জীবন এতো ছোট কেন??
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
মানুষের জীবন চিরস্থায়ী নয়। সহজ বাংলা ভাষায় বললে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। আমরা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথিবীতে এসেছি। এবং সেই সময় টা খুব একটা বেশি না। যে সময় টার জন্য আমরা পৃথিবীতে থাকব সেটাকে আমরা জীবন বলে সংজ্ঞায়িত করে থাকি। কিন্তু এরপর কী? তারপর কী সেটা অনেক বড় বড় দার্শনিকেরাও খুজে বের করতে পারে নাই। এর সঠিক উওর দিতে পারে নাই। তবে আমাদের ধর্মমতে আমরা ফিরে যাব সৃষ্টিকর্তার কাছে। আমরা যেটাকে বলি পরকাল। সেখানেই আমাদের থাকতে হবে অনন্তকাল। যার তুলনায় এই পৃথিবীর দুইটা দিন খুবই ছোট খুবই সংকীর্ণ। কিন্তু এই ছোট জীবনের প্রতি আমরা এতোটা আকৃষ্ট হয়ে যায় এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে আমাদের ইচ্ছা করে না। আমাদের ইচ্ছা হয় অনন্তকাল পৃথিবীতে থেকে যেতে। কিন্তু সেটা তো সম্ভব না। সৃষ্টিকর্তা মানুষ কে সৃষ্টিই করেছে এভাবে। ঐসময় এমন একটা কথা বা কবিতা হয়তো আমাদের মাথায় আসে।
এই খেদ আমার মনে-
ভালোবেসে মিটল না সাধ, কুলাল না এ জীবনে।
হায় জীবন এতো ছোট কেনে?
এ ভূবনে?
এটা আমার লেখা না। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিখ্যাত বই কবি'র কয়েকটা চরণ। তবে আমি আজ যে বিষয়ে কথা বলব তার সাথে এই লেখাটার অনেক টা সাদৃশ্য আছে। এইজন্যই এই লেখাটা আমি টেনে নিয়ে এসেছি। জীবন এতো ছোট কেন? এই ভূবনে? এই কথাটার উওর হয়তো আমাদের কারো কাছেই নেই। যদি নিজেকেই প্রশ্ন করি সত্যি জীবন এতো ছোট কেন? তাহলে আমাদের মস্তিষ্ক চিন্তা করে কিছুই বের করতে পারবে না। আমরা যদি অনন্তকাল পৃথিবীতে থাকতে পারতাম। কিন্তু সেটা হয় না কেন? কেন খুবই অল্প সময়ের জন্য আমরা এই পৃথিবীতে থাকি। এসবের উওর আমাদের সৃষ্টিকর্তা জানে। আমরা শুধু তার ইচ্ছায় এই পৃথিবীতে এসেছি। মানুষ যেহেতু মরণশীল মানুষের অস্তিত্ব খুব বেশি শতাব্দী স্থায়ী হয় নাহ।
ব্যাপার টা এমন আপনার মৃত্যুর পরে বেশি হলেও আপনার দুইটা প্রজন্ম আপনাকে স্মরণ করবে। কিন্তু তারপর? তারপর পৃথিবীতে আর কেউ আপনার নাম জানবে না আপনাকে স্মরণ করবে না। অর্থাৎ আপনি যে পৃথিবীতে একটা সময় থাকতেন এটাই কেউ মনে রাখবে না। এটাই আমাদের জীবন। বহুবছর ধরে এমনটাই চলে আসছে। জীবন এতো ছোট কেন এই প্রশ্নের উওর নেই। কবি উপন্যাসে কথাটা বলেছিল নিতাই। যখন তার জীবন থেকে বসন্ত ঠাকুরঝি দুজনই চলে যায় তখন সে যেন আরও গভীরভাবে এটা অনূভব করতে পেরেছিল। হায় জীবন এতো ছোট কেন। বসন্ত ঠাকুরঝি তো আরও অনেক গুলো বছর কেন বাঁচলো না। কেন তার সাথে থাকলো না। আবার কারো কাছে জীবন অনেক বড়। যদিও এমন মানুষ খুজে পাওয়া একেবারেই দুস্কর। যারা মনে করে জীবন অনেক বড়। হ্যা আপনি এমনটা মনে করবেন যখন আপনি প্রচণ্ড দুঃখ দূর্দশা যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে দিন অতিবাহিত করবেন তখন।
তাছাড়া দেখতে গেলে মানুষের জীবন সত্যি কিন্তু ছোট। পৃথিবীতে এখন মানুষের গড় আয়ু সম্ভবত ৭০ এর আশেপাশে হবে। এরমধ্যে আপনি নিজের জীবনের ২৫-৩০ বছর ব্যয় করেন লেখাপড়ার পেছনে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পেছনে। পরবর্তী ৩০ বছর আপনি আপনার পরিবার নিয়ে আপনার পেশা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এরপর যখন নিজের দেখে দেখেন তখন অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে। তখন আপনার জীবন ডায়েরির শেষ পৃষ্টার লেখা চলছে। তখন আপনার এমনটা মনে হতে পারে হায় জীবন এতো ছোট কেন? আমরা মানুষ একটা একটা গোলকধাঁধায় আছি। আর যেই গোলকধাঁধার নাম বিভিন্ন। দুনিয়া পৃথিবী জীবন অনেক কিছু বলেই আমরা এটাকে আখ্যায়িত করি।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।



.png)


