শীতের প্রভাব ওয়াজ মাহফিলেও পড়েছে।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো এবং সুস্থ আছেন।
এখন শীতকাল। আর শীতকাল মানেই আমাদের দেশে ওয়াজ মাহফিলের মৌসুম। প্রতি বছর এই সময়টাতে গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি পর্যন্ত কোথাও না কোথাও মাহফিল বসে। সন্ধ্যার পর মাইক থেকে ভেসে আসে কুরআনের তিলাওয়াত, নাতের সুর, আর প্রিয় বক্তাদের দরদী বয়ান। শীতের রাত, খোলা প্যান্ডেল, গরম চা আর হাজারো মানুষের ভিড়। এই চিত্রটাই আমাদের চেনা বাংলাদেশ।
কিন্তু এবছরের শীত যেন একটু আলাদা। গত এক সপ্তাহ ধরে যে পরিমাণ শীত পড়ছে, তা সত্যিই ভাবিয়ে তুলছে। দিনের পর দিন সূর্যের দেখা নেই, আকাশ সারাক্ষণ ধূসর। ঠাণ্ডা বাতাসে শরীর কাঁপে, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর। অনেকেই বলছেন, এবার শীত বাংলাদেশের আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। আমাদের দেশে কখনো তুষারপাত হয়নি। এটাই ছিল বাস্তবতা। কিন্তু ইদানীং শোনা যাচ্ছে, পশ্চিমাঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় নাকি হালকা তুষারের মতো দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। সত্য-মিথ্যা জানি না, তবে শীত যে অস্বাভাবিক রকম বেড়েছে, সেটা সবাই অনুভব করছে।
এই অতিরিক্ত শীতের প্রভাব পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। বিশেষ করে ওয়াজ মাহফিলের মতো সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজনেও। আগে যেখানে শীতের রাতেও মানুষ দলে দলে মাহফিলে যেত, এখন সেখানে ভিন্ন চিত্র। মানুষ সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতে চাইছে না। রাস্তা-ঘাট, দোকানপাট, হাটবাজার। সবখানেই আগের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি কম।
কয়েকদিন আগে আমি নিজেও একটি ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছিলাম। মাহফিলটি ছিল বিশাল বড় প্যান্ডেলে। আয়োজন দেখে মনে হচ্ছিল, হাজার হাজার মানুষ হবে। বিশেষ করে আমার খুব পছন্দের একজন বক্তা আসার কথা ছিল। বক্তার নাম শুনেই মনে আনন্দ নিয়ে মাহফিলে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে যে চিত্র দেখলাম, তা আমাকে সত্যিই হতাশ করেছে। এত বড় প্যান্ডেল, অথচ মানুষ খুবই কম। ফাঁকা ফাঁকা জায়গা চোখে পড়ছিল।
আয়োজকদের মুখেও চিন্তার ছাপ ছিল। বক্তারা মঞ্চে ছিলেন, মাইক ঠিকঠাক, আলো ঝলমলে সবকিছু ঠিক থাকলেও শ্রোতার সংখ্যা আশানুরূপ ছিল না। মনে হলো, এর প্রধান কারণ একটাই শীত। এই শীতে মানুষ ঘর ছেড়ে বের হতে ভয় পাচ্ছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে, বাচ্চা নিয়ে কেউ ঝুঁকি নিতে চায় না।
আমার পছন্দের বক্তার ওয়াজ করার কথা ছিল রাত দশটা থেকে বারোটা পর্যন্ত। আমি কিছুক্ষণ মনোযোগ দিয়ে ওয়াজ শুনেছি। তার কথাগুলো ছিল হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। কিন্তু দীর্ঘ রাত পর্যন্ত সেখানে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। কারণ বাসায় আমার ছোট মেয়ে নুসাইবা আছে। সে তার আম্মার সাথে একা ছিল। আমি বাসায় না থাকলে ওরা ভয় পায়। শীতের রাতে বাচ্চা নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। তাই বাধ্য হয়েই তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসতে হয়েছে।
এই শীতের আরেকটা বড় সমস্যা হচ্ছে দৈনন্দিন কাজকর্মে। এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা নেই। কাপড় ধুলে দুই দিনে নয়, তিন-চার দিনেও শুকায় না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছি নুসাইবার কাপড় নিয়ে। বাচ্চা মানুষ কাপড় দ্রুত নোংরা হয়, বারবার ধুতে হয়। কিন্তু রোদ না থাকায় কাপড় ভালোভাবে শুকানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কখনো আগুনের তাপে, কখনো হালকা গরমে কোনোমতে শুকিয়ে আবার পরাতে হচ্ছে।
এই অবস্থা শুধু আমার না, প্রায় সব পরিবারই একই সমস্যার মুখোমুখি। শীতের তীব্রতা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক জমায়েত এমনকি ঘরের ভেতরের ছোট ছোট কাজেও প্রভাব ফেলছে। ওয়াজ মাহফিলগুলোও যেন একটু নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে।
আমি জানি না, এই শীতের প্রভাব আর কতদিন থাকবে। শুধু এটুকুই আশা করি, খুব দ্রুত সূর্যের দেখা মিলবে, শীত একটু কমবে, আর জীবন আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই কষ্ট থেকে দ্রুত মুক্তি দেবেন।
Photographer- @joniprins
Device- Realme C53
Location- Narayanganj,Dhaka
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server



















