বসুন্ধরা!

আজকে মনে হলো, উপার্জনের তাগিদে বর্তমান সময় দাড়িয়ে যদি কোনো বিষয়কে আমরা ভুলতে বসেছি সেটা হলো মাটি!
কেবলমাত্র উঁচু উঁচু ইমারত আর ব্যবসায়িক দিক থেকে বসুন্ধরা আজও মূল্য রাখে বটে, তবে এই বসুন্ধরা আমাদের যে, খাদ্য, ঔষধি এবং বস্ত্রের কাঁচামাল যোগান দেয় সে দিকটা আমরা অনেকেই ভুলতে বসেছি! বিশেষ করে শহরের মানুষ।
এখন যদিও বহু গ্রামের দিকের চেহারাও বদলে গিয়েছে সময়ের সাথে!
আজকে ফোনের ছবির গ্যালারি দেখতে দেখতে নজরে পড়ল সেই সুন্দরবন ঘুরতে গিয়ে যে হোটেলে উঠেছিলাম সেই হোটেলের সামনে এক্ ফালি জমিতে ভিন্ন ভিন্ন সবজি এবং ফুলেদের ছবিগুলো!
আর তার সাথে মনে হলো, আমাদের মধ্যে কতজন আছেন বলুন তো, যারা সত্যি বসুন্ধরাকে সম্মান করে!
ব্যবহার সকলেই করে, কিন্তু এই যে পঞ্চতত্ব এগুলো ছাড়া কি কোনো প্রাণের অস্তিত্ব এই পৃথিবীর বুকে থাকতো?


ইচ্ছে মত সবকিছুর এই যে আধুনিকীকরণ আমরা করছি, সেটা কি এই পঞ্চতত্বের অনুপস্থিতিতে সম্ভব হতো?
আমার শৈশব বাড়ির চৌহদ্দিতে কেটেছে, যেখানে ছিল সুবিশাল উঠোন, খেলার জায়গার কোনো অভাব ছিল না!
সময়ের সাথে আমাদের বাড়ির আকার বৃদ্ধি পেতে থাকলো, আর ইট, কাঠ, পাথর, সিমেন্টের নিচে চাপা পড়ে গেলো সেই উঠোন!

তখন পর্যন্ত সেই উঠোনের অভাব বোধ করিনি কারণ পাশের বাড়ির সামনে অনেকখানি জমি ছিল, যেটি মাঠ হিসেবে সকলেই ব্যবহার করত বিকেল হলেই খেলার জন্য!
সেই সময় প্রতিবেশীর বাড়িও ছিল নিজের বাড়ি!
না ছিল কোনো বিধি নিষেধ আর না অনুমতি নেবার প্রয়োজন!
এরপর যখন প্রথম ফ্ল্যাট কেনা হলো, সেই সময় ও আমি ছিলাম বেশ এক্সসাইটেড, কারণ ইতিপূর্বে ফ্ল্যাট কালচার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ছিল না!
সেই একটা হাই ফাই ব্যাপার! তবে ওই যে কথায় আছে, চক চক করলেই সেটা সোনা হয় না!


সময়ের সাথে সাথে বুঝতে পারলাম, এ যেনো খাঁচায় বন্দি জীবনের ন্যায়!
একরত্তি পরিসরে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখা, নেই ঘাসের উপর শিশিরে পা ভেজানোর সুযোগ, আর না রয়েছে ইচ্ছেমত গাছ লাগানোর সুবিধা!
সেদিন বুঝেছিলাম শখের বশবর্তী হয়ে যারা পাখি, পশু বাড়িতে রাখেন, তাদের মনের অবস্থা কেমন হয়!
আমাদের বাড়িতে প্রতিদিন একটা শালিক পাখি আসত, মানে এমনিতেই, যা কিছু খাবার দেওয়া হতো খেয়ে চলে যেতো!
এখন মাছ, পাখি, পশু সবটাই পোষ্য হিসেবে রাখাটা একটা স্ট্যান্ডারিটি সিম্বল!

কি অদ্ভুত বিষয়! নিজের বাড়ির গাছের ফুল, ফল, সবজি ইত্যাদি ফলতে দেখার মজাই আলাদা!
আমাদের বাড়ির পিছনে ছিল একটা ডুমুর গাছ, আজ ঐ ছবিগুলো দেখতে দেখতে পুরোনো দিনে এক প্রকার হারিয়েই গিয়েছিলাম।
এখন আমি আবার বইয়ের জগতে ঢুকে পড়বো, আমার এই একাকিত্বে সবচাইতে ভালো সঙ্গী, হয়তো আগামী লেখায় বিভিন্ন গল্পের সারমর্ম নিয়েও লিখতে পারি!
জানিনা ঠিক, তবে এখন আমার হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে, কোনো এমন জায়গায় যেখানে আমি আর প্রকৃতি থাকবে, আর আমার বই!
এই মাস শেষ হলেই বইগুলো বের করবো, যদিও সবগুলো আগেই পড়েছি, কিন্তু তাতে কি?
কতকিছুই তো একাধিকবার পড়েছি, মানুষের মন, মানুষের ব্যবহারের তারতম্য উপলব্ধি করেছি সময়ের সাথে, এগুলো দুঃখ, আর তিক্ত অভিজ্ঞতা ছাড়া কিছুই শিক্ষা দেয় না!
তবে, বইয়ের জগতের অন্য ভাললাগা, কত চরিত্র পড়তে পড়তে চোখের সামনে ভেসে ওঠে!
এই মুহূর্তে মানুষের আকাশ ছড়িয়ে মহাকাশে পা, কাজেই মাটির কদর কতজন করবে, যতক্ষণ আরেকটি গগনচুম্বী ইমারত নির্মাণ করবার প্রয়োজন না পড়ছে!

এখন তো পেন্ট হাউস এর ট্রেন্ড বড় বড় মেট্রো পলিটন শহরে! কেউ আর রবীন্দ্রনাথের সেই কবিতার মূল্যায়ন করে না, যেখানে তিনি লিখেছিলেন:-
বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,
দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপরে
একটি শিশিরবিন্দু।
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভেবে দেখবেন কখনও, যদি কৃষক না থাকত! বাকি উন্নতির কি কোনো দাম আজও থাকতো, খালি পেটে?
উন্নতির সাথে সম্মান করুন সেই সকল কৃষক পরিবারদের যারা বসুন্ধরাকে প্রকৃত মর্যাদা দিয়ে খাদ্যের যোগান দিয়ে চলেছে এই আধুনিক যুগেও!


High-Yield Curation by @steem-seven
Your content has been supported!
Maximize your passive income!
Delegate your SP to us and earn high rewards
Click here to see our Tiered Reward System
We are the hope!
Curated by: @mahadisalim