"শুভ জন্মাষ্টমী-২০২৩" - ৩য় পর্ব
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ১৮ ই সেপ্টেম্বর, সোমবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।
আমি আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। প্রতিনিয়ত আমার বাংলা ব্লগে নতুন নতুন পোস্ট শেয়ার করতে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে। প্রতিটি দিন যতক্ষন পর্যন্ত পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার না করি, ততক্ষণ পর্যন্ত আসলে কিছুই ভালো লাগেনা। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি আসলে বর্তমানে সবার ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে আমি "শুভ জন্মাষ্টমী-২০২৩" ১ম পর্ব ও ২য় পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। আর আজকে আমি" "শুভ জন্মাষ্টমী-২০২৩" ৩য় পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন যে, এবারের জন্মাষ্টমী হিন্দু ধর্মালম্বীরা দুই দিন ধরে পালন করছে। আসলে আমার বাড়িতে আসে একদিন লেট হওয়ার কারণেই আমাদের এখানে জন্মষ্টমী দ্বিতীয় দিনে করা হচ্ছে। আমি বাড়িতে আসার কয়েকদিন আগে থেকেই গ্রামের বন্ধুরা ফোন করে বাড়িতে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলো, তাই বাড়িতে আসছিলাম।
.... নগর কীর্তন পর্ব শেষ হওয়ার পরে পূজার জন্য মোটামুটি সকল উপকরণ আমি আর আমার কাকা বাজার থেকে সব কিনে আনি। তারপর বাজার থেকে আসার পরে সবাই মিলে মন্দিরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহের পূজার জন্য সব কিছুর আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে আমরা যারা যারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর উপোস ছিলাম তারা সবাই মিলে জন্মাষ্টমীর সকল উপকরণ জোগাড় করি। প্রতিবছর আমরা জন্মাষ্টমীতে যে, পুরোহিত দিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহের পূজা করাই এবারও সেই পুরোহিত দিয়েই পূজার আয়োজন করেছিলাম।
আমাদের মন্দিরে পূজা শুরু হয়েছিলো মোটামুটি দুপুর ১২ টা নাগাদ। আমাদের দুই পাড়ার হিন্দুধর্মালম্বীরা মিলে মোট ৩০ জন মতো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর জন্য উপবাস করেছিলেন। আমি নিজেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী এই পূজার উপবাস ছিলাম। যেকোনো পূজায় উপবাস থেকে অঞ্জলি দিতে বেশ ভালো লাগে আমার কাছে।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে উপবাসরত সকল মহিলাদের অঞ্জলি দেয়া হয়ে গেলে, আমরা যে কয়জন ছেলেপেলে উদ্যোগ নিয়ে পূজার আয়োজন করেছিলাম, সেই কয়জন মিলে অঞ্জলি দেয়ার জন্য মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করি। প্রথমেই মন্দিরের ভেতরে গিয়ে পুরোহিতের থেকে গঙ্গাজল আর তিলক চন্দন নিয়ে নিজেকে পবিত্র করে নিই।
তারপর আমরা মন্দিরের ভেতরে বসেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে অঞ্জলি দিলাম। তারপর পুরোহিত মহাশয় কে প্রাপ্য দক্ষিণা প্রদান করলাম। আমাদের অঞ্জলি দেয়া শেষ হয়ে গেলে পুরোহিতের সাথে কয়েকটি স্মৃতিময় ছবি তুলে রাখার জন্য অনুরোধ জানালাম। আমাদের পুরোহিত মহাশয় খুবই মিশুক একজন ব্যাক্তি। তিনি ছবি তোলার জন্য আমাদের সম্মতি দিলে আমরা সবাই মিলে মন্দিরের ভেতরে বসেই কয়েকটি ছবি উঠি।
আমাদের পুরোহিত মহাশয় তো আমাকে খুবই ভালোবাসে আমাকে কাছে টেনে আমার কাঁধের উপর হাত দিয়ে বেশ কয়েকটি ছবি উঠলো। আমাদের পুরোহিত মহাশয়ের এরকম ভালোবাসা দেখে মনটা আনন্দে ভরে গেলো। তারপর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর পূজা সম্পন্ন হয়ে গেলে মন্দিরের ভক্তবৃন্দের সবাইকে প্রসাদ বিতরণ করি এবং আমরা নিজেরাও প্রসাদ গ্রহণ করি।
আজকের "শুভ জন্মাষ্টমী-২০২৩" ৩য় পর্ব শেয়ারের মাধ্যমে সকল পর্বগুলো শেষ করলাম।
পোস্টের বিবরন
| পোস্ট ধরন | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| ডিভাইস | স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪ |
| ক্যামেরা | ১০৮ মেগাপিক্সেল |
| তারিখ | ৭ ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ |
| লোকেশন |
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আমি হৃদয় থেকে ভালবাসি সৃষ্টিকর্তা ও তার সকল সৃষ্টিকে। আমি বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিভিল টেকনোলজিতে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করছি। আমি ভ্রমণ করতে, গান গাইতে ও শুনতে, কবিতা লিখতে ও পড়তে, আর্ট করতে, রান্না করতে ও ফটোগ্রাফি করতে খুবই পছন্দ করি। "আমার বাংলা ব্লগ" আমার গর্ব "আমার বাংলা ব্লগ" আমার ভালোবাসা। আমার নিজের ভেতরে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে "আমার বাংলা ব্লগে" আমার আগমন। এই স্বল্প মানব জীবনের প্রতিটা ক্ষণ আমার কাছে উপভোগ্য। আমি মনে করি, ধৈর্যই সফলতার চাবিকাঠি।
@aongkon













"শুভ জন্মাষ্টমীর"দৃশ্যগুলি দেখে খুবই ভালো লাগলো।আসলে ছোটবেলায় জন্মাষ্টমীতে আমাদেরও একটি বাড়ি থেকে নিমন্ত্রণ আসতো।খুবই ধুমধাম করে জন্মাষ্টমী পালন করতেন তারা।মনে পড়ে গেল আপনার পোষ্ট দেখে সেই স্মৃতিগুলো।দারুণ সময় পার করেছেন দেখেই বুঝতে পারছি, ধন্যবাদ দাদা।
হ্যাঁ দিদি এবারে জন্মাষ্টমীতে বাড়িতে থেকে গ্রামের সবার সাথে বেশ দারুন সময় অতিবাহিত করেছি। অসংখ্য ধন্যবাদ দিদি সুন্দর মন্তব্য করে সব সময় পাশে থাকার জন্য।