Incredible India Monthly Contest of February #2:Which one is more challenging?
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।
আজ আমি এই পোস্টের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে চলেছি আমাদের কমিউনিটিকে আয়োজিত কনটেস্টে, যার বিষয়বস্তু বোধহয় আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কারণ সফলতা এমন একটা বিষয় যেটা শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত তা আমি বিশ্বাস করি না। ব্যক্তিগত জীবনেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে সফলতার অনুভূতি যুক্ত থাকে। তাই সেদিক থেকে দেখতে গেলে শুধু কর্মজীবী মানুষের ক্ষেত্রেই নয়, বরং যারা তথাকথিতভাবে কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়, তাদের জীবনেও সফলতার পরিভাষার ভিন্নতা রয়েছে। আজ আমি সফলতা সম্পর্কে নিজস্ব মতামত আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি,-
|
|---|
"সফলতা" শব্দটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। পাশাপাশি এটাও আমরা জানি যে সফলতা অর্জন করতে গেলে কর্ম করে যাওয়া সবথেকে বেশি জরুরী। কারণ কর্ম না করে যে কোনো বিষয়ে যদি আমরা সফলতার প্রত্যাশা করি, তাহলে সেটা শুধুমাত্র স্বপ্নই থেকে যায়।
তবে কর্ম করার ক্ষেত্রে কিন্তু আমাদের সকলের সামনে দুটি পথ থাকে। একটি পথ যেখানে সততার সাথে কর্ম করে যাওয়া যায়, যেটা তুলনামূলকভাবে বেশ কঠিন হয়। আর অন্যটি অসৎ পথ। যদিও অসৎ পথে চলাটা খুব মসৃণ হয় এবং খুব কম সময়ে সফলতা অর্জিত হয়। তবে কঠিন পথে অতিক্রম করে যে সফলতা পাওয়া যায়, তাই দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি আপনাকে আত্মতৃপ্তি দেবে।
আর অসৎ পথে উপার্জিত সফলতা দীর্ঘস্থায়ী হলেও, তার পরিণতি সব সময় খারাপ হবে এবং তার ফলে আপনাকে আত্মগ্লানি নিয়ে বাঁচতে হবে। সফলতা অর্জন করার পরেও মানসিক শান্তি অর্জন করার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হবে নিজের সাথে।
কঠিন পথে চলতে গিয়ে আমরা যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই, যে খারাপ লাগা গুলো মনের ভিতরে কাজ করে, সেগুলো আমাদের কাছের মানুষের সাথে খুব সহজেই আমরা শেয়ার করতে পারি। কিন্তু অসৎ পথ অবলম্বন করে সেখান থেকে প্রাপ্য সফলতার আনন্দও আপন মানুষের সাথে শেয়ার করা যায় না। আমার মনে হয় সেক্ষেত্রে নিজের বিবেকের প্রশ্নের উত্তর দিতেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই মানুষগুলি অক্ষম হয়ে থাকেন। তাই সফলতার আনন্দ হোক, কিংবা পথ চলার ক্লান্তি, কোনোটাই কারো সাথে শেয়ার করা হয়ে ওঠে না।
ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় সফলতা অর্জন করা অনেক সহজ, কিন্তু সেটাকে টিকিয়ে রাখার সবথেকে কঠিন। এই বিষয়ে এই মুহূর্তে আমি আমাদের অ্যাডমিন ম্যামের বলা একটা কথা উল্লেখ করতে চাই। ম্যাম প্রায়শই একটা উদাহরণ দেন,- "একটা ক্লাসে একবার প্রথম হওয়া বড় কোনো বিষয় নয়, কিন্তু প্রতিটা ক্লাসেই সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।" তাই যে কোনো ক্ষেত্রে একবার সফলতা অর্জন করাটা যতটা কঠিন, তার থেকেও বেশি কঠিন সেই সফলতাকে দীর্ঘমেয়াদি করে তোলা।
তাই সফলতা পাওয়ার থেকেও আমার কাছে সৎ পথে থেকে, কাজ করে যাওয়ার লড়াইটাই বেশি কঠিন মনে হয়। এই মুহূর্তে গৃহবধূ হওয়ার পাশাপাশি আমি শুধুমাত্র স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে কাজ করছি। তবে শুরুতে যখন আমি এই প্লাটফর্মে যুক্ত হয়েছিলাম, তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত বেশ কিছু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি।
এই মুহূর্তেও যে এই প্ল্যাটফর্মে কোনো অসৎ কাজ দেখি না তা নয়, বরং অসৎ পথ অবলম্বন করে চলা মানুষগুলোর মধ্যেও অনেকেই এই মুহূর্তে সফলতার শীর্ষে আছেন। তবে এ বিষয়ে আমি শতভাগ নিশ্চিত যে, ব্যক্তিগত জীবনে হোক বা মানসিক দিক থেকে হোক, সেই প্রশান্তি তাদের মধ্যে নেই, যে প্রশান্তি নিয়ে আমার মতো সৎ পথে চলা মানুষগুলো দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছে।
হ্যাঁ সফলতা এখনও হয়তো অনেক দূরে, অনেকটা পিছিয়ে রয়েছি আমি, কিন্তু তবুও মানসিক শান্তি হোক কিংবা নিজের মনের কাছে পরিষ্কার থাকা, কোনোটারই অভাব নেই। তাই সফলতা আমার কাছে সর্বোচ্চ বিষয় নয়। বরং সৎ পথে কাজ করে, সফলতা অর্জনের দিকে এগিয়ে চলার চেষ্টাটাই সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
|
|---|
![]()
|
|---|
এই প্রশ্নটার উত্তর লিখতে গিয়ে নিজের ছোটোবেলার সাথে আজকালকার যুগের বাচ্চাদের ছোটবেলার পার্থক্য কেমন যেন চোখের সামনে ভেসে উঠলো। কারণ আমরা আমাদের ছোটবেলায় নিজের পছন্দের জিনিসগুলোকে উপভোগ করার যতটা সুযোগ পেতাম, আজকালকার যুগের বাচ্চারা সেটা পায় না। কারণ আজকাল সব বাচ্চারাই প্রতিযোগিতায় সামিল।
শুধু বাচ্চাদের কথা বললে ভুল হবে। কিছু ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা নিজের বাচ্চাদেরকে ঠেলে দেন সেই প্রতিযোগিতার ভিড়ে। বাচ্চাদের পছন্দ অপছন্দ এই বিষয়টা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং নিজেদের ভালোলাগা তারা বাচ্চাদের উপরে চাপিয়ে দিয়ে থাকেন। ফলতো বেশিরভাগ বাচ্চা বুঝতেই পারেনা কোন বিষয়টা তার কাছে অনেক বেশি উপভোগ্য।
একেবারে ছোটো থেকেই তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হবে, ভালো চাকরি পেতেই হবে, এই স্কুলে চান্স পেতে হবে, ওই কলেজে পড়তে হবে, এই বিভিন্ন বিষয়ের চাপে পরে বাচ্চাদের শৈশবটা কেমন যেন হঠাৎ করে পার হয়ে যায়।
পড়াশোনা তো রয়েছেই, তার পাশাপাশি ছবি আঁকা, গান গাওয়া, ক্যারাটে, নাচ, কম্পিউটার ক্লাস, ফুটবল, ক্রিকেট আরো কি কি সব বিষয়ে বাচ্চাকে পারদর্শী করে তুলতে হবে সেই ভাবনাই চলে অভিভাবকদের মধ্যে। এইসব কিছুর মধ্যে দিয়ে বাচ্চাদের শৈশব পার হয়ে যায় এবং একটা সময় তারা বুঝে যায় নিজের ভালোলাগা গুলোকে আর উপভোগ করার সুযোগ হলো না, তখন শুধু আফসোসটাই থেকে যায়।
তাই আমার মনে হয় একদম ছোটবেলায় বাচ্চাদেরকে অন্তত কিছু বছর নিজেদের পছন্দের বিষয়গুলোকে উপভোগ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। সফলতা অর্জন করার পথ অনেক লম্বা, তাই কিছুটা সময় যদি নিজেদের শৈশবের ভালো লাগা গুলো উপভোগ করে, তাতে সফলতার পথে কোনো বাধা আসবে না বলেই আমার বিশ্বাস।
একটা বয়সের পর যখন ওরা বুঝতে শিখবে সফলতা অর্জন করতে গেলে কোন কোন বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে, কিংবা কোন বিষয়টা নিয়ে সামনে এগোলে সফলতা সহজেই ধরা দেবে, তখন তারা সেই দিকেই এগিয়ে যাবে। তাই বাচ্চাদের উপভোগ্য বিষয়গুলো তাদের নির্বাচন করার স্বাধীনতা দেওয়ার বিষয়টি, অভিভাবকদেরও বোঝা উচিত বলে আমার মনে হয়।
|
|---|
![]()
|
|---|
প্রথমেই আমি বলেছি যে সফলতা শব্দটি আমাদের প্রত্যেকের জীবনের সাথে জড়িত। জীবন যাপনের জন্য অর্থ একটা অপরিহার্য জিনিস, যেটা ছাড়া জীবন যাপন করা অসম্ভব। আর এই অর্থ উপার্জন করার জন্য আমরা সকলেই কমবেশি বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকি। গৃহিণীরা যেমন সংসারের সমস্ত কার্যাবলী সম্পন্ন করেন, ঠিক তেমনি ছেলেরা বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে আনেন সংসার সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য।
যদিও বর্তমান যুগে চিত্রটা অনেকটা ভিন্ন। কারণ আজকাল স্বামী স্ত্রী দুজনেই যেমন সমানভাবে তাদের সংসারের কাজ করে, ঠিক তেমনি অর্থ উপার্জনের জন্যেও দুজন নিজেদের মতো করে পরিশ্রম করে থাকেন।
সৎ পথে থেকে পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থের মাধ্যমে, শান্তিপূর্ণ জীবন যাপনই আজকের দিনে আমার কাছে সফলতার পরিভাষা। নিজের জীবন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য অসৎ পথ অবলম্বন করে, অন্যের জীবনের ক্ষতি করে এগিয়ে যাওয়া কখনোই সফলতার সংজ্ঞা হতে পারে না।
নিজের লক্ষ্য পূরণ করার জন্য অসৎ পথ অবলম্বন করার চেষ্টা বা মনোবাসনা অন্য মানুষের কাছ থেকে লুকানো গেলেও ঈশ্বরের চোখ থেকে তা আড়াল করা খুবই কঠিন। এই সাধারণ বিষয়টি বহু মানুষ আজকের দিনে ভুলতে বসেছে। তবে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সকলের কর্মের হিসাব কিন্তু ঈশ্বর সবাইকে বুঝিয়ে দেন, এ কথা পূর্বেও সত্যি ছিলো, এখনো সত্যি এবং আগামীতেও তাই থাকবে।
তাই সফলতা মানে আমার কাছে সৎ পথে থেকে, সঠিক কর্মের মাধ্যমে জীবন যাপন করা, যা আমাকে ঐশ্বর্য্যের থেকেও মূল্যবান কিছু ফিরিয়ে দেয়, আর তা হলো মানসিক শান্তি।
|
|---|
যাইহোক এই ছিলো সফলতা সম্পর্কে আমার নিজস্ব মতামত, যেটা নিজের মতো করে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নিরিখে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আপনাদের কেমন লাগলো আমার লেখা পড়ে অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। লেখা শেষ করার আগে কনটেস্টের নিয়মানুসারে আমি আমন্ত্রন জানাই আমার তিনজন বন্ধু @tanay123 @pinki.chak ও @wirngo কে।
সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।





