Better life with steem//The Diary Game// 20th June, 2026"// জামাইষষ্ঠীর সারাদিন
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আজ জামাই ষষ্ঠী। প্রায় প্রত্যেক বাঙালির কাছেই আজ একটা বিশেষ দিন। প্রায় প্রত্যেকের ঘরেই আজ জামাইদের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে যাদের নতুন বিয়ে হয়েছে তাদের জন্য এই দিনটির গুরুত্ব আরও একটু বেশি।
যাইহোক আজকের দিনটি কিভাবে কেটেছে সেটাই আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। যদিও জামাইষষ্ঠী নিয়ে তেমন কোনো আয়োজন আমাদের বাড়িতে এ বছর হয়নি। আমার বাপের বাড়িতে জামাইষষ্ঠীর কোনো নিয়ম নেই। তবে আমার শাশুড়ি মাকে দেখেছি আমার ননদ এবং তার হাজবেন্ডকে প্রতিবার নিমন্ত্রণ করেন, আশীর্বাদ করেন এবং সকলে মিলে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
বিয়ের পর প্রথম কয়েক বছর আমি এবং শুভ আমার মামা বাড়িতে গিয়েছি। যেহেতু আমার মা বেঁচে নেই, তাই বাপের বাড়িতে তেমনভাবে জামাই আদর শুভ পায়নি। তবে আমার মামী ওকে এতো আদর করে যে, নিশ্চয়ই সেই অভাব শুরুর দিকে শুভ কখনো বুঝতে পারেনি।
যাইহোক এই বছর মামি যেতে বলেছিলো, কিন্তু যেহেতু শ্বশুরমশাই মারা গেছেন তাই আমাদের এক বছর পর্যন্ত অশৌচ থাকবে, তাই এইরকম কোনো শুভ অনুষ্ঠানে আমাদের যাওয়া মানা আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনটা বিশ্বাস করি বা না করি, তার উপরে নির্ভর করে সমাজ বা পরিবার চলে না। তাই যেটা সকলের মিলিত সিদ্ধান্ত, সেটা মেনে নিতেই হয়।
|
|---|
আজ শনিবার। শুভর অফিস ছিলো, তাই অন্যান্য দিনের মতো আজও সময় মতো উঠে পড়লাম। তবে আজ ঘুম থেকে উঠে বাইরের আবহাওয়া দেখে গতকালের আবহাওয়াটা খুব মিস করছিলাম। অমন বৃষ্টি ভেজা সকাল দেখতে গতকাল বেশ ভালো লেগেছিলো। তবে আজ ছিলো এক রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া।
![]()
|
|---|
ফ্রেশ হওয়ার পর ছাদে গিয়ে দেখলাম আজ টাইম ফুলগুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটেছে রৌদ্র উঠার কারনে। গতকাল একটা কুড়িও ফোটার সুযোগ পায়নি অনবরত বৃষ্টির কারণে। যাইহোক ঠাকুরের শয়ন তুলে, পুজোর ফুল তুলে, তারপর নিচে এলাম।
যথারীতি রান্নাবান্না শুরু করলাম। রান্না করতে গিয়েই দেখলাম বেশ কিছু জিনিসের প্রয়োজন। আসলে গত দুদিন ধরেই বাজার আনার কথা ভাবছি, তবে তা আর হয়ে উঠছে না।
![]()
|
|---|
যাইহোক ব্রেকফাস্ট এর পর্ব সেরে, শুভ অফিসে চলে যাওয়ার পরে, আমি কমিউনিটির কাজ শেষ করলাম। তারপর বেশ কিছু জামা কাপড় আয়রন করে নিলাম। সেগুলো সেরে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম অনেকটাই বেলা হয়ে গেছে। তাই তাড়াতাড়ি বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করলাম।
|
|---|
![]()
|
|---|
দুপুরবেলায় স্নান সেরে, পূজো দিয়ে আসার পর বেশ কষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। কারণ আজ রোদ্দুরের বেশ তাপ ছিলো। পুজো দিয়ে এসে আমার আর একা কিছুতেই খেতে ইচ্ছা করছিলো না। ফ্রিজের মধ্যে কেক রাখা ছিলো, তাই তিন টুকরো কেক বের করে নিয়ে টিভি চালিয়ে বসে পড়লাম।
![]()
|
|---|
আজকে দুপুরের লাঞ্চে আমি শুধু এই তিন টুকরো কেক আর জলে খেয়েছি। আমি জানি আমার এই অভ্যাসটা একেবারেই ঠিক নয়, কিন্তু কি করবো একা যেন কিছুতেই খেতে ইচ্ছা করে না। আজ যেহেতু শনিবার ছিলো, শুভ একটু তাড়াতাড়িই ফিরে ছিলো।
![]()
|
|---|
আর আসার সময় ও মিও আমোরের থেকে পেস্ট্রি নিয়ে এসেছিলো। আমার বেশ খিদেও পেয়েছিলো ততক্ষণে, তাই আমি আর দেরি না করে পেস্ট্রিটাই খেয়ে নিয়েছিলাম। যাইহোক এরপর ও কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলো এবং সিদ্ধান্ত হলো সন্ধ্যার পরে বাজারে যাওয়ার।
|
|---|
![]()
|
|---|
সন্ধ্যা পুজো দেওয়া হয়ে গেলে বাজারে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নিলাম। না আমার আলাদা করে বাজারে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো না। তবে যেহেতু আজ জামাই ষষ্ঠী ছিলো, তাই শুভ ভেবেছিল বাজারে অনেক ভিড় হবে। যেহেতু আমাদের একটু চিকেন আনার দরকার ছিলো, তার পাশাপাশি বেশ কিছু সবজি ও মুদি খানার দোকান থেকেও কিছু জিনিস আনার ছিলো।
তাই শুভ বলল একসঙ্গে দুজন মিলে গেলে ভালো হবে। দুজন দুদিকে কেনাকাটা করলে তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। বাজারে গিয়ে দেখলাম সত্যিই মানুষের ভিড় একেবারে উপচে পড়েছে। কিছুক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর পর আমি চিকেনটা কিনে নিলাম।
![]()
|
|---|
বাকি সবজি এবং মুদিখানার বাজার শুভই সেরে নিয়েছিলো ততক্ষণে। তারপর দুজনে মিলেই বাড়ি ফিরলাম। ফেরার পথে একটু ভেজিটেবল চপ কিনে এনেছিলাম খাওয়ার জন্য।
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
বাড়িতে ফিরে ফ্রেশ হয়ে প্রথমে সব সবজিগুলো গুছিয়ে নিয়েছিলাম। আগামীকালকের জন্য যে চিকেন এনেছি সেটা ফ্রিজে রেখে দিয়ে, বাকি বোনলেস চিকেন গুলো বাইরে রাখলাম। কারণ রাতে খাওয়ার জন্য চিলি চিকেন রান্না করবো এমনটাই ভেবেছিলাম। তাই মাংসগুলো ম্যারিনেট করার পর একটু বিশ্রাম নিয়ে নিলাম।
শুভ ততক্ষণে রাজাদের বাড়িতে একবার ঘুরে এলো।আগামীকাল রাজাদের বাড়িতে ঘাট কাজ রয়েছে, সেই সংক্রান্ত কিছু বাজারও বোধহয় আনতে হতো। তাই শুভ ভেবেছিল যদি প্রয়োজন হয় তাহলে রাজাকে নিয়ে ও আরও একবার বাজারে যাবে।
![]()
|
|---|
তবে রাজার কাকা সেই কাজটা করে দেওয়ায় তার আর প্রয়োজন পড়েনি। তাই কিছুক্ষণ রাজার সাথে সময় কাটিয়ে শুভ বাড়িতে ফিরলো। তারপর দুজনে মিলে ডিনার সম্পন্ন করলাম, রুটি আর চিলি চিকেন দিয়ে।
যথারীতি এরপর শুভ নিজের মত উপরে গিয়ে সময় কাটাতে বসলো, আর আমিও ঘরের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে পোস্ট লিখতে বসলাম। আগামীকাল থেকে কাজের চাপ আরও বাড়বে, যেহেতু আমাদের কাজের মাসি আগামী দু দিন ছুটি নিয়েছেন। তার বাড়িতে জামাইষষ্ঠীর আয়োজন রয়েছে তাই।
অন্যান্য বার এই দিনে আমাদের বাড়িতেও ছোটখাটো আয়োজন হয়ে থাকে। তবে এবার তার কিছুই হয়নি। প্রথমত শাশুড়ি মা বাড়িতে নেই, আর দ্বিতীয়ত শ্বশুর মশাইয়ের মৃত্যুর কারণে আমার ননদ এবং ননদের হাজব্যন্ড কাউকেই এবার বাড়িতে ডাকা হয়নি। তাই অন্যান্য বছর দিনটি একটু অন্যরকম ভাবে কাটলেও আজকের দিনটা আর পাঁচটা দিনের মতনই কাটলো।
তবে হ্যাঁ এই জামাইষষ্ঠীর দিনে বাজার করার অভিজ্ঞতাটা একটু অন্যরকমই ছিলো। আশাকরি আপনাদের সকলের দিনটাও আজ খুব ভালো এবং আনন্দে কেটেছে আগামী দিনগুলো এমনই সুন্দর কাটুক, সেই প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি।
সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।













