুরে দেখছিলাম। হোটেল থেকে মিনিট খানেকের দূরত্বে এমন সুন্দর একটা জায়গা রয়েছে, যেখান থেকে সামনের পাহাড় ভীষণ সুন্দর দেখা যায়। সেখান থেকে একটা রাস্তা চলে গেছে মলরোডের দিকে, আর আরও একটা রাস্তা নেমে গেছে নিচের দিকে। যেখানে বেশ কিছু স্থানীয় বাসিন্দারা থাকেন বলেই মনে হলো।

IMG_20260508_140215.jpg

IMG_20260508_140722.jpg

সেই দিকটাতেই হাঁটতে হাঁটতে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেলাম। রাস্তাটা এঁকেবেঁকে কেমন যেন নিচের দিকেই নেমেছে। তাই বেশ খানিকটা নামার পর আর বেশি দূরে নামিনি। কারণ পাহাড়ের দিকে নিচে নামাটা যতটা সহজ, অপরের দিকে ওঠাটা ততটাই কঠিন। সেইখানে দাঁড়িয়েই খুব সুন্দর পরিবেশে কয়েকটি ছবি তুললাম আমরা। তারপর আবার ফিরে এলাম আমাদের হোটেলে।

IMG_20260508_183643.jpg

IMG_20260508_182536.jpg

তখনই ঠিক হলো‌বেশ খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যার দিকে আমরা সবাই এম জি রোডে যাবো। যেটা এক কথায় গ্যাংটকের মলরোড নামেই পরিচিত। এমনই একটা মলরোড দার্জিলিং এও রয়েছে। তবে দুটি সৌন্দর্য্য একেবারেই ভিন্ন। ইতিপূর্বে এই মলরোডের বহু ভিডিও ফোনে দেখে নিয়েছিলাম। তাই মলরোড দেখতে যাওয়ার জন্য একটা আলাদা রকমের উত্তেজনা কাজ করছিলো‌ আমাদের সকলের মধ্যেই।

সন্ধ্যাবেলায় বাইরের দিকে বেশ ভালোই ঠান্ডা ছিলো। তাই সকলেই নিজেদের মতো করে ধীরে ধীরে তৈরি হয়ে নিলাম। বেড়োনোর আগে হোটেল থেকেই আমাদেরকে চা দিয়েছিলো। সকলে চা খেয়ে রওনা করলাম মলরোডের উদ্দেশ্যে। হোটেল থেকে জেনে নিয়েছিলাম হাঁটা পথে মাত্র দশ মিনিটের রাস্তা। তাই সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম পায়ে হেঁটেই যাবো। অবশ্য মলরোডে যাওয়ার জন্য এবং সেখান থেকে ফেরার জন্য গ্যাংটকে প্রচুর শেয়ার ট্যাক্সি রয়েছে। তাই যারা হেঁটে যেতে ইচ্ছুক নন, তারা চাইলে কিন্তু ট্যাক্সি নিয়েই যেতে পারেন।

IMG_20260508_180139.jpg

IMG_20260508_183310.jpg

রাস্তার একেবারে পাশ দিয়েই সুন্দর রাস্তা তৈরি করা আছে, সেই রাস্তা ধরে হেঁটে যেতে যেতে দূর থেকে পাহাড়ের আলোগুলোও দেখতে বেশ ভালো লাগছিলো। যেন মনে হচ্ছিলো অসংখ্য জোনাকি জ্বলে রয়েছে দূরে। আমরাও আশেপাশের প্রকৃতি উপভোগ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। একটা জায়গায় গিয়ে চোখে পড়লো ভারতীয় পতাকা দিয়ে সুন্দর ভাবে সাজানো একটা জায়গা। চলতি পথে দাঁড়িয়ে সকলেই সেখানে একটা ছবি তুলে নিলাম।

IMG_20260508_183955.jpg

IMG_20260508_211325.jpg

আরও কিছুদূর এগিয়ে একটা "মনন কেন্দ্র" নামক একটা বিল্ডিং চোখে পড়ল যেটা ভারতীয় পতাকার রং এর আদলে লাইটিং করা আছে। যা দেখতে অপূর্ব সুন্দর লাগছিলো। লাইটগুলো একটা সময় পুরো বিল্ডিংটাকে অন্ধকার করে দিচ্ছে, আবার ধীরে ধীরে একই রকম ভাবে জ্বলে উঠছে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আমরা সে দৃশ্য উপভোগ করার পাশাপাশি, বিল্ডিং এর ছবিও ক্যামেরা বন্দি করলাম, যাতে আপনাদের সাথেও শেয়ার করতে পারি।

IMG_20260508_184427.jpg

IMG_20260508_205335.jpg

খানিকটা দূরে এগিয়ে চোখে পড়লো একটা গির্জা, যেটা খুব সুন্দর ভাবে সাজানো ছিলো। এই সমস্ত কিছু দেখতে দেখতেই পৌঁছে গেলাম গ্যাংটকের প্রাণ‌‌ কেন্দ্র এমজি মার্গে (MG Marg)। যার প্রচুর ফটো, ভিডিও এতোদিন পর্যন্ত ফোনের স্ক্রিনে দেখেছি, সেটাই তখন আমাদের চোখের সামনে ছিলো। বিষয়টা কেমন যেন একটু অবিশ্বাস্যই লাগছিলো।

বিখ্যাত এই এম জি মার্গে কোনো গাড়ির চলাচল নেই, পায়ে হেঁটেই প্রচুর মানুষ প্রতিদিন উপভোগ করে এই সম্পূর্ণ জায়গাটা। যেখানে প্রচুর পরিমাণে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, দোকান রয়েছে। যেখান থেকে আপনি চাইলে মনের মতো করে শপিংও করতে পারেন, সেখানকার হোটেলে থাকতেও পারেন, এবং সেখানকার রেস্টুরেন্টে অথেনটিক খাবারের ট্রাইও করতে পারেন।

IMG_20260508_185559.jpg

IMG_20260508_205148.jpg

এই এম জি মার্গে সব থেকে বিখ্যাত হোটেল হল "দ্যা ড্রাগন ওক্*। এখানে লাইভ মিউজিকেরও ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা প্রথম যেদিন এখানে গিয়েছিলাম বাইরে থেকেই সেখানকার লাইভ মিউজিক শোনা যাচ্ছিলো। বাংলা, হিন্দি সমস্ত ধরনের গান গাইছিলো।

তবে বাইরে থেকে রেস্টুরেন্টটা দেখে খুবই এক্সপেন্সিভ মনে হয়েছে। তবে সত্যি কথা বলতে এমন রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাওয়া বা লাইভ মিউজিক উপভোগ করার মতন বাজেট আমাদের ছিলো না। তাই দূর থেকেই রেস্টুরেন্টটা দেখে আমরা আমাদের মতন সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলাম।

IMG_20260515_234230.jpg

IMG_20260508_191033.jpg

এম জি মার্গের শুরুতেই রয়েছে মহাত্মা গান্ধীর একটি মূর্তি এবং সেই রাস্তার শেষের দিকে রয়েছে বিড়ালের একটা মূর্তি, যা এই রাস্তাটিকে অন্যান্য অনেক রাস্তা থেকে পৃথক করে, কিংবা বলা ভালো এটি এম‌ জি মার্গের এক বিশেষত্ব। যেগুলো দেখার জন্য বহু মানুষ প্রতিদিন ভিড় জমায় এই গ্যাংটকের রাস্তায়। সম্পূর্ণ রাস্তা জুড়ে এতো মানুষের ভিড়, এত মানুষ নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে ব্যস্ত যে, সেখানে যেন কোনো কিছু থেমে থাকে না।

IMG_20260508_204109.jpg

IMG_20260508_204212.jpg

IMG_20260508_205148.jpg

IMG_20260508_190850.jpg

IMG_20260508_185941.jpg

IMG_20260508_205051.jpg

এই ব্যস্ততার মাঝেও আমরা সকলেই নিজেদের মতো করে সময় কাটালাম। কিছু ছবি তুললাম, যাতে সেগুলো আমরা স্মৃতি করে নিজেদের কাছে রেখে দিতে পারি। সত্যি কথা বলতে প্রত্যেকে অনেক ছবি তুলেছি, তবে পোস্টের মধ্যে সমস্ত ছবি শেয়ার করা সম্ভব নয় বলে কিছু কিছু ছবি আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। যাতে আপনারাও সেই জায়গার সৌন্দর্য্য এবং সেখানকার পরিবেশ অন্তত কিছুটা হলেও উপভোগ করতে পারেন।

IMG_20260508_205339.jpg

IMG_20260508_205437.jpg

কেনাকাটার জন্য সেদিন খুব বেশি সময় আমরা ব্যয় করিনি। কারণ নর্থ সিকিম থেকে ঘুরে এসে আরও একদিন এই এম‌জি মার্গে ঘোরার প্ল্যান ছিলো আমাদের। তাই সেদিন টুকটাক কয়েকটা জিনিস কিনে নিয়ে আমরা আবার হোটেলের পথে রওনা করেছিলাম। ফেরার সময় রাস্তা ভুল করেছিলাম। পরে সেখানকার একজন পুলিশের সাথে কথা বলায়, তিনি আমাদের সঠিক রাস্তা বলে দিলে, আমরা আবার সেই পথ ধরেই হোটেলের দিকে রওনা করলাম।

IMG_20260508_221054.jpg

IMG_20260508_221106.jpg

এরপর রুমে গিয়ে কিছুটা ফ্রেশ হয়ে তারপর খেতে চলে গেলাম। হোটেলের ডাইনিং রুমটা আমি আপনাদের সাথে আগের পোস্টেই শেয়ার করেছি। এই দিন রাতে ডিনারের মেনু ছিল দুটো রুটি, ভাত, সালাড, ডাল বাঁধাকপির তরকারী, চিকেন এবং পাঁপড়। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সকলেই হোটেল রুমে ফিরে, নিজেদের লাগেজ গুছিয়ে নিলাম।

IMG_20260508_222826.jpg

কারণ পরদিন সকাল সাতটায় আমাদের হোটেল ছেড়ে নর্থ সিকিমের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিলো। যেখানে যেতে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগবে বলেই আমাদের ড্রাইভার দাদা আগের দিন জানিয়েছিলো। তাই সেই মতো চেষ্টা করেছিলাম রাতের দিকে প্রায় সমস্ত লাগেজ গুছিয়ে রাখতে, যাতে পরদিন সকালে উঠে খুব বেশি দেরি না হয়। গ্যাংটকে এভাবেই কেটেছিল আমাদের প্রথম রাতটা।

আমি আমার মত করে সমস্ত জার্নিটা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি ঠিকই, তবে লেখার মাধ্যমে ও ছবির মাধ্যমে আসলেই সকল সৌন্দর্য্য উপস্থাপন করা সম্ভব নয়। তবে আশাকরছি আপনারা আমার পোস্ট পড়ে এইটুকু বুঝতে পারবেন, ঠিক কিভাবে আমাদের জার্নিটা শুরু হয়েছিল এবং সম্পূর্ণ ট্রিপটা কিভাবে আমরা এনজয় করেছিলাম।

যাইহোক আজকের মতো পোস্টটা এখানেই শেষ করছি। নর্থ সিকিম যাওয়ার অভিজ্ঞতা পরের পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।

Sort:  


image.png
Curated by: @ahsansharif

 yesterday 

Thank you for your support 🙏.

Loading...

Curated By : @ memamun


 yesterday 

Thank you for your support 🙏.