স্থাপত্যের আড়ালে লুকিয়ে বিশ্বাস!

in Incredible India18 hours ago

1000090137.jpg

(লক্ষী নারায়ণ মন্দির - হিমাচল প্রদেশ!)

বিশ্বাস বড় ভয়ংকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সময়! যা দেখা যায় না, তাতে যতটা বিশ্বাস, যে বা যারা সাথে রয়েছে, তাদের প্রতি বিশ্বাসের খামতি দেখা যায় অহরহ!

বাতাসের উপস্থিতি অনুভব করা যায়, তাই তার উপস্থিতিকে বিশ্বাস করে মানুষ, এছাড়াও বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রমাণ রয়েছে।

এরপর, আস্থার হাত ধরে সৃষ্টিকর্তার উপস্থিতিকে মানুষ বিশ্বাস করে আসছেন যুগ যুগ ধরে!

সকলেই তাদের দেখতে না পেলেও তার অস্তিত্ব রয়েছে এমনটা বিশ্বাস করে থাকেন অধিক সংখ্যক মানুষ, যারা নাস্তিক তাদের বিষয় ভিন্ন!

চোখে না দেখা, কানে না শোনা, স্পর্শ করতে না পারা এমন অনেক কিছুই ইহজগতে রয়েছে যাদের অস্তিত্বের প্রতি আমাদের অগাধ আস্থা এবং বিশ্বাস, অথচ একসাথে অনেক বছর পথ চলা,
এক্ ছাদের নিচে বসবাস করা, একসাথে ভাব বিনিময়ের সুযোগ, সবটা থাকা সত্ত্বেও আজ কোথাও যেনো ফিকে হয়ে যাচ্ছে বিশ্বাস!

1000090134.jpg

(কল্পায় অবস্থিত মা চন্দ্রিকা দেবী কিলা মন্দির!)

আমি এটি কখনোই বলবো না, অর্থাৎ আমার অভিমতে এই অন্দরমহলের বিশ্বাস একটা সময় যে ছিল না এমনটা কিন্তু নয়, কিংবা এখনো একেবারেই বিলীন তেমনটিও নয়!

তাহলে সমস্যা কোথায়? সেই বিষয়ে যাবার আগে কিছু কথা না উল্লেখ করলেই নয়, আর সেটা হলো, একটা সময় যখন মোবাইল আসে নি, কিন্তু ল্যান্ডফোন ছিল, এবং তখনও চিঠির আদান প্রদান হতো, সেই সময়ের কথা বলছি;

ওই সময়ে বিশেষত বাড়ির মহিলাদের অধিকাংশ থাকতেন বাড়ির অন্দরমহলে, আর পুরুষ কাজের সূত্রে প্রত্যহ বাইরে যেতেন!

আবারও বলছি সে সময়েও ব্যতিক্রমী বিষয় দেখা যেতো, তার জীবন্ত উদাহরণ আমার পরিবার।

তবে, আজকে ব্যতিক্রমী নয়, বরং অধিক সংখ্যক ক্ষেত্রে দ্রষ্টব্য বিষয় নিয়ে লিখতে হাজির হয়েছি।
বিষয়টিতে বিস্তারিত যাবার পূর্বেই উল্লেখ করে দেওয়া ভালো কোনো রকম সহমতের প্রত্যাশা না করেই লেখাটি তুলে ধরছি, যেটি একান্তই নিজস্ব অভিমত!

যে সময়ের কথা উল্লেখ করছি, সে সময় নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সময়ের আগেই বিয়ে দিয়ে দেওয়ার প্রচলন ছিল, ফলে মেয়েদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পূর্ণ করবার অবকাশ প্রায় ছিল না বললেই চলে!

কম বয়সে সন্তান প্রসব এবং তারপর তাদের বড় করা নিয়ে সংসার, এটাই অধিক চোখে পড়ত।
আর, যদি মেয়ের বাবার আর্থিক অবস্থা শ্বশুর বাড়ির তুলনায় খারাপ থাকতো তাহলেতো কোনো কথাই নেই!

সেক্ষেত্রে না রোজগার করবার সাধ্য, আর না ফেরার সাহস সব মিলিয়ে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া কোনো পথ না থাকায় অনেকেই সংসার করে গেছেন, আর কেউ বিশ্বাস করুন কিংবা নাই করুন অনেকাংশে এটাই সত্যি!

আরেকদিকে যোগাযোগ মাধ্যম আজকের মত না থাকায়, বাড়ি ফিরে কর্তা অর্থাৎ গৃহস্বামী যেটাই বলতেন, সেটাই বেদবাক্য!

যে সংসারের খরচের যোগান দিচ্ছেন, তার কথার বিরুদ্ধচারণ করবার ধৃষ্টতা দেখাবে এমন সাধ্য ছিল না সেই সময় অনেকেরই।

তবে কেউ বিশ্বাস অটুট রাখুক কিংবা নাই রাখুক;
একে অপরকে বিশ্বাস করতেন সেই সময়!

আমার অনেক সত্য ঘটনা জানা রয়েছে, যেটি আমি প্রায়শঃই আমার জেঠিমার কাছ থেকে শুনেছি, যেটি প্রমাণ করে, সেই সময়তেও অপরাধ ছিল লাগামছাড়া!

পার্থক্য একটাই, এখন অনুপাত সমান!
আর সেই সময় পুরুষদের অপরাধের আধিক্য ছিল অধিক।
হতে পারে আজ অনেকেই বলবেন সেই সময় মানুষের অধিক ধৈর্য্য ছিল!
তবে, আমি বলবো তার চাইতেও অধিক ছিল সামাজিক বাধ্য বাধকতা!

1000089921.jpg

(চালি, হিমাচল প্রদেশের কালী তিব্বা মন্দির!)

আজ যেমন কেউ তোয়াক্কা করে না, কোন পোশাক পড়লে পাশের বাড়ির লোক কি বলবেন, আজ যেমন কেউ চিন্তিত নয়, নিজের সংসার ভাঙনের মুখে পড়লে সমাজে মুখ দেখাবে কি করে!

এ সমস্ত ভাবনা একটা সময় কাজ করতো বলেই হয়তো ধৈর্য্যের নামে সহ্য করতেন অন্দরমহলে থাকা মানুষগুলো!

আজকে শিক্ষার হাত ধরে সমান সুযোগ, সমান উপার্জন তাই আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা সমান হবে এই প্রত্যাশা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বাসের ফাটল আজ সহজেই ধরা পড়ে যায় প্রযুক্তির কারণে, আর সেই সময় এই ফাঁকের সুযোগ নিয়েছেন অনেকেই!

এছাড়াও শিক্ষা, সমাজ ইত্যাদি ভাবনাগুলো আগে মানুষদের ভাবালেও এখন সেসব নিয়ে অনেকেই ভাবে না!

আর আমি এই বিষয়টি সমর্থন করি! নিজের যোগ্যতা থাকলে, সেখানে সম্মান চাওয়া এবং পাওয়া অন্যায় নয়।

এছাড়াও পরিবারের সমর্থন এখন অনেকখানি বেড়ে গিয়েছে, সে মেয়ে তাদের কাছে ফিরে যাবে না যাবে না তার একান্তই নিজস্ব বিষয়, তবে এখন অত্যাচার (শারীরিক এবং মানসিক) সহ্য করে টিকে থাকার পরামর্শ খুব একটা কেউ দেয় না।

যুগ যুগ ধরে, নিজের দেশের বাইরেও সমগ্র বিশ্বজুড়ে যে স্থাপত্য বিশ্বাসের হাত ধরে গড়ে উঠেছে এবং আজও তারমধ্যে অনেক স্থাপত্য অক্ষুন্ন রয়েছে, তারা সেই বিশ্বাসের বার্তা বহন করে, যাকে সচক্ষে হয়তো কেউ কখনো দেখেনি!

ঠিক অপরপক্ষের একসাথে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে বিশ্বাসে ফাটল সুস্পষ্ট!

বিভিন্ন ধর্মস্থলের উপস্থিতি কি সেই বার্তাই বহন করছে? আমার জানা নেই, আপনাদের আছে?

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  
Loading...
 17 hours ago 

Much appreciated your support @steemcurator04, and my dear @adeljose 🫰

Your photography and personal blog is always a pleasure to read. It offers a wonderful glimpse into your culture, which I find truly fascinating.

I'd also like to leave you with a small challenge: I warmly invite you to share your work in the Moments in Focus community (which I created). Even if it's just one post a week—a single photo and the story behind it—it would be great to have you there.

All the best, and happy posting!