ন্যাপা গড়ের নেতা!

ও ডাঙ্গুলি দা বাড়ি আছেন? পাশের পাড়ার বুধু এসেছে নিজের প্রতিবেশীর নালিশ নিয়ে ডাংগুলি বাবুর কাছে!
সবেমাত্র বিকেলের চা খেয়ে ডাংগুলি ডোম একটু দম নিতে না নিতেই সমস্যা নিয়ে হাজির বুধূ!
মনে মনে ডাংগুলি ডোম ভাবলেন অশিক্ষিত মানুষের মধ্যে বসবাসের এই এক্ জ্বালা!
তার মত ফাইভ পাশ এই ন্যাপা গড়ে দ্বিতীয়টি নেই!
তাই ওই মুরগি চুরি থেকে মাছ, কিংবা ফুলচুরি থেকে মন সবটা তাকেই দেখতে হয়!

![]() | ![]() |
|---|
সে যাক! সকলেই ডাংগুলি বাবুকে ন্যাতা বলেই সম্মান করেন! ডাংগুলি বাবু ওটা আজও শুধরে দিতে পারেননি, প্রথম প্রথম অনেক শেখাবার চেষ্টা করেছেন যে, শব্দটা নেতা, আর ন্যাতা মানে ওই ছেঁড়া কাপড়ের টুকরো!
ফ্যালফ্যাল করে সবাই তারদিকে চেয়ে কথাটি মনোযোগ দিয়ে শুনলেও সেটি সঠিক উচ্চারণ করে উঠতে পারেনি, শেষমেশ ডাংগুলি বাবু হাল ছেড়ে দিয়েছেন!
আর নিজেকে ন্যাতা হিসেবেই মেনে নিয়েছেন!
কি রে বুধু এই ভর সন্ধ্যায়, কি হয়েছে?
বুধু একেবারে রেগে আগুন হয়ে তার সমস্যার কথা শুরু করলো!
তার কথা অনুযায়ী, তার কলের চাতালের পাশে তাজা পুঁইয়ের ডগা গজিয়ে উঠেছিল!
সে ভেবেছিল, আগামীকাল বাজার থেকে বেশ খানিক চিংড়ি মাছ এনে ওই শাক দিয়ে খাবে!
![]() | ![]() |
|---|
কিন্তু কাজ থেকে ফিরে কলে হাতমুখ ধুয়ে গিয়ে দেখে সব পুঁই কে যেনো একেবারে গোড়া সমেত তুলে নিয়ে গেছে!
এ নিশ্চই তার প্রতিবেশীর কাজ! এখন কাল কি হবে এই দুশ্চিন্তা নিয়ে সে ডাংগুলি বাবুর কাছে এসেছে ওই পুঁই শাক চোর ধরে দিতে হবে বলে!
ডাংগুলি বাবু সবটা মন দিয়ে শুনলেন, এবং বললেন, এতো সত্যি ভয়ংকর অপরাধ!
একেবারে গোড়া থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া, এটা তো ঠিক নয়!
তাছাড়া পরের দিন যে পুঁই এর ঘণ্ট চিংড়ি মাছ দিয়ে হবার কথা ছিল, সেটা বানচাল হয়ে যাওয়া, এটাও কম দুঃসংবাদ নয়!
তবে, ওই পাশের বাড়ির লোক নিয়েছে কিনা এটা তো তদন্ত সাপেক্ষ!
ওই বাড়িতে থাকে এক্ আশতিপর বৃদ্ধা মৃগী বালা আর তার বিধবা নাতনী খেন্তি!
ডাংগুলি বাবু অনেক ভেবে বুধু কে বললেন, ওরা তো দুজনেই নিরামিষ খায়! পুঁইশাক তুলে চিংড়ি দিয়ে তো ওরা খাবে না বুধু!
এরকম একটা অকাট্য যুক্তি বুধুর মাথায় আসেনি! সে সঙ্গে সঙ্গে বলল এটা তো ভাবিনি ডাংগুলি দা!
পাশ থেকে হরে কীর্তন যাচ্ছিল, উভয়ের কথা শুনে দাড়িয়ে পড়েছিল, এবার সে মুখ খুললো!
হরে কীর্তন বললো, পুঁইশাক নিরামিষ মন্দ হয়না!
কি বলো ডাংগুলি?
মনে মনে বেশ বিরক্ত হলেন ডাংগুলি বাবু! কেশ প্রায় মিটে যাচ্ছিল, এই হরে কীর্তন দিলো সব ভেস্তে!
সঙ্গে সঙ্গে বুধু বললো, হ্যাঁ একদম ঠিক হরে কীর্তন কাকা!
তারা তো নিরামিষ রান্না করেও খেতে পারে, তাই না ডাংগুলি দা?
হুঁ! তবে কি জানো বুধু যদি শুধু ডগা কাটা পড়ত, আমি তাও বিষয়টা খানিক মানতে পারতাম, মৃগী ঠাকুমার দাঁত নেই, পুঁই রান্না করলে পাতাগুলো একটু পিচ্ছিল হয়, সুরুৎ করে গলায় চলে যেতো, আর ইউরিক অ্যাসিড এর কারণে
খেন্তি পুঁই শাক সহ অনেক কিছুই খায় না!

![]() | ![]() |
|---|
গোড়া থেকে তুলে নিলে পুঁই শাক এর ডাটা চাবানোর মতো তো কাউকে দেখছি না বুধু!
এবার ডাংগুলি বাবুর বুদ্ধির প্রশংসা করলেন হরে কীর্তন স্বয়ং, এবং বললেন এই জন্যই তো তুমি এই গ্রামের ন্যাতা!
কি বুদ্ধি তোমার ডাংগুলি! মানতেই হবে!
নাহ্! বুধু মৃগী বালা তোমার বাড়ির পুঁইশাক চুরি করেছে, এটা মানা যাচ্ছে না!
হরে কীর্তন বাবুর বাবা ছিলেন, মৃগী বালার প্রাক্তন প্রেমিক, কিন্তু বিয়েটা হয়নি ওই মৃগী বালার মৃগী রোগের জন্য!
সকলেই বংশ পরম্পরায় বিষয়টা জানেন তাই হরে কীর্তন এর ওই মৃগী বালার প্রতি একটু বাড়তি দুর্বলতা রয়েছে!

সে যাইহোক, এখন বুধু পড়েছে মহা সমস্যায়!
একদিকে পুঁই গেলো, আরেকদিকে চোর ধরা পড়তে পড়তে পিছলে গেলো!
ডাংগুলি বাবু, তাকে কচু পাতা দিয়ে চিংড়ি খাওয়ায় পরামর্শ দিলো।
বুধু সমাধান পেয়ে একেবারে আনন্দে আত্মহারা! তাই তো বাড়ির পিছনে মানকচু রয়েছে সে কথা তো খেয়াল ছিল না!
বুধু বললেন, আমার বাড়িতে যে মানকচু গাছ রয়েছে, সেটা তো আমি ভুলেই গিয়েছিলাম ডাংগুলি দা! সত্যি তোমার কতদিকে নজর!
তুমি প্রকৃতই আমাদের ন্যাতা!
ডাংগুলি বাবু মাথা উঁচু করে একটি যুদ্ধ জয়ের হাসি হাসলেন, আর তারপর ঘরে ঢুকে গেলেন!
ডাংগুলি বাবু রাতের বেলায় উঠোনে গেট বন্ধ করতে গিয়ে দেখেলন তার পোষা ছাগলদের পায়ের কাছে পড়ে আছে পুঁই শাকের ডাটা!
নিঃশব্দে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করতে করতে মনে
মনে বললেন কেশ ক্লোজ!


![]() |
|---|







