মুক্ত বাতাসে পুরোনো স্মৃতির গন্ধ! The essence of old memories!

আগের লেখায় আপনাদের সাথে পুরোনো স্মৃতি জড়িয়ে থাকা শৈশবের অনেক খানি লেখায় তুলে ধরছি।
যেহেতু আমি একজন বাঙালি, কাজেই শৈশবের সাথে স্থানীয় খাবারের স্থানের যে পুরোনো সংযোগ এবং স্মৃতি রয়েছে আজকের লেখায় সেটার উল্লেখ করতেই হাজির হয়েছি।
আমার বাবা একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, এবং সেটাও উড়োজাহাজের বিষয়টি পূর্বেও আমার অনেক লেখায় উল্লেখ করেছি!
তাহলে আজকেও বিষয়টির পুনরাবৃত্তি করছি কেনো?
কারণ দুটি, যার প্রথমটি হলো, ইতিপূর্বে আমার যে বান্ধবীর বাড়ির ছবি আপনাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছি, সেই বান্ধবীর পিতা এবং আমার পিতা একই অফিসের কর্মকর্তা ছিলেন, তবে ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন উভয়েই।
আরেকটি কারণ হলো, আমার বাবাকে কাজের সূত্রে দেশে তথা বিশেষ প্রায়শঃই যেতে হতো, এবং ফেরার সময় সঙ্গে আর কিছু নিয়ে ফিরুক বা নাই ফিরুক সেই দেশের নামকরা রন্ধন প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আনতে ভুলতেন না।
এছাড়াও, এই দেশের জনপ্রিয় খাবার তৈরির পদ্ধতি জেনে, তবেই তার বাড়ি ফেরা!
![]() | বিয়ের মরশুমে রেস্টুরেন্টের একপাশ সাজানো হয়েছে |
|---|
বিষয়টির পিছনের উদ্দেশ্য ছিল, আমার বাবা, বাড়ি ফিরেই আমাদের বেশ অন্যরকম খাবার তৈরি করে চমক দেবাই ছিল এর পিছনের উদ্দ্যেশ্য!
এরকম ভাবেই আমার ভিন্ন ভিন্ন দেশের খাবারের সাথে পরিচয় সেই শৈশব থেকেই।
আমার শৈশবে অনলাইন খাবার পরিষেবার মতো কোনো অ্যাপ ছিল না, আজকের মতন, ভাগ্যিস!
বাড়িতে তৈরি খাবার খেয়েই আমার বেড়ে ওঠা, যেকোনো অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্বাদের খাবার তৈরি করা হতো চিরাচরিত বাঙালি খাবারের পাশাপশি।
এতক্ষণ ধরে খাবারের সাতকাহন বিস্তারিত তুলে ধরবার পিছনের কারণ হলো, সেই জ্ঞান হবার পর থেকেই আমাদের বাড়ি থেকে কিছু দূরে একটি পাঞ্জাবি রেস্টুরেন্ট (শের - এ পাঞ্জাব) অবস্থিত।
![]() | রেস্টুরেন্ট |
|---|
সেই সময় বাবার অফিসের এক বন্ধুর বাড়িতে যাবার পথে চোখে পড়তো, দুজন বেশ স্বাস্থ্যবান পাঞ্জাবি দুটো চেয়ার নিয়ে রেস্টুরেন্টের বাইরে বসে থাকতেন!



মাঝারি আকারের রেস্টুরেন্টে মাঝে মধ্যেই খাবারের ইচ্ছে হতো, তবে বাবা সেখানে বসিয়ে খেতে না দিলেও, সেখান থেকে খাবার কিনে এনে বাড়িতে খাওয়া হতো অবশ্য। তবে সেটা খুবই কম!
যারা মোঘলাই খাবার পছন্দ করেন তাদের জন্য, এই রেস্টুরেন্ট আদর্শ!
এখন রেস্টুরেন্ট আকারে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে খাবারের তালিকা।
এখন খাবার কেবলমাত্র মোঘলাই খাবারেই সীমাবদ্ধ নেই।
![]() | অভ্যন্তরীন সজ্জা |
|---|
রেস্টুরেন্টের প্রবেশদ্বার | ![]() |
|---|
তবে ভিড় বেড়েছে বৈ কমেনি! দূর দূর থেকে নামি দামি গাড়ি করে মানুষ এই রেস্টুরেন্টে ভিড় জমান বছরের প্রায় সব মরশুমেই।
ব্যক্তিগতভাবে, আমি সেই সাবেকিয়ানা মিস করি!
যেহেতু শুরুর সেই স্মৃতি আজও আমার কাছে সুস্পস্ট তাই খাবারের মানের পরিবর্তন সহ, অন্যান্য পরিবর্তন আমি উপলব্ধি করতে পারি।
![]() | ![]() স্বাগত জানাতে পাঞ্জাবি পরিহিত নারী এবং পুরুষ |
|---|

এখন সাজসজ্জা বৃদ্ধি পেয়েছে, আধুনিকতা জায়গা করে নিয়েছে, খোলা আকাশের নিচে বসেও যেমন খাবার খেতে পারেন, তেমনি ছাদের নিচে বসেও!
![]() | ![]() |
|---|

এইদিন মুক্ত বাতাসে, খোলা ছাদের নিচে, অবশিষ্ট শীতের রোদ্দুর উপভোগ করতে বাইরেই বসেছিলাম।
একটি বিষয় আমার বেশ পছন্দের লেগেছিল, এই পরিবর্তনের মাঝেও শীতকালীন ফুলের উপস্থিতি রেস্টুরেন্টের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য্যকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
যদিও অন্যান্য ছবি তোলার দিকে মনোযোগ অধিক থাকায়, খাবারের ছবি তোলা হয় ওঠেনি,
তবে, বাকি ছবিগুলো লেখার মাঝে তুলে ধরছি।
রেস্টুরেন্টের নাম শের এ পাঞ্জাব অর্থাৎ ভারতে অবস্থিত একটি রাজ্য পাঞ্জাব এর বাঘ!
নামের কতখানি গুরুত্ব সেটি বোধকরি সাবেকিয়ানার সাথে রান্নার মেলবন্ধন অর্থাৎ পাঞ্জাবি স্পাইসি খাবারের সাথে বেশ যায়!


.png)







