Homemaker- A full-time job without recognition! গৃহিণী—স্বীকৃতিবিহীন এক পূর্ণকালীন পেশা!

আচ্ছা, আপনার পেশা কি? যদি উত্তরের সাথে থাকে মোটা মাসিক রোজগার তাহলে তার প্রতি দৃষ্টি পৃথক হয়, সেটা মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে!
কিন্তু আজও অনেকেই আছেন যারা, হোম মেকার কিংবা গৃহিণীদের যোগ্য সম্মান দিতে নারাজ!
অথচ, একটি নারী তার গোটা জীবন নিজের অনেক স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে, একটা পরিবারের একাধিক সদস্যের ইচ্ছে, প্রয়োজন সেটা তাদের পছন্দের খাবার সময় মত সামনে হাজির করা থেকে শুরু করে;
সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে, সেই সন্তানদের শিক্ষা থেকে শুরু করে তাদের মানুষের মত মানুষ করবার যে দৈনন্দিন যুদ্ধের সামিল,

অনেকেই এই কাজগুলোকে অতি সাধারণ কাজের সাথে তুলনা করে এবং মনে করেন অর্থ উপার্জন করতে এলেম প্রয়োজন, কিন্তু ঘরের কাজ হলো অতি সহজ!
মুশকিল হলো, অনেক শিক্ষিত মানুষের মানসিক ধারণা আজও এত নিম্ন মানের, যারা সমাজে তো খুব বড় গলা করে সর্বসমক্ষে নারী স্বাধীনতার বুলি ঝাড়েন, কিন্তু ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে তারাও ঘরের মহিলাদের ঘরের অভ্যন্তরের আসবাব মনে করেন এবং তাদের সেভাবেই ব্যবহার করেন!
অবাক হবেন না, কিংবা বিষয়টিকে গায়ে মাখবেন না!
যদি নিজেকে আপনি ব্যতিক্রমী মনে করেন, তাহলে কিছু প্রশ্ন রইলো আপনার জন্য, সময় পেলে এর উত্তর খুঁজে দেখবেন, তাহলেই নিজের অবস্থান সুস্পস্ট হয়ে যাবে।
আপনি নিজের ঘরের মহিলাদের সামাজিক সাফল্যের জন্য নিজে কতখানি অবদান রেখেছেন?
অর্থাৎ ধরুন কোনো কারণে আপনার বাড়ির মহিলা কোনো পেশায় যুক্ত আছেন, আপনি কতদিন তার কাজগুলো করে তাকে সহযোগিতা করেছেন?
দেখুন, এই যে লেখায় পটি পরিষ্কার করবার কথা লিখলাম, এটা নিয়ে দয়া করে নাক শিটকাবেন না!
কারণ, একটু মহিলা বাইরে কাজ করে এসেও, কখনও অসুস্থ স্বামী, সন্তান এমনকি কখনও কখনও অসুস্থ শ্বশুর শ্বাশুড়ির পটি বিনা অভিযোগে পরিষ্কার করে থাকেন।

অফিসে কাজ করলে কিংবা যেকোনো পেশায় সাপ্তাহিক ছুটি পাওয়া যায়, কখনও নিজের বাড়ির সেই সমস্ত গৃহীদের দিকে তাকিয়ে দেখবেন, সকলের আগে ঘুম থেকে উঠে, ঘুমোতে যান সকলের শেষে!
যদি সে উপার্জন না করে তাহলে, কথার খোঁচা, কি করো সারাদিন?
সন্তান যদি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল না করে, তার দায় সম্পূর্ণ বহন করতে হয় সেই গৃহিনীকেই!
কি অবাক বিষয়! সন্তান কি কারোর একর দায়িত্ব?
অথচ, যদি সেই গৃহিণী নিজের বাবার বাড়িতে যাবার নাম উচ্চারণ করে, মুখ শুকিয়ে যায় গোটা পরিবারের, কারণটা কি জানেন?
কারণ, বাড়িতে এই যে ওভারটাইম বিনা মূল্যের কাজের লোক, যাকে গৃহকর্মী নামে সমাজ আখ্যায়িত করে, তাদের অনুপস্থিতি সময়মতো নিজেদের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের রসদ সরবরাহ করতে কিছুদিনের জন্য বিরত থাকবে এই ভয় তাদের মধ্যেও কাজ করে,
কিন্তু বাস্তব স্বীকার করতে বাধে, তাই অন্যান্য অজুহাত থাকে, আর সেটা নিজেদের বয়স্ক মা, বাবা হতে পারেন, আবার নিজের ভালবাসার অভিনয় থাকতে পারে, ব্যক্তি বিশেষে এই অজুহাত পরিবর্তিত হয়!
আজকের লেখাটা আমি সেই সকল নারীদের উদ্দেশ্যে লিখছি, যারা মনে করেন এটাই একটি আদর্শ নারীর ভূমিকা!
যেখানে সম্মান এর পরিবর্তে আছে স্বীকৃতিহীন ভর্ৎসনা, যেখানে কাজের নিরিখে বিভাজিত মহিলা, এবং পুরুষের ভূমিকা, সেটিকে আর যাই হোক সুস্থ্য পারিবারিক পরিবেশ বলতে আমি নারাজ!
কখনও যদি এই গৃহিণীরা নিজেদের এই সময়ের মূল্য হিসেবে অর্থ দাবি করেন, অনেক পুরুষ সর্বস্ব বেচেও তার মূল্য চুকাতে পারবেন না, কেনো বলছি জানেন?
কর্মক্ষেত্রে কাজের সময় নয় ঘণ্টা, সাথে সাপ্তাহিক ছুটি, আর অন্যদিকে একজন গৃহিণী কত ঘন্টা কাজ করেন? হিসেব কষে নেবেন, আর হ্যাঁ! এদের কিন্তু কোনো সাপ্তাহিক ছুটি বলে কিছু থাকে না!
যে সময়টা এরা সংসার ধরে রাখতে ব্যয় করেন, এর অর্ধেক সময় অতিবাহিত করলে, অনেকের চাইতে অনেক বেশি উপার্জন করতে এরা সক্ষম, তাই একটা আঙ্গুল কোনো গৃহিণীর দিকে তুলে তার অস্তিত্বকে অপমান করবার পূর্বে নিজেদের দিকে কটি আঙুল রয়েছে দয়া করে একবার গুনে নেবেন!
আর হ্যাঁ! লেখাটা অনেক পুরুষের আতে ঘা দিতে পারে, কারণ সত্য সদাই তেতো হয়, তবে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

