ঘরে ফেরা!

in Incredible India2 days ago

1000082320.jpg

(সারি বেঁধে ফড়িংদের ঘরে ফেরা!)

আজ আমি মুক্ত বিহঙ্গ;
চাইনা মিথ্যে কারো সঙ্গ!
নিজের কাছে জমা,
কটাক্ষের একাধিক শব্দ;
আজ তাই সময়ের প্রতীক্ষায় আমি স্তব্ধ!

দিনশেষে ঘরে ফেরার তাগিদ কেবল দৈনন্দিন কর্মরত মানুষের থাকে এমনটি কিন্তু নয়, কখন পড়ন্ত বিকেলের অস্তমিত সূর্যের দিকে তাকিয়ে দেখবেন, ঘরে ফেরার তাড়া দিনশেষে তার পাশাপশি পশু, পাখি সহ কীট পতঙ্গের ও থাকে!

"ঘর"
এমন একটি সুরক্ষিত বেষ্টনী, যেটি শুধু বাহ্যিক বেষ্টনী দিয়ে সুরক্ষা দেয় না, তার সাথে সেই ঘরে অবস্থিত বাকি সদস্য মনোবল বৃদ্ধি করতে সহায়ক!

বাড়ী সেটা কাচা হোক কিংবা পাকা অনেকেরই আছে, কিন্তু বাড়িকে ঘর তৈরি করে সেই ইমারতে থাকা প্রাণগুলো!

1000082325.jpg1000082327.jpg

1000077313.jpg

এই তো সেদিন যখন বাইরে প্রচণ্ড ঝড় উঠেছিল, মনে মনে দূরে থাকা আম গাছের দিকে তাকিয়ে খানিক মনটা ব্যতিব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল এটা ভেবে আহা! সবেমাত্র মুকুল থেকে আম হয়েছে, একটি বৃক্ষের কাছে তো এরা তার সন্তান তাই না? ঝড়ের জন্য অকালে কত কচি কচি আম অকালেই গাছ থেকে ঝরে পড়ে যাবে!

আচ্ছা! অকালে এই সন্তানদের হারিয়ে গাছ কি দুঃখ পায়?
নাহ্! আসলে তারা তো মানুষের মতো শব্দ দিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করতে অক্ষম তাই আরকি!

একবার মনে হলো, প্রকৃতির এ কেমন পরিহাস?
সঙ্গে সঙ্গে উত্তর খুঁজে পেয়ে গেলাম! জীবনের একটি চিরন্তন সত্য হলো, কিছু ভালো পেতে হলে বলিদান দিতেই হয়।

যে আমগুলি এত ঝড়, সূর্যের তাপ সহ্য করে পরিপক্ক হবে, সেগুলো হবে ততোধিক মিষ্টি!

অর্থাৎ জীবনে দুঃখ, ত্যাগ, যন্ত্রণা হলো এমন পরীক্ষা যেটি শুধু মানুষ নয়, সাথে ফল, ফুল চারাগাছ, বৃক্ষ এমন প্রকৃতির মাঝে অবস্থিত একাধিক জীব প্রতিনিয়িত নিজেদের পরিপক্ক করতে এই সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত!

ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এরাই আমার মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক!
শুধু অনেকের সাথে আমার একটাই পার্থক্য আজ আর আমার জন্য কেউ প্রতীক্ষা করে না!
ঘরে ফেরার প্রতীক্ষা! সম্পর্কের নামগুলো আজ শুধু স্মৃতির পাতায়!

1000079170.jpg

সময়ের হাত ধরে মানুষের ব্যবহারের তারতম্য আমাকে একটু একটু করে ভেঙেছে কিন্তু এখনও ডালে ঝুলে আছি, সময়ের হাত ধরে পরিপক্ক হওয়ার সুযোগ পাবো কিনা জানা নেই!
তবে, ইচ্ছে আছে অনেক, যেগুলো আজও অধরা, সেগুলো প্রতিনিয়ত সৃষ্টিকর্তার সাথেই আজকাল একমাত্র ভাগ করে নি!

1000082323.jpg1000082326.jpg

আবেগ, অনুভূতি সকলের সাথে ভাগ করতে নেই, এই শিক্ষায় এখন আমি শিক্ষিত হয়েছি।

হ্যাঁ! এরজন্য অনেক তাপ সহ্য করতে হয়েছে, কথার যন্ত্রণা, অপমান, একাকীত্বের মাঝে মানুষের ব্যঙ্গ, সময়ের সাথে ব্যবহারে পরিবর্তন, অনেক মানুষের মাঝে থেকে বড় হতে হতে হঠাৎ চারপাশ ফাঁকা!
এরপর, খুব কাছের মানুষদের নিথর দেহ দেখবার যন্ত্রণা!
এমন একাধিক অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়েছে জীবনে!

যেখানেই যে থাকুক সকলের মঙ্গল কামনা করি, তবে আজ আমি ঈশ্বর ছাড়া আর কারোর সঙ্গ চাই না!
মিথ্যে সম্পর্কের নামে হাসির খোরাক হতে রাজি নই!
হিসেব করতে এখন আমি শিখে গেছি, এখন আর আমার আবেগ, অনুভূতি কেউ ব্যবহার করতে পারবে না!

1000082321.jpg1000082322.jpg

সকলের জীবনে সব থাকে না! মধ্য গগনের সূর্যের দিকে কতজন সোজা চোখে চাইতে পারে?
অস্তমিত সূর্যের দিকে অনেকেই চাইতে পারে, অর্থাৎ কোমল যেকোনো কিছুই নিজেদের মত করে পরিচালনা করা যায়, কিন্তু ভর দুপুরের সূর্য্যের দিকে সোজা চোখে চাইতে পারে এমন সাধ্য মানুষের আছে কি?

1000082328.jpg

বোঝা শব্দটি আজকাল আমার মনে বাসা বেঁধেছে, কিন্তু কারোর প্রাণ রক্ষার্থে মাথার উপরের ছাদ বিকিয়ে দিতে যে দুবার ভাবে না, যে সম্পর্কের নাম না থাকা সত্ত্বেও নিজের সমস্ত পুঁজি অবলীলায় দিয়ে দিতে পারে, যে কাউকে কথা দিয়েছে বলে, আর্থিক সংকট মেনে নিয়েও ফিরে যেতে চায়না পড়ে থাকা সম্পত্তিতে!
আজ সে বোঝা! বেশ অবাক হই! সেই মানুষগুলোর কথা ভেবে, যারা অন্যের দুর্বলতাকে নিজেদের সুবিধার্থে ব্যবহার করে থাকেন!

তাই, এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রাণ যায় যাক, আর কারোর প্রয়োজনের খোরাক হবো না!
এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, আর আমার এই লড়াইয়ের সাক্ষী যিনি, সেই পরমাত্মা নিশ্চই সঠিক বিচার করবেন।

কারণ, যার কেউ নেই, তার ভগবান আছেন, এটাও তো শিখেছি, কথার হাত ধরে!
তাই হয়তো একদিন আমিও ঘরে ফিরবো, যেখানে কেউ না কেউ আমার জন্য অপেক্ষা করবে! কে বলতে পারে!

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  
Loading...