এই শহর থেকে!

যানজট আর ভিড়ের মধ্যে দিয়ে নিত্যদিনের যাতায়াতের সময় মনে হয়, যদি ক্ষণিকের জন্য এই শহরের দূষিত আবহাওয়া ছেড়ে খানিক প্রশান্তির নিঃশ্বাস পেতে এমন কোথাও যাওয়া যেত যেখানে সবুজের আধিক্য বেশি, যেখানে এখনো শহরের আধুনিকত্য পুরোপুরি থাবা বসাতে পারে নি!
যেখানে স্যাটেলাইটের দ্বারা প্রাপ্ত নেটওয়ার্ক এর খানিক ঘাটতি থাকলেও প্রকৃতির নির্ভেজাল সৌন্দর্য্যের অভাব নেই!
যেখানে আজও আছে মানবিকতা, যেখানে প্রতিবেশীদের মধ্যে আছে আন্তরিকতা, যেখানে কেউ কারোর বাড়িতে যেতে চাইলে বেড়াজাল কিংবা আগাম অনুমতির প্রয়োজনীয়তা হয় না!
আছে কি আজও এমন কোনো জায়গা?

আমার জানা নেই, দিন দিন মানুষ যন্ত্রের দ্বারা আকাশ অধিগ্রহণ করে নিচ্ছে, আচ্ছা এরপর কি পাখিদের জন্য আকাশের সীমারেখা নির্ধারিত করে দেওয়া হবে?
মাঝেমধ্যে আমার দমবন্ধ হতে আসে, উন্নতির হাত ধরে সভ্যতার চাইতেও বর্বরতা অধিক চেয়ে যাচ্ছে দিন দিন!
হতে পারে আমি পিছিয়ে! হতে পারেবামার কাছে সভ্যতার পরিভাষা ভিন্ন!
সবটাই আমার নিজস্ব ভাবনা, আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে এই আধুনিক উন্নত প্রযুক্তি, ক্ষমতার প্রয়োগ করে দুর্বলকে নতজানু করবার প্রয়াসকে আমি সমর্থন করি কিনা, এক্ কথায় আমার উত্তর হবে, একেবারেই নয়।
আমি উন্নতির বিপক্ষে নই, আমি উন্নতির সপক্ষে তবে সেটি নিজ নিজ অবস্থান সুরক্ষিত করবার পাশাপশি অন্যের প্রতি সহমর্মিতা, সমবেদনার মত আবেগ অনুভূতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই উন্নতি ক্ষতি ছাড়া কিছুই বয়ে নিয়ে আসে না।

আগে বিশেষ আমল না দিলেও এখন বুঝতে শিখেছি, আমাদের পঞ্চেন্দ্রিয় চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা এবং ত্বক!
এদের মধ্যে জিহ্বা বড় সাংঘাতিক! কারণ যত বিপদ এই ইন্দ্রিয় বয়ে নিয়ে আসে, কথার ওজন বড় সাংঘাতিক!
সিদ্ধান্ত মস্তিষ্ক দ্বারা কিংবা মন দ্বারা যেভাবেই নেওয়া হোক, সেটির বহিঃপ্রকাশ ঘটে জিহ্বা দ্বারা, আর তাই যেকোনো সম্পর্ক কিংবা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমার জিহ্বা দ্বারা উচ্চারিত শব্দ কোনো কিছু গড়তে যেমন সক্ষম তেমনি, এই ইন্দ্রিয়ের অপপ্রয়োগ দ্বারা প্ররোচনার মত ক্ষতিসাধন করা, উস্কানি মূলক শব্দ, অথবা সিদ্ধান্ত থেকে গোটা বিশ্বে অশান্তি সৃষ্টি সম্ভব।
যেখানে অতি সাধারণ মানুষ নিত্যদিন খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থান এই তিনটি অতি প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে ঘাম ঝরাচ্ছে, তাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এই জিনিস পত্রের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে বিব্রত এবং বিরক্ত।
কারণ, প্রতিদিনের লড়াইয়ের পর এগুলো তাদের কাছে অহেতুক বাড়তি চাপ।
কি আশ্চর্য বিষয়! যেখানে সাধারণ মানুষের দ্বারা ক্ষমতার প্রাপ্তি সেখানে সেই ক্ষমতা অধিগ্রহণের পর, সেই সাধারণ মানুষ ব্রাত্য অর্থাৎ বর্জিত!
উন্নতির জন্য সাধারণ সভ্য মানুষ এর ভূমিকা সর্বাধিক, তবে ওই যে কথায় আছে, "চোর না শোনে, ধর্মের কাহিনী!"

![]() | ![]() |
|---|
সাধারণ মানুষের গলদঘর্ম করা উপার্জনের অর্থ ট্যাক্স দিয়ে ক্ষমতায় আসীন মানুষদের মাইনে হয়, সেখানে সেই সাধারণ মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম ঊর্ধ্বমুখী হবার ফলে, কখনও কখনও অনাহারে দিন যাপন করে, আর নিজের দেশে লুঠত রাজ চালিয়ে, অবশেষে বিদেশে গা ঢাকা দিয়ে বেহাল তবিয়তে দিন যাপন করছে অনেকেই।
সবচাইতে মজার বিষয়, এদের ক্ষেত্রে কোনো আইন বলবৎ করা হয় না, বিদেশের মাটি থেকে হিড়হিড় করে এদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কারোর আগ্রহ নেই, বরং একই পথ অবলম্বন করে আর কিছু মানুষ এই অসৎ পথ বেছে নেয়!
সত্যি বলতে আজকাল এই সোশ্যাল মিডিয়ায় দৌলতে বিশ্বের অনেক খবর এখন মুঠোর মধ্যে, আর সেসব দেখেই কেমন যেন দমবন্ধ হয়ে আসে, আমি একজন সাধারণ মানুষ হয়ে লজ্জিত বোধকরি, তবে যারা এই সকল অসাধু কর্মে লিপ্ত তাদের অভিধানে বোধকরি এই লজ্জা নামক শব্দটি নেই!
অর্থ আর ক্ষমতায় এমনভাবে লিপ্ত যে তারা যেকোনো রকম পৈশাচিক সিদ্ধান্ত নিতে এক্ মুহূর্ত ভাবে না!
সভ্যতা কিংবা উন্নতির পরিভাষার রং যদি লাল হয়, হিংসা হয়, তাহলে সেই প্রস্তর যুগটাই বোধহয় ভালো ছিল! কি জানি আমার জানা নেই, আপনাদের কাছে কি কোনো সদুত্তর আছে?





