অনুভব!

অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে তৃপ্তি এক সময়ের পরিচিত রাস্তায় চোখ রেখে ভাবছিল, অনুভব হলো, জীবনের সবচাইতে বড় শিক্ষক!
এখনো বাড়ি পৌঁছতে অনেকখানি পথ বাকি, ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে, তৃপ্তি পৌঁছে গিয়েছিল অতীতে!
ভালবেসে বিয়ে করেছিল তৃপ্তি! সংসারে শ্বাশুড়ি আর স্বামী। সরকারি চাকরি করে তৃপ্তি, আর স্বামী একটি বেসরকারি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে সিনিয়র ম্যানেজার পদে রয়েছে।
একসাথে ইউনিভার্সিটির গন্ডিতেই প্রেম বাসা বেঁধেছিল, এবং দুই পরিবারের সম্মতিতে বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হয়েছে তৃপ্তি আর অতনু!
লেখাপড়া সম্পন্ন করে দুজনে চাকরি পেয়ে, ২০২০ সালের শেষ দিকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে তৃপ্তি আর অতনু।
তৃপ্তির পরিবারে তার একটি বড় ভাই, আর মা, বাবা রয়েছে।
যদিও অতনু শহরের একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকে, মাকে নিয়ে কিন্তু অতনুর আদিবাড়ি উত্তর চব্বিশ পরগনার প্রত্যন্ত গ্রামে।
সেখানেই থাকে অতনুর বাবার বাকি ভাইয়েরা, এবং তাদের পরিবার।
তবে, যেহেতু অতনুর বাবা গত হয়েছে, তাই মাকে নিয়ে চাকরি পাবার পর, অতনু শহরে অফিসের কাছাকাছি ফ্ল্যাট কিনে নিয়েছিল।
আর বিয়ের পর সেই ফ্ল্যাটে এসে উঠেছিল তৃপ্তি।
বছর দেড়েক সুখেই কেটেছিল তৃপ্তির! তারপর একদিন কোলজুড়ে এলো একটি কন্যা সন্তান দিয়া!
তৃপ্তির জীবনটা এরপর থেকেই কেমন যেন বদলাতে শুরু করলো!
সন্তান জন্মের পরে বেশ কয়েক মাস তৃপ্তি বাবার বাড়িতেই ছিল, অফিস থেকে তিন মাসের ছুটি পেয়েছিল, সেদিক থেকে কোনো অসুবিধা হয়নি!
ঠিক আড়াই মাসের মাথায়, তৃপ্তি অতনুকে ফোনে জানিয়েছিল যে, এইবার সে তার ফ্ল্যাটে ফিরতে চায়।
যদিও এই সময়ের মধ্যে একদিন অতনু দেখে গেছে দিয়াকে কিন্তু শ্বাশুড়ি আসেনি একদিনের জন্যও দিয়াকে দেখতে!
অতনু তার মায়ের শরীর খারাপ জানিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিল তৃপ্তির মায়ের প্রশ্নের।
এরপর থেকেই তৃপ্তির বাবার বাড়িতে সকলের আচরণ কেমন যেনো বদলে যেতে থাকলো, নিঃশব্দে যেনো শ্বশুর বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত পেয়েছিল তৃপ্তি।
সেইমত, অতনুকে এসে নিয়ে যেতে বলেছিল তৃপ্তি কিন্তু অতনু অফিসের কাজের চাপ দেখিয়ে গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল।



তৃপ্তির ফেরার দিন তার বাড়ির লোক এক বারের জন্য তাকে পুনরায় আসার কথা বলেনি!
এরপর, তৃপ্তি বুঝেছিল, তার কন্যা সন্তানকে আসলে কেউ মেনে নিতে পারেনি।
অতনুর মা ছেলে চেয়েছিল, সে ভেবেছিল তার স্বামী তৃপ্তির পুত্র সন্তান রূপে ফিরে আসবে।
বেশ অবাক হয়েছিল সেদিন তৃপ্তি, শিক্ষিত অতনু এবং তার মায়ের মানসিকতা সহ, বিয়ের পর মেয়ে কতখানি পর হয়ে যায়, সেই অনুভব সেদিন বেশ ভালো ভাবেই হয়েছিল তৃপ্তির।
এরপর, ছোট্ট দিয়াকে ঘিরে নিজের জীবন ওই তিন কামরার একটি কামরায় গুছিয়ে নিয়েছিল তৃপ্তি।
অতনুর সপ্তায়ন্তে নেশা করে ফেরা, সময়ের সাথে পরকীয়া সবটাই মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মেনে নিচ্ছিল তৃপ্তি!
ভালবাসা যে সময়ের সাথে বদলে যায়, কিংবা পুরুষদের একসাথে একাধিক সম্পর্ক বয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা দেখে বেশ অবাক হয়েছিল তৃপ্তি!
কোনো লুকোচুরি ছিল না, অতনু অকপটে জানিয়ে দিয়েছিল তার নতুন প্রেমের কথা!
শ্বাশুড়ি জানতেন, তিনি সম্মতি জানিয়েছিলেন অতনুর এই বিষয়টি, কারণ হিসেবে দায় দিয়েছিল তৃপ্তিকে, পুত্র সন্তান হলে এমনটি হতো না!
তাছাড়া, পুরুষ মানুষের এমন একটু আধটু সম্পর্ক থাকেই!
মেয়েকে বুকে জড়িয়ে অনেক কেঁদেছিল তৃপ্তি!
নিজের মায়ের কাছে কিছু বলতে চায় নি, কারণ ভালবেসে বিয়ে করেছে সে, তাই ভালো মন্দের দায় তৃপ্তির নিজের।
![]() | ![]() |
|---|

যখন দিয়ার বয়স পাঁচ বছর, একদিন অতনু বিচ্ছেদ চেয়েছিল, তৃপ্তি একটিবার দিয়ার দিকে চেয়ে সম্পর্কটি ধরে রাখতে অনুরোধ করেছিল অতনুকে, কিন্তু বিশেষ কাজ হয়নি!
আসলে, তৃপ্তি সেদিন বুঝেছিল, মেয়েদের চাওয়ার কোনো মূল্য শ্বশুর বাড়িতে থাকে না!
এছাড়াও, অতনুর বাবার বাড়ির আত্মীয় স্বজনের তৃপ্তিকে পছন্দ ছিল না, কারণ চাকরি করা পুত্রবধূকে তারা মেনে নিতে পারেনি।
অতনু বলেছিল দিয়ার খরচ বাবদ কিছু অর্থ মাসে মাসে সে পাঠিয়ে দেবে, কিন্তু তৃপ্তি নিতে রাজি হয়নি।
এরপর, তৃপ্তি নিজের মেয়েকে নিয়ে উঠেছিল তার অফিসের এক বান্ধবীর কাছে, এরপর সময়ের সাথে এক্ কামরার একটি ফ্ল্যাট তৃপ্তি কিনে নিয়েছিল লোন নিয়ে!
আজকে, দিয়া বড় হয়েছে, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সেই মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির বিদেশী শাখায় কাজ করছে, যেখানে ভারতীয় শাখায় অতনু সিনিয়র ম্যানেজার পদে নিয়োজিত ছিল!
দিয়ার কাছ থেকে জানতে পেরেছিল তৃপ্তি, ওই কোম্পানি থেকে অতনুকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে!
কারণ, মহিলা সংক্রান্ত ছিল! ওই কোম্পানির হিউম্যান রিসোর্স পলিসি খুব কড়া!
অফিসের কোনো একটি মহিলা অতনুর নামে অভিযোগ জানায়, এবং সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে, অতনুকে বহিষ্কার করা হয়!

তৃপ্তি ছোট থেকেই দিয়ার সমস্ত জায়গায় নিজের নাম নথিভুক্ত করেছে, বাবার নাম কোথাও উল্লেখ করেনি কোনোদিন!
দিয়া বড় হয়েছে, তৃপ্তি তার কাছে সবটাই জানিয়েছে, এবং এখন দিয়াকে নিয়েই তৃপ্তির জীবন।
পরে তৃপ্তি শুনেছিল, যার কারণে তৃপ্তিকে অতনু ছেড়েছিল, সেই মহিলাও অতনুকে ছেড়ে চলে গিয়েছে, এবং অতিরিক্ত নেশার কারণে লিভার সিরোসিস এ ভুগছে অতনু!
গ্রামের জমি জায়গা থেকে নিজের প্রাপ্ত অংশ বেচে চিকিৎসা চলছে!
অতনু একবার যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু তৃপ্তি নিজের অনুভবকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল, কারণ সেটাই তো তার জীবনের প্রধান শিক্ষক, তাই অর্জিত শিক্ষাকে ভুলে গেলে পুনরায় ভুল করবার একটা সম্ভবনা রয়ে যায়।
ঘোর কাটতেই, দেখলো নিজের স্টেশন চলে এসেছে, এবার ঘরে ফেরার পালা।




This is such an emotional and meaningful story. I really liked how you showed that life itself can become our greatest teacher. Trupti went through betrayal, loneliness, disappointment, and many difficult situations, but instead of giving up, she chose to become stronger and build a better life for herself and her daughter.
Her decision to raise Diya independently and create a secure future for her is truly inspiring. The ending also shows that sometimes we don't need revenge; life itself teaches people the consequences of their choices. Trupti learned from her painful past and chose not to repeat the same mistakes. A powerful story about self-respect, motherhood, strength, and moving forward in life.
0.00 SBD,
0.95 STEEM,
0.95 SP