সময়ের সদুপয়োগ-আজকের অনলাইন কেনাকাটা!

এই মুহুর্তে সত্যি বলতে এনার্জি তলানিতে ঠেকেছে! তাই ইচ্ছে থাকলেও বাজার যাবার উপায় ছিল না!
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ! কথাটি প্রচলিত তবে, নববর্ষ অর্থাৎ বাংলা মাসের শুরু পয়লা বৈশাখ আমি শৈশব থেকেই মাকে পালন করতে দেখেছি।
যদিও এখন আর কেউ নতুন জামা উপহার দেয় না, কারণ মা বাবার মতো করে সন্তানদের জন্য কে ভাবে?
শৈশব থেকেই মাকে দেখেছি, এই বাংলা নতুন বছরের পূর্বে ঘরের সমস্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে।
তাই, যেটি দেখে বড় হয়েছি আজও তার অন্যথা করতে কোথাও বাধে।
বিগত দুদিন ঘরের যাবতীয় কাপড় ধোয়া, সে জানালা দরজার পর্দা থেকে শুরু করে এসির ফিল্টার সহ সেলিং ফ্যান, বিছানার চাদর, পা মোচড় পাপোশ ইত্যাদি ইত্যাদি সবকিছুই পরিষ্কার করেছি একলা হাতে।
এরপর আজকে দিনের বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত হয়েছে কিউরেশন করতে। নতুন মাসের হাত ধরে খরচ প্রতি মাসেই চোরা পথ ধরে সকলের জীবনেই ঢুকে পড়ে, এবং এক্ষেত্রে আমিও ব্যতিক্রমী নই।
দিনের নির্ধারিত সময়ে সকল কাজ একলা হাতে সম্পন্ন করতে হলে, সময়ের সঠিক প্ল্যান অত্যাবশ্যকীয় বলে আমি মনে করি।

আজকের লেখায় আমি অনলাইন থেকে কিছু গ্রসেরি সামগ্রী অর্ডার করেছি, যেগুলোর একসাথে ছবি আপনাদের মাঝে ভাগ করে নিচ্ছি, তবে আগামী লেখায় প্রতিটি জিনিসের সাথে তার ভারতীয় মূল্য সহ স্টিমিট এর মূল্য তুলে ধরবো।
আজও সমাজের একাংশ মনে করেন, সংসারে যিনি অর্থ উপার্জন করেন, তার গুরুত্ব অধিক!
তবে, ভেবে দেখুন সেই মানুষগুলোর কথা, যাদের শুধু অর্থ উপার্জন করেই থেকে থাকলে চলে না, পাশাপশি সংসারের যাবতীয় কাজ সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর কেনা এবং সেই ভার বহন করে বাড়ি ফিরতে হয়।

সামান্য কাজের আধিক্য বৃদ্ধি পেলে, কিছু বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হলে, যেখানে মেজাজ ঠিক রাখতে অধিক মানুষ অসমর্থ হন, আজকের লেখাটি বিশেষ করে তাদের জন্য।
আমি এখনো ঈশ্বরের বিদ্যালয়ের ছাত্রী আর সেখান থেকেই শিখেছি, প্রতিটি দায়িত্বের আড়ালে থাকে নিজেকে উন্নত করবার সুযোগ, তবে সেটা যারা চাপ মনে করেন, তাদের উন্নতির সীমা সীমিত!

মানব জীবন সোসিয়াল মিডিয়ায় চোখ রেখে অহেতুক সময় কাটানো নয়, যদি সেখানে কোনো শিক্ষণীয় বিষয় না দেখা হয়, তার চাইতে এমন কিছু কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখা উচিত যেটি নিজেকে আগামীতে সমাজে আদর্শ হিসেবে পরিচিতি দেয়।
স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে পারে কতজন? সহজ পথ বেছে নেওয়া, অন্যের উপর নির্ভরশীলতা মানুষকে মানসিকভাবে পঙ্গু তৈরি করে দেয়, যখন তারা সেটা উপলব্ধি করে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।
ব্যস্ততা এমন একটি ঔষধ যেটি ক্লান্তি বয়ে আনে বটে, তবে অনেক
দুঃশ্চিন্তা এড়াতে সহায়ক ও বটে, সেই জন্যই প্রবাদ আছে,
তাই যতক্ষণ আপনার জীবনে ব্যস্ততা আছে, জানবেন আপনার পাশে সৃষ্টিকর্তা আছেন।
অবশ্যই আমার জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে উপরিউক্ত কথাগুলো ভাগ করে নিলাম, অনেকেই সহমত পোষণ নাই করতে পারেন।

