ভেবেছেন কখনো?Ever thought?

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক কিছু আছে যা আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী, তবে আফসোসের বিষয় ব্যক্তি কিংবা বস্তু উভয় ক্ষেত্রেই উপস্থিতির কদর করতে ভুলে যাই প্রতিদিনের সংঘর্ষের জেরে সেই সকল মানুষ সহ বস্তুদের।
আমাদের মধ্যে কতজন মানুষ নিত্যদিন মায়ের আত্মত্যাগের কথা মাথায় রেখে চলি?
অনেকেই হয়তো এই প্রশ্নের উত্তরে মনে মনে ভাববেন নিজের কথা, তবে নিজেকে যদি এই দলভুক্ত মনে করেন, তাহলে একটু অপেক্ষা করে কয়েকটি প্রশ্ন নিজেকে করে দেখুন, যদি উত্তর সদর্থক হয়, তাহলে আপনি অবশ্যই সেই মুষ্টিমেয় ব্যতিক্রমী মানুষদের তালিকাভুক্ত!
আচ্ছা, শেষ কবে নিজের মা কিংবা বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন আপনি তাদের কতখানি ভালবাসেন?
প্রতিদিন আমরা নালিশ করতে কিন্তু ভুলিনা, তবে যেটি আসলে করা উচিত সেটি পালন করতে আর প্রায়শঃই কর্পন্যতা করি!

বছরের একটা দিনকে ঘটা করে মাতৃ এবং পিতৃ দিবস পালন করে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দিয়ে দায়সারা গোছের ভালোবাসা দেখানোটাই কি যথেষ্ট?
আমার অবশ্য জানা নেই, কারণ অনেক আধুনিক দেখন দারি আমার পছন্দের তালিকার আওতাভুক্ত নয়।
এবার আসবো প্রকৃতির অনেক অবদানের মধ্যে একটি যাকে জীবন আখ্যায়িত করা হয়েছে।
হ্যাঁ! ঠিকই ধরেছেন, আমি জলের কথাই বলছি।

এই জলের কারণে পৃথিবীর বুকে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে।
তবে, যে সকল, দেশে এবং রাজ্যে জলের অভাব দেখতে পাওয়া যায়, তাদের ব্যতিত;
যে সকল দেশে কিংবা রাজ্যে এই জলের অভাব নজরে পড়ে না, আমি লক্ষ্য করে দেখেছি কি ভীষণ রকম জলের অপচয় সেখানে চোখে পড়ে!
প্রকৃতি থেকে বিনামূল্যে প্রাপ্ত এই জলকে পরিশোধন করে প্যাকেজ ড্রিঙ্কিং ওয়াটার এর নামে চড়া মূল্যে আজ বাজারে বিক্রয় করছে বিভিন্ন কোম্পানি, এবং এদের মধ্যে বেশকিছু কোম্পানি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়েছে।

কি বুঝলেন? বিনামূল্যের জিনিষ মানুষ মূল্য দিয়ে কেনে যদি বেচার ধরন জানা থাকে।
তাই একদিকে জলের অপচয় যেমন বন্ধ হচ্ছে না, তেমনি বিক্রিত পানীয় জল কেনাও অব্যাহত।
গত দুদিন এক্ প্রকার বিরক্তিকর সময় অতিবাহিত করেছি।
অনেকেই জানেন আমি ফ্ল্যাটে থাকি, তাও আবার চারতলায়!

সোমবার রাত পর্যন্ত সবকিছুই ঠিক ছিল, তবে নতুন সকাল একদিকে দোলযাত্রা উৎসবের গন্ধে মাতোয়ারা কিন্তু সকলের জন্য একটি দিন এক রকমের অভিজ্ঞতা বয়ে আনে না!
আমার ক্ষেত্রেও তেমনি ছিল মঙ্গল বারের সকাল।
ঘুম থেকে উঠেই দেখি কল থেকে জল পড়ছে না!
ভাবলাম, কেউ জলের পাম্প চালায় নি, একটু অপেক্ষা করলে বোধহয় জল চলে আসবে।
তবে, সেই অপেক্ষার অবসান যে এত সহজে হবে না, সেটা সেদিন বুঝতে পারিনি!
মঙ্গলবার বেলায় জানতে পারলাম পাম্প খারাপ আর ফ্ল্যাটে প্রায় সকলেই অনুপস্থিত, পাশাপশি দোলযাত্রা পালিত হবার কারণে মিস্ত্রি পাওয়া যায়নি!
এরপর গোটা দিন ঘরে থাকা জল দিয়ে কাজ সারলাম এই ভেবে যে, হয়তো বুধবার মিস্ত্রি আসবে পাম্প ঠিক করতে কিন্তু বুধবার ও উপস্থিত মানুষের কোনো উদ্যোগ দেখিনি মিস্ত্রি ডেকে পাম্প ঠিক করানোর!
বুধবার জল কিনে ঘরের কাজ সহ বাকি কাজ সারলাম, সত্যি বলতে মানুষের মধ্যে মান আর হুশ না থাকলে তাকে মানুষ বলতে আমি নারাজ।
![]() | ![]() |
|---|
আমি আর আমার ভাবনায় ভাবিত মানুষগুলো একদিন বুঝবে, অন্যদের শায়েস্তা করবার মানসিকতা বহন করলে একদিন নিজেকেও সেই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।
কাউকে না কাউকে সৃষ্টিকর্তা তাদের শায়েস্তা করতে পাঠিয়ে দেন, কিংবা এমন কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, যখন পূর্বে নিজেদের গর্হিত কৃতকর্মের কথাওনে এসে যায়।
আজকে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার পরে জল এসেছে।
সমস্ত কাজ সারতে সন্ধ্যে হয়ে গিয়েছিল, জানালায় দাঁড়িয়ে অস্তমিত সূর্যের ছবি তুলতে তুলতে ভাবছিলাম, একটাই সূর্য্য কিন্তু একটি দিন বিভিন্ন মানুষের জন্য বয়ে নিয়ে আসে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা, ভেবে দেখেছেন কখনো?




