সকাল থেকে রাত!

আজকের দিনটি কিভাবে কেটেছে সেটার পাশপাশি আজকে কিছু এমন কথাও লেখায় উল্লেখ করবো, যেটি অনেকাংশে অপ্রিয় সত্য!
কেউ হয়তো সহমত পোষণ করবেন,
কেউ করবেন না, তবে তাতে আমার বিশেষ কিছু যায় আসে না, কারণ আমি লেখায় যা কিছু তুলে ধরি সবটাই বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে।
শুরু থেকেই শুরু করা যাক! অর্থাৎ আজকের অতিবাহিত দিনের সকাল থেকেই নিজের সময় এবং অভিজ্ঞতার হিসেব শুরু করছি।
গতকালের পড়ে যাওয়ার কারণে, আমার রাত্রে ব্যথায় বিশেষ ঘুম হয়নি, সকালে বিছানা থেকে পা ফেলতে গিয়ে পায়ের পাতা বেশ কয়েকটি জায়গায় ব্যথা অনুভব করলাম।
তবে, কাজ তো থেমে থাকবে না, আমার ব্যথার কারণে! আজকে শনিবার তাই সকালে উঠে ঘর পরিষ্কার করে, পুজো দিয়ে, তৈরি হয়ে যখন স্টেশনের পথে হাঁটছি, মাথার উপরে বৃষ্টি তখন পড়েই চলেছে।
টিকিট কেটে প্লাটফর্ম পরিবর্তন করে যখন নিজের অপর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছলাম, তখন দেখলাম, ঘড়িতে সকাল ৯ বেজে ৫৫ মিনিট।
সময়ের একটা ছবি তুলে নিলাম, কারণ সে তো সদাই পরিবর্তনশীল, ওই সময়, মুহুর্ত কিংবা দিন কিছুই আর ফিরে আসবে না!
![]() | ![]() |
|---|
এরপর, ট্রেনে উঠে পড়লাম, আজকেও বেশ ভিড় পেয়েছি ট্রেনে, তবে যেহেতু বসার জায়গা পেয়েছিলাম, তাই ট্রেনের ভিতরের ভিড় ছবির আকারে তুলে ধরলাম আপনাদের মাঝে।
![]() | ![]() |
|---|
এরপর, নামার আগে, জানালার ফাঁক দিয়ে বৃষ্টি স্নাত প্রকৃতির দুটি ছবি তুলেছিলাম, খানিক ক্যামেরা জুম করে।
এরপর, প্রতিদিনের মত দুটো অটোরিক্সা বদল করে শোরুম যখন পৌঁছলাম, তখন বৃষ্টি ছিল না।
এরপর, যা হয়েছে সেটার উল্লেখ করবার পূর্বে একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি উপস্থাপনের চেষ্টা করা যাক, তাহলে হয়তো বিষয়টির গুরুত্ব আর বাকি ঘটনার যথার্থতা উপলব্ধি করতে পারবেন।
ধরুন আপনি কোনো দোকানে কেনাকাটা করতে গিয়েছেন।
এবার ধরুন আপনি দোকানে গিয়ে, সেখানে উপস্থিত কর্মচারীকে নিজের প্রয়োজনের জিনিষ দেখাতে কিংবা দিতে বলছেন;
আর সেই কর্মচারী নিজের গার্লফ্রেন্ড কিংবা বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথায় ব্যস্ত, অথবা রিল দেখেই যাচ্ছে!
একজন গ্রাহক হিসেবে, আপনার মানসিকতা কেমন হবে, সেই দোকান সহ সেই কর্মচারীর প্রতি?
নিশ্চই আপনি বিরক্ত হবেন, কি তাই তো?
আমিও হয়েছিলাম এরমধ্যে একদিন! যখন নতুন রাখা একটি ছেলেকে দেখেছিলাম কানে হেডফোন দিয়ে গার্ল ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে, আর অন্যদিকে এক্ কাস্টমার একটি শাড়ি দেখিয়ে সেটির রং বদলে অন্য রঙের একই শাড়ি চাইছেন।
আমাকে, উল্টে বলছে সেই কর্মচারী, দেখো তো কি বলছে? আমি বুঝতে পারছি না!
আমি উত্তরে কান থেকে হেডফোন খুলতে বলেছিলাম, কাস্টমারের সামনেই!
আজকে জানতে পারলাম, তার হয়ে সালিশি করে পুরোনো একজন কর্মচারী নালিশ জানিয়েছে আমার বিরুদ্ধে আমার কাজিন এর কাছে!
যদিও আমার কাজিন ব্রাদার আমার প্রফেশনাল মানসিকতা কাজের জায়গায় কতখানি সেটি সম্পর্কে অবগত!

![]() | ![]() |
|---|
তাই, আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় উভয় উপলব্ধি করেছি, আজও এই সমাজে কোনো মহিলা একটি পুরুষকে সফলতায় ছড়িয়ে গেছে সেটা মেনে নিতে পারে না!
আর ঠিক সেই কারণে পুরোনো কর্মচারীর আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ, কারণ কাজের সময় মোবাইল ব্যবহার যুক্তির দিক থেকেও অন্যায়, কারণ ওই সময় কাজে ব্যতীত করবার জন্য কোম্পানী বেতন দেয়, গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলার জন্য নয়।
ইগো আমাদের সবচাইতে বড় শত্রু! আর একজন মানুষ কতখানি পরিশ্রম করে উপরে ওঠে সেটা না দেখে তার জেন্ডার দেখলে এমনটা রিয়েকশন পাওয়া স্বাভাবিক।
আজকে প্রায় গোটা দিন কিছুজন আমার অবজার্ভেশন এ ছিল, কারণ কাজের জায়গা কাজ করবার জন্য, ইউনিয়ন বাজি করবার জায়গা নয়, তাও আবার অনৈতিক কারণে!
বসে বসে ক্যামেরায় দেখছিলাম সকলের কাজ কর্ম, সাথে কিছু ছবি তুলেছিলাম আজকের লেখায় তুলে ধরতে।
আচ্ছা, এই সবের মাঝে ওষুধের দোকান থেকে ফোন গিয়েছিল, আমার মাসের ওষুধের অর্ডার নেবার জন্য।
আমি জানিয়েছিলাম, ওষুধের অর্ডার নিয়ে বিল তৈরি করে রাখতে, ফেরার পথে নিয়ে নেবো আর সাথে পেমেন্ট করে দেবো।
একটি বাচ্চা যেমন তার মাতা পিতাকে অনুকরণ তথা অনুসরণ করে বড় হয়, কাজের জায়গাটাও কিন্তু একইরকম, পুরোনো যারা থাকে, তাদের দেখেই নতুনরা শেখে!
ভালো করলে ভালো শেখে, তেমনি খারাপ দেখে খারাপটা! যেমনটা বলেছিলাম, সহমতের আশা ছাড়াই নিজের বক্তব্য, অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছি!
![]() | ![]() |
|---|

ফেরার পথে দেখলাম, আকাশ জুড়ে বিরাজমান
পূর্ণিমার চাঁদ, আজকে মিনিট দশেক আগে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে গিয়েছিলাম তাই প্ল্যাটফর্মে চাঁদের ছবি তোলার সময় আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে আবিষ্কৃত বৈদ্যুতিক বাতিও জ্বলছিল!
পাশাপশি, আসল আর নকলকে দেখে, আজকের অভিজ্ঞতার সাথে মেলাতে গিয়ে মনে হলো, চাঁদের মানসিকতা হলো সেই সকল সফল মানুষদের মত, যারা সফলতার পথে একাধিক বার ভাঙ্গে, আবার নিজেকে পুনরায় তৈরি করে নতুন করে।
বিশ্বাস না হলে, গুগল ঘেঁটে দেখে নেবেন।
ঠিক যেমন অমাবস্যার চাঁদ এর পর এক্ চিলতে করে টুকরো টুকরো জুড়ে জুড়ে পূর্ণাঙ্গ আকার ধারন করে পূর্ণিমার চাঁদ!
অন্যদিকে নকল বাতি যদি কেটে যায় সময়সীমা পার গিয়ে গেলে, তাহলে নতুন বাতি কিনতে হয়, পুনরায় পুরোনো বাতিকে পুনরুদ্ধার করা যায় না!
ঠিক যেমন মানুষের মানসিকতা, শৈশব থেকে যেমন তৈরি করা হয়, তেমনি থাকে আমৃত্যু।

![]() | ![]() |
|---|
ফেরার পথে, নিজের লোকেশনে পৌঁছে আমি ওষুধের দোকানে ফোন করেছিলাম, যদি বাড়িতে ওষুধ দিতে যায়, কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি, তাই ট্রেন থেকে নেমে, সোজা হেঁটেছিলাম ওষুধের দোকানে, যাবার সময় আমার সঙ্গী ছিল সেই পূর্ণিমার চাঁদ!
আজ আমার মনটা বেশ খারাপ ছিল এটা ভেবে যে, এই প্রতিযোগিতার যুগে দাড়িয়ে যেখানে কাজের এত অভাব, সেখানে কাজকে অবহেলিত হতে দেখলে মনে হয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে কেনো মানুষ কাজ দেয়, অথবা যোগ্যতার গুরুত্ব কি!
ওষুধ নিয়ে এসে, স্নান সেরে হনুমান চালিশা পড়েছিলাম, যেটি আমার প্রতিদিনের অভ্যেস!
এটি পড়তে পড়তে আমার সারাদিনের কথা আমি প্রথমে সৃষ্টিকর্তা এবং পরে আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে থাকি।
আসলে, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝতে পারে না অনেকেই, কারণ একটাই, সেটা হলো ইগো!
আমার ব্যক্তিগতভাবে সেটাই মনে হয়, আপনার কি মনে হয়, সেটা আপনারাই বলতে পারবেন!












বৃষ্টি স্নাত প্রকৃতি এবং ট্রেনের ভিড়ের ছবি দুটোই ভালো ছিল। কিন্তু যে উদাহরণটা দিলেন — দোকানে কর্মচারী রিল দেখে ব্যস্ত থাকলে গ্রাহকের মনোভাব কেমন হয় — সেটা নিয়ে ঠিক জায়গায় আঙুল ধরেছেন। আমার প্রশ্ন হলো, আপনার পা-ব্যথা নিয়ে শোরুমে যাওয়ার পর নতুন সেই ছেলেটিকে আপনি কী বলেছিলেন বা কী করেছিলেন?
Leyendo tu relato del sábado, lo que más me quedó grabado fue esa escena del empleado con los auriculares en la tienda mientras atendía clientes: eso espanta ventas más rápido que cualquier crisis. La foto del reloj marcando las 9:55 fue un buen detalle para anclar el momento. ¿Ese chico sigue trabajando ahí o ya lo sacaste del equipo?