গোটা সঙ্গীত জগতের একটি অমূল্য নক্ষত্র পতন!

এটি এমন একটি অপরিবর্তিত সত্য যেটি কোনো, ক্ষমতা, খ্যাতির ধার ধারে না! সময় আসলে সকলকেই ইহলোক থেকে বিদায় নিতে হবে।
এমন একটি সত্য সকলের জানা থাকলেও কিছু মানুষের চলে যাওয়া একটা অপূরণীয় ক্ষত রেখে যায় চিরতরে!
গতকাল অর্থাৎ ১২ই এপ্রিল রবিবার ভারত সহ গোটা বিশ্বের জন্য ছিল একটি দুর্ভাগ্যজনক দিন!
গতকাল সঙ্গীত জগতের প্রসিদ্ধ গায়িকা আশা ভোঁসলে মারা গিয়েছেন, মুম্বাই শহরের ব্রিজ ক্যান্ডি হাসপাতালে।
আজকে বিকেলে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

![]() | ![]() |
|---|
লেখাটা লিখতে গিয়ে যখন তার চলে যাওয়াকে বিশ্বের ক্ষতির সাথে তুলনা করছি, তখন অনেকেই এই লাইনটি পড়ে অবাক হতে পারেন, আবার অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব নাও দিতে পারেন!
তবে, যে স্বনামধন্য গায়িকার কথা বলছি, তিনি নিজের নাম খোদাই করে রেখে গেছেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে!
হ্যাঁ! ঠিকই পড়েছেন, তার নিজের দিদি লতা মঙ্গেশকর যেখানে বিশ্ব প্রসিদ্ধ গায়িকা ছিলেন, যেখানে তার দিদিকে নিয়েই অধিক মানুষ মন্ত্রমুগ্ধ ছিলেন এবং আজও আছেন তার গাওয়া গানের জন্য, সেখানে তার ছোট বোন নিজের জীবনে একের পর এক লড়াই জয় করে এগিয়ে গিয়ে ইতিহাস রচনা করে রেখে গিয়েছেন!
যদিও তার শারীরিক বয়স হয়েছিল এবং বয়স জনিত কারণেই তিনি ইহলোক ছেড়ে চলে গিয়েছেন, মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল বিরানব্বই বছর!
তবে, সত্যি কি এই রকম শিল্পীদের কখনও মৃত্যু হয়?
আর হয়তো তাকে শারীরিক ভাবে আমাদের দেখার সৌভাগ্য হবে না, কিন্তু তার গাওয়া একাধিক ভাষার গান সে তো অমর হয়ে থাকবে যুগের পর যুগ ধরে!
![]() | ![]() |
|---|
অদ্ভুত বিষয় আজকের এই অত্যাধুনিক যুগে যখন দেখি পুরোনো শিল্পীদের গাওয়া গানের সুর পরিবর্তন করে, তাতে বাড়তি মিউজিক সংযোগে নতুন ছায়াছবিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন বেশ অবাক হই!
মনে পড়ে যায় আসল গান গাওয়া মুখ সহ সেই সুরের মাধুর্য্য!
ক্রিয়েটিভিটির মূল্যায়ন সঠিক ভাবে সবাই করতে পারে না, নকল করতে কি সত্যি কোনো দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে?
ভারতের ইতিহাসে এবং এই দেখে ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকবে এই সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নামগুলো।

যে সময় লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলের মত গায়িকারা নিজেদের সঙ্গীত যাত্রা শুরু করেছিলেন, তখন আজকের মতো বাদ্য যন্ত্রের আধিক্য ছিল না, তখন গানের কথায় যেমন ছিল একটা অভ্যন্তরীণ মানে, তেমনি সেই গানের কথাগুলোকে সুরের জাদু দিয়ে এক্ অবিস্মরণীয় সৃষ্টির নজির রেখে গেছেন বহু সংগীতশিল্পী।
অবশ্যই আশা ভোঁসলে তাদের মধ্যে অনন্য, কারণ আজকে র্যাপের যুগ এসেছে বটে তবে সেই পুরোনো সময়ে গানের মধ্যে তার সুরের জাদুতে তাকে আধুনিকীকরণ বহু আগেই তিনি একাধিক বার করে দেখিয়েছেন।
কে ভাবতে পারে ষাঠ বছরের বেশি একজন গায়িকা গাইছেন "তানহা তানহা"
আবার ইয়াই রে, ইয়াই রে মত গান!
ইউটিউবের থেকে গানের লিংক দিলাম, মুজিকের কোনো ভাষা হয় না আর তাই বোধহয় তিনি হয়তো অবলীলায় ২০ টি ভাষায় ১২০০০ এর ও অধিক গান গেয়ে নিজের নাম গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নথিভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।
শরীর চলে গেলেও এই সফলতা এবং রেকর্ড কেউ মুছে ফেলতে পারবেন না।
আর এখানেই একজন শিল্পীর আসল সফলতা।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ভাষা ছাড়াও তিনি, ইংরেজি, মালয়েশিয়ান,রুশ ভাষাতেও গান গেয়ে রেখে গিয়েছেন!
আজকে আশা ভোসলে সম্পর্কে লিখতে গিয়ে গুলজারের লেখা, সুরকার আর ডি বর্মন এর সেই গানটি "মেরা কুছ সামান, তুমহারে পাস পারহা হ্যায়" গানটি মনে আসছে, সত্যি তো তিনি একাধিক গানের ভাণ্ডার সম্পদ হিসেবে রেখে গিয়েছেন, যেটি তারই সম্পদ!

আমার মত সাধারণ মানুষের কোনো যোগ্যতা নেই যে এতবড় শিল্পীকে শব্দে আবদ্ধ করতে পারে, তবে তার জন্য এই সামান্য শ্রদ্ধাঞ্জলি তোলা থাকলো, যেমনি চার বছর আগে লতা মঙ্গেশকরের জন্য একটি সামান্য প্রয়াস করেছিলাম।
পরিশেষে তার আত্মার শান্তি কামনা করি, এই মুহূর্তে পরলোকে আরেকটি নক্ষত্র হয়তো দেবতাদের নিজেদের সুরেলা কণ্ঠে আবিষ্ট করতে ব্যস্ত কে বলতে পারে, তাই না?
মৃত্যুর পরে কি আছে?






