যে দুআ আল্লাহ ফেরান না
চট্টগ্রামের এক গলিতে থাকতেন করিম মিয়া, পেশায় রিকশাচালক। বয়স পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই। সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলত। তার একটাই স্বপ্ন—ছেলেকে হাফেজ বানানো।

কিন্তু ছেলে রাশেদের আগ্রহ ছিল অন্যদিকে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, মোবাইল গেম, রাত জেগে আড্ডা দেওয়া—নামাজের ধারেকাছেও যেত না সে। করিম মিয়া বহুবার বুঝিয়েছেন, বকা দিয়েছেন, কেঁদেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
একদিন রাতে করিম মিয়া রিকশা নিয়ে বাসায় ফেরার পথে মসজিদের সামনে থামলেন। এশার নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় ইমাম সাহেবের সাথে দেখা। তিনি এগিয়ে গিয়ে বললেন, "হুজুর, আমার ছেলেটার জন্য একটু দুআ করবেন। ও নামাজ পড়ে না, দ্বীনের পথে নাই।"
ইমাম সাহেব মুচকি হেসে বললেন, "আপনি নিজে ওর জন্য দুআ করেন তো? প্রতিদিন?"
করিম মিয়া মাথা নিচু করে বললেন, "করি হুজুর, কিন্তু মনে হয় আল্লাহ শুনছেন না।"
ইমাম সাহেব বললেন, "ভাই, তাহাজ্জুদের সময়টা চেষ্টা করেছেন? রাতের শেষ ভাগে, যখন আল্লাহ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে নেমে আসেন, সিজদায় গিয়ে কাঁদেন। দুআ ফেরানো হয় না, শুধু সময় লাগে কবুল হতে।"
সেদিন থেকে করিম মিয়া প্রতি রাতে রিকশা রেখে এসে তাহাজ্জুদ পড়তে শুরু করলেন। সিজদায় গিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতেন, "ইয়া আল্লাহ, আমার ছেলেটাকে তুমি হেদায়েত দাও। ওকে তোমার পথে ফিরিয়ে আনো।"
মাস গেল, বছর ঘুরল। রাশেদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না। উল্টো এক রাতে বাবা-ছেলের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হলো। রাশেদ রাগ করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
করিম মিয়া সেই রাতেও সিজদায় গিয়ে কাঁদলেন। পরদিন ফজরের নামাজ পড়ে ঘরে ফিরে দেখেন, রাশেদ বারান্দায় বসে আছে, চোখ লাল।
"আব্বা," রাশেদ ধরা গলায় বলল, "রাতে বন্ধুর বাসায় ছিলাম। ও ঘুমানোর আগে তাহাজ্জুদ পড়ল। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন এত রাতে ওঠে। ও বলল, তার মা প্রতি রাতে তার জন্য কাঁদে, তাই সেও এখন কাঁদতে শিখেছে।"
রাশেদ থামল, তারপর বলল, "আব্বা, আপনিও কি প্রতি রাতে... আমার জন্য?"
করিম মিয়া কিছু বলতে পারলেন না, শুধু মাথা নাড়লেন।
রাশেদ বাবার হাত ধরে বলল, "আব্বা, আজ থেকে আমাকেও শিখিয়ে দিন কীভাবে সিজদায় যেতে হয়।"
সেই রাতে বাবা-ছেলে একসাথে মসজিদে গেলেন এশার নামাজে। বহু বছর পর করিম মিয়া তার ছেলেকে পাশে নিয়ে নামাজে দাঁড়ালেন।
দুআ কখনো বিফলে যায় না। হয়তো যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে আসবে না, হয়তো যে সময়ে চেয়েছেন সে সময়ে আসবে না—কিন্তু আল্লাহ প্রতিটি চোখের পানি হিসাব রাখেন।
কখনো হাল ছাড়বেন না। যাকে ভালোবাসেন, তার জন্য রাতের অন্ধকারে সিজদায় গিয়ে কাঁদুন। আল্লাহ শুনছেন, শুধু সময়ের অপেক্ষা।



En mi experiencia, la foto del rickshaw en la calle de Chittagong me hizo sentir la carga cotidiana de Karim mientras buscaba el Tahajjud para su hijo. What I learned is that a nightly moment of humility can turn a strained relationship into a shared practice, just like Rashed finally asked his dad to teach him the prostration. 🙏
¡Muchas gracias por tu comentario tan sentido! Me alegra mucho que la imagen del rickshaw te haya transmitido esa carga cotidiana de Karim. Tienes toda la razón: un solo momento de humildad en la noche puede transformar una relación entera. Que también encontremos esa fuerza para arrodillarnos y pedir por quienes amamos. 🙏
Me llamó la atención la foto del padre y el hijo sentados en la terraza, me recordó a cuando preparo una masa y la dejo reposar toda la noche: la paciencia es clave, la receta se vuelve más profunda. Probé y el sabor de esa paciencia se refleja en el momento en que el chico pide aprender el tahajjud, quedó genial.
¡Qué hermosa comparación con la masa y la paciencia! Muchas gracias por compartir eso. Es verdad que, igual que en la cocina, en la vida algunas cosas necesitan tiempo para "reposar" y madurar — como la relación entre Karim y su hijo. Me alegra que la historia te haya llegado de esa manera. ¡Gracias por leer! 😊