আজকের মার্কেট ভ্রমণ এবং কেনাকাটা!

অনেকদিন পরে খুব প্রয়োজনে মার্কেট মুখো হতে হয়েছিল।
একদিকে ছিল কিছু প্রয়োজনীয় কেনাকাটা আবার সন্ধ্যে সাড়ে সাতটার সময় ছিল ফ্ল্যাটের মিটিং
মনে মনে ভাবলাম, মিটিং এ যখন উপস্থিত থাকতেই হবে, তাহলে একেবারে মার্কেট থেকে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিষগুলো একেবারে কিনে নিয়ে আসি, সেই তো তৈরি হতেই হবে।
বিশ্বাস করুন বাইরে বর্তমানে ভয়ে বেরোচ্ছি না!
নাহ্! ভয়টা মানুষের নয়, গরমের! রাস্তায় পা রাখতে রাখতেই বুঝতে পারলাম কি ভীষণ রকমের উতপ্ত আবহাওয়া বইছে বাইরে।

মার্কেট পৌঁছে দেখলাম পদ্ম ফুল, আর মনে মনে হাসি হেসে ছবি তুললাম, কারণ এই মুহূর্তে আমার রাজ্যে পদ্ম ফুলের ছড়াছড়ি রাজনীতিতে জয়লাভ করে।
প্রথমে গেলাম মুদির দোকানে কিনলাম চাপাতা, কিছু কাঁচা বাদাম আর একটা অ্যাসিড এর বোতল, বিগত কিছুদিন ধরে পুনরায় বাথরুমে জল নিকাশীতে সমস্যা দেখা দিয়েছে, আগামীকাল আবার একটা যুদ্ধ চলবে সেই নিয়ে!

![]() | ![]() |
|---|

এরপর গেলাম ফলের দোকানে, কিনলাম লিচু, আম এবং দু'রকমের কলা (মর্তমান এবং কাঁঠালী কলা), একজন ফল প্রেমী হয়ে জাম খুঁজছিলাম কিন্তু জানতে পারলাম সে এখনো মার্কেটে এসে পৌঁছায়নি! এরপর জুলুজুলু চোখে তরমুজ চেয়ে ছিল আমার দিকে, যেনো নিঃশব্দে নালিশ করছে, আমিও তো মৌসুমি ফল! চার চোখে দেখতে পারছিস না?
এই ফলের বিষয় আমি নোলা সামলানো বড্ডো দায়! মজা করে কথাটি বললাম তবে এটা সত্যি এবং এর পাশাপশি মৌসুমি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
উপরিউক্ত জিনিষ কিনে পৌঁছলাম সবজির দোকানে, কিনলাম, আলু, পেঁয়াজ, কাকরোল, পটল, উচ্ছে, বিট, মিষ্টি আলু, চিচিঙ্গা, গন্ধরাজ লেবু আর কিছু জিনিষ!
এরপর এক কেজি অমূলের টক দই কিনলাম, সব মিলিয়ে আমার দুটো হাতে কত ওজন ছিল সেটা খানিক আন্দাজ করতে পারবেন হয়তো!
বাড়ী পৌঁছে কোনরকমে জিনিষগুলো রেখে, দৌড়লাম মিটিং এ উপস্থিতি থাকতে, বিগত তিন মাস হিসেব নিকেষ সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা না হওয়ার ফলে, আজকে সাড়ে সাতটার থেকে রাত দশটা বেজে দশ মিনিট পর্যন্ত এক নাগাড়ে দাড়িয়ে থেকে সেই সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে যৌথভাবে।

সবচাইতে মজার বিষয়, আজকে আর একটি শিক্ষা দিনশেষে নিয়ে ঘরে ফিরলাম, আর সেটা হলো, সভ্য পোশাক পরিধান করলেই সভ্য হওয়া যায় না!
বেমালুম একজন এক্ মাসের মেন্টেইনেন্স এর টাকা আত্মসাৎ করবার পূর্ণ প্রয়াস করে অবশেষে ব্যর্থ হয়েছে!
ইতিপূর্বেও একই কাজ করে ফেরার হয়েছে ফ্ল্যাটের লোক, যারা নিজেদের সমাজে ফলাও করে ধনী প্রচারে কোনো কারপ্যনতা করে না, সে রকম মানুষ অন্যের কষ্টের অর্থ আত্মসাৎ করে পালিয়েছে!
এই ধরনের মানুষদের আদপেও আমি মানুষ বলে গণ্য করি না, সঙ্গে আমার এটাও দেখার অন্যের অর্থ আত্মসাৎ করে এরা কতদূর পৌঁছতে পারে!
অন্তরাত্মা এদের কিভাবে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে দেয়, কিংবা আদেও দেয় কিনা আমার এই নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ!
সত্যের জয় একটা সময় আসে, আর সর্বোপরি সত্যি একদিন সামনে আসবেই, মানুষকে প্রতারণা সম্ভব কিন্তু সৃষ্টিকর্তার চোখকে ফাঁকি দেওয়া কি সম্ভব?
সব মিলিয়ে এই মুহুর্তে চুপি চুপি অন্ধকার রান্নাঘরে গিয়ে কয়েকটি লিচু খেয়ে এসে লিখতে যখন বসলাম তখন মধ্যরাত!
তবে, মনে একটা প্রশান্তি, কারণ অর্থ হয়তো অনেকের চাইতে কম কিন্তু চুরি করে পালিয়ে না গিয়ে সর্ব সমক্ষে নিজের কথা রাখার সাহসিকতা দেখতে পারছি, এটা কি কম পাওয়া?




