জীবনের গল্প || পরিবর্তন দরকার অনেক ক্ষেত্রে
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। তবে খুব বেশী সময় এই সুস্থতা হয়তো টিকে থাকতে পারবে না, কারণ আমরা কি খাচ্ছি, কতটা খাচ্ছি এবং সেটা কতটা স্বাস্থ্য সম্মত কিংবা ভেজালমুক্ত, সেটা কিন্তু কোনভাবেই নিশ্চিত হতে পারছি না। মাঝে মাঝে পত্রিকা কিংবা শোস্যাল মিডিয়ায় যা পড়ি তাতে আর কিছু খেতে ইচ্ছে হয় না, কিন্তু কি আর করার। না খেয়ে তো আর বেশি দিন থাকতে পারবো না, তাই বাধ্য হয়েই এই সব ভেজাল খাবার খাচ্ছি।
আসলে এর জন্য আমরা যতটা দায়ী তারচেয়ে হয়তো বেশী দায়ী এগুলো তদারকি করার কর্তৃপক্ষ, কিন্তু সেই কর্তৃপক্ষ যদি ঘুমিয়ে থাকেন? তাহলে দায়ী করবেন কাকে? আমি জানি না এই লেখাটা কয়জন পড়বে আর কয়জন পড়বে না। তবে পত্রিকায় যে প্রতিবেদন ছাপা হয় সেগুলো হয়তো দেশের অনেক মানুষই পড়েন। আবার শোস্যাল মিডিয়ায় যেগুলো ভাইরাল হয় সেগুলোও হয়তো অনেকের চোখে পড়ে। কিন্তু তারপর কি আমরা আর কিছু করতে পারি না, নাকি কিছু দিন পর সব ভুলে গিয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাই।
আমার কলেজ জীবনের একটা কাহিনী এখনো স্পষ্ট মনে আছে, তবে সেটা কোন সরকারের আমলে হয়েছিলো সেটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না, কিন্তু ঘটনাটা বেশ মনে আছে। কারণ আমি যে এলাকায় থাকতাম তার খুব কাছেই ছিলো জনপ্রিয় একটা ব্র্যান্ড, আর সেটা ছিলো .... না থাক নামটা নাই বলি। তো সেই পন্যটা ছিলো কনডেন্সমিল্ক, বেশ জনপ্রিয় একটা পন্য বলতে পারেন এটা। না না সবাই যে শুধুমাত্র চা খাওয়ার জন্য এটা ব্যবহার করেন তা কিন্তু নয়, বরং বাড়িতে নানা ধরণের মিষ্টি জাতিয় স্বাদের খাবার তৈরীর জন্যও এটা ব্যবহার করে থাকেন।
তো, সেই সময় একটা প্রতিবেদন বেশ ভাইরাল হয়েছিলো, এগুলো আসলেই একটাও খাওয়ার উপযোগি নয় বরং সবগুলোতে ভেজাল পাওয়া গিয়েছিলো। এক কথায় বাজারে যতগুলো ব্র্যান্ড এর ছিলো সবগুলোর বিষয়ে তখন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো। মোটামুটি বাজার হতে পন্যটা হারিয়ে যেতে বসেছিলো। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দৌড় অনেক দুর পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব। সকল ব্যবসায়ী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেটার বিপক্ষে লড়েছিলেন । তারপর ঠিক সেটা আবার স্বগৌরবে বাজারে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিলো। এখানে জনগনের স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি আড়ালে চলে গেলো।
এভাবেই আমাদের সমাজে দিনের পর দিন, নানা কৌশলে কিংবা ক্ষমতার দাপটে ঠিক টিকে থাকে ভেজালের জয়যাত্রা। আমরা হয়তো অনেক কিছু বুঝি আবার অনেক কিছু না বুঝেই চুপ থাকি। কিন্তু নিজের ব্যাপারে, পরিবার কিংবা সমাজের ব্যাপারে অনেক ক্ষেত্রেই চুপ থাকা ঠিক না, প্রয়োজনে সেখানেও সোচ্চার হতে হয়। হয়তো আমরা সেটা পারছি না, আর এই না পারার কারণেই এসব পন্য ঠিক স্বগৌরবে রয়ে যাচ্ছে বাজারে। পরিবর্তন এখানেও আসাটা এখন জরুরী হয়ে গেছে।
Image Taken From Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||




>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness

OR




