ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া এক দিন: মানিক মিয়া এভিনিউয়ের জনসমুদ্র।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো এবং সুস্থ আছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু কিছু দিন থাকে, যেগুলো শুধু খবরের শিরোনামেই সীমাবদ্ধ থাকে না। মানুষের স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়। আজকের দিনটি ঠিক তেমনই একটি দিন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের খবরে দেশজুড়ে নেমে আসে গভীর শোক। সরকারিভাবে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয় এবং ৩১ ডিসেম্বর সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়। সেই শোকের আবহেই আজ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজা।যা অনেকের চোখে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা।
অফিস বন্ধ থাকায় সকাল দশটার দিকে আমি বাসা থেকে বের হই জানাজায় শরিক হওয়ার উদ্দেশ্যে। মনে এক ধরনের অদ্ভুত ভার ছিল শোক, কৌতূহল আর ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার অনুভূতি একসাথে কাজ করছিল। বাসা থেকে সাইনবোর্ড গিয়ে বিআরটিসি বাসে উঠে শাহবাগ পর্যন্ত পৌঁছাই। তখন সময় সাড়ে বারোটা। কিন্তু শাহবাগে পৌঁছেই বুঝে যাই, আজকের দিনটা সাধারণ কোনো দিনের মতো নয়।
শাহবাগের পর থেকে আর কোনো যানবাহন সামনে এগোচ্ছে না। চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। হাজার হাজার মানুষ হেঁটে হেঁটে জানাজার স্থলের দিকে এগোচ্ছে। বাধ্য হয়েই আমিও বাস থেকে নেমে পড়ি এবং সেই জনস্রোতের সাথে হাঁটা শুরু করি। রাস্তার দুই পাশে মানুষ, ফুটপাত সব জায়গা যেন মানুষের দখলে।
প্রায় ত্রিশ মিনিটের হাঁটায় আমি ফার্মগেট এলাকায় পৌঁছে যাই। সেখানে গিয়ে যা দেখলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সংসদের দক্ষিণ প্লাজা, মানিক মিয়া এভিনিউ, খামারবাড়ির মাঠ সব জায়গা লোকে লোকারণ্য। মনে হচ্ছিল পুরো ঢাকা শহরের মানুষ যেন এক জায়গায় জড়ো হয়েছে। প্রবল ভিড়ের মধ্যে অনেক কষ্ট করে, কখনো দেয়াল টপকে, কখনো সংকীর্ণ পথ ধরে আমি সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হই।
চারপাশে তাকিয়ে শুধু মানুষের মাথা আর মাথা। অনুমান করা হচ্ছিল কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের দেখা মিলেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শংকর, পাকিস্তানের উপ-রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারসহ বেশ কয়েকজন বিদেশি প্রতিনিধিকে দেখতে পাই। এটি স্পষ্ট ছিল এই জানাজা শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহনকারী ঘটনা।
দুপুর তিনটার সময় জাতীয় মসজিদের বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা মুফতি আবদুল মালেক সাহেব জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন। লাখো মানুষের একসাথে তাকবিরে পুরো এলাকা যেন থমকে যায়। সেই মুহূর্তে চারপাশের নীরবতা, মানুষের চোখের জল আর আকাশের স্তব্ধতা সব মিলিয়ে এক গভীর আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
জানাজা শেষে ফেরার পথটা ছিল আরও কঠিন। কোনো যানবাহন পাওয়া যায়নি। সংসদ ভবনের সামনে থেকে ফার্মগেট, তারপর কারওয়ান বাজার, শাহবাগ হয়ে গুলিস্তান সবটাই হেঁটে আসতে হয়েছে। শুধু আমি নই, আমার মতো শত শত, হাজার হাজার মানুষ একসাথে হাঁটছে। কারো মুখে বিরক্তি নেই, বরং সবাই যেন নীরবে একে অপরের সাথে শোক ভাগ করে নিচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত গুলিস্তানে বায়তুল মোকাররমের সামনে একটি বাস পেয়ে বাসায় ফিরতে পারি। বাসায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে তখন সাড়ে সাতটা বেজে গেছে। শরীর ছিল ক্লান্ত, পা ছিল ব্যথায় ভরা কিন্তু মনটা ছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তিতে পরিপূর্ণ। কারণ আজ আমি শুধু একটি জানাজায় শরিক হইনি, আমি ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে ফিরেছি।
Photographer- @joniprins
Device- Realme C53
Location-Dhaka
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server





















