বাংলাদেশ কি তাহলে ইরানের নেক্সট টার্গেট?
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশে অনেকের মধ্যেই অদ্ভুত এক ধরনের উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।
গতকাল কৌতূহলবশত মজা করে আমি একটি পোস্ট করেছিলাম— “বাংলাদেশ কি তাহলে ইরানের নেক্সট টার্গেট?”
অবাক করার মতো বিষয় হলো, অনেকেই মন্তব্যে লিখেছেন—
বাংলাদেশে কয়েকটা মিসাইল পড়লে নাকি তারা খুশি হবেন!
কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে সরাসরি হামলা চালানোর প্রয়োজনই হবে না।
অন্য দেশের যুদ্ধের চাপ, জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া— এসবের ভেতরেই বাংলাদেশ এমনিতেই ডুবে যেতে পারে।
প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে যুদ্ধ, কিন্তু এর প্রভাব ধীরে ধীরে পৌঁছে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত।
মধ্যপ্রাচ্যে ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে -এর দাম বেড়ে গেছে, আর যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এটি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের মতো আমদানি নির্ভর অর্থনীতির জন্য এর প্রভাব হতে পারে বহুমুখী—
১. জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাড়বে পরিবহন খরচ
২. বাড়তে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ
৩. কৃষিতে বাড়তে পারে সারের দাম ও উৎপাদন ব্যয়
৪. চাল, ডাল, সবজি ও নিত্যপণ্যের বাজারে দেখা দিতে পারে মূল্যস্ফীতি
শুধু তাই নয়, সমুদ্রপথে বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে পণ্য পরিবহনের খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতও চাপের মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও —এ কর্মরত লাখো বাংলাদেশি প্রবাসীর কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি শঙ্কা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে
১. জ্বালানি সংকট
২. ডলারের ওপর চাপ
৩. মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি
৪. রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে ঝুঁকি
—সব মিলিয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ।