জীবনের গল্প || প্রকৃতির প্রতিশোধ আসন্ন

in আমার বাংলা ব্লগlast month

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। হৃদয়ের চঞ্চলতায় শীতের উষ্ণতা দারুনভাবে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। যদিও অনেকের শীতের অনুভূতি পরিবর্তন হয়ে গেছে, ভূমিকম্পের একটা নিদারুণ দুঃস্বপ্নে অনেকের হৃদয় অস্থির হয়ে গেছে। সেদিন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার বলছেন অনেক বিত্তশালী ব্যক্তিই নাকি গ্রামীন অঞ্চলে জায়গা কিনে বাড়ী তৈরী করার চিন্তা করতেছেন, সে খবরও নাকি তার কাছে আছে। সামনে নাকি আরো বড় ভূমিকম্প হবে দেশে, সেই ভয়ে এখনই তারা নিরাপদ আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করছেন, কথাটা শুনে আমার বেশ হাসি পেয়েছিলো, সত্যি বলছি।

প্রকৃতি তার নিজস্ব মাধ্যমে প্রতিশোধ নিবে এটা এক চরম বাস্তবতা, আমরা জানি এবং বুঝি কিন্তু স্বীকার করি না। এখানে স্বীকার করার মানেটা একটু ভিন্ন মানে সরাসরি অস্বীকার করা না। প্রকৃতির আজকের এই ভয়াবহ অবস্থার জন্য কারা দায়ী? আপনি-আমি কিংবা সাধারণ জনগন নয় বরং সমাজের বিত্তশালী এবং ব্যবসায়ী সমাজ। হ্যা, আমি বরাবরই এটা বলেছি, বিত্তশালী মানেই এখন ব্যবসায়ী আর ব্যবসায়ী মানেই সবাই বিত্তশালী নয় বরং কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী যারা নীতিতে নয় বরং অসঙ্গতি ও দুষ্টনীতিতে বিশ্বাসী এবং খুব দ্রুত সময়ের মাঝে বিত্তশালী হওয়ার স্বপ্নে মগ্ন থাকেন। এই শ্রেণীর ব্যবসায়ী মূলত বেশী দায়ী।

ai-generated-8841839_1280.jpg

চারপাশের অসংখ্য খাল-বিল, ডোবা কিংবা নালাগুলোকে অবৈধভাবে দখল করা, বালু দিয়ে সেগুলোকে ভরাট করা এবং তারপর দ্রুততার সাথে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আবাসন প্রকল্প তৈরী করা। পরিবেশ এর চিন্তা না করে, সামাজিক ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়টিকে আমলে না নিয়ে, বরং নগদ অর্থের লোভে এমন ব্যবসায়ীক উদ্যোক এবং বাস্তবায়নের ফলাফল আজকের এই নাজুক পরিস্থিতি। হ্যা, এটা একজন কিংবা একদিনের কারণে হয় নাই বরং সময়ের সাথে সময় এবং বছরের পর বছরের আগ্রাসী মনোভাবের কারণেই হয়েছে। আমরা জানি না সামনে আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে, হয়তো বড় ধরণের কোন ভূমিকম্প কিংবা কিছুই না, কিন্তু এটা সত্য যে একটা ভয়ের আবহ তৈরী হয়েছে আমাদের মাঝে।

আমি একটা সাধুবাদ জানাই, কারণ মানুষের মনে ভয় বলে কিছু আছে সেটা তো আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম। চারপাশের অন্যায়-অবিচার এবং অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতা সেটা আমাদের ভুলিয়ে দিয়েছিলো। অর্থের বড়াই, বড় বড় দালানে বসবাসের গর্ব, এসব নানা বিষয়ে আমাদের আচার-ব্যবহার নিদারুণভাবে পাল্টে গিয়েছিলো। সম্পদের পাহাড়ে বসবাস করে আমরা নিচের মানুষদের ভীষণভাবে অবজ্ঞা করতে শুরু করে দিয়েছিলাম। সুতরাং এর শেষ পরিণতিটা যে ভালো হবে না সেটা অনেকটাই অনুমেয় ছিলো। আর সেই অনুমানটা হুট করেই একটা ঝাঁকুনি দিয়ে সত্য হয়ে গেলো, যার জন্য হয়তো অনেকেই প্রস্তুত ছিলো না।

না না না আমি বলছি না ভূমিকম্প হতেই হবে কিংবা ধ্বংসাত্মক কিছুর মাধ্যমে সকলের ভয়টা বাস্তবে রূপান্তরিত হতে হবে। বরং আমি চাই এমন ভয়াবহ কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ভূমিকম্প যেন কোথায়ও না হয়। কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধুমাত্র উপরের মানুষগুলোই কষ্ট করেন না বরং সকল শ্রেণীর মানুষই সেটা স্বীকার হয়ে থাকে। তাই আমিও চাই গুরুতর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসুক। তবে হ্যা, যে ভয়টা তৈরী হয়েছে সেটা টিকে থাকুক, প্রকৃতির ক্ষতি করার পূর্বে মানুষ একটু চিন্তা করুক, তাতে যদি আমরা একটু সতর্ক ও সচেতন হই। না হলে প্রকৃতির বিপর্যয় কিংবা প্রতিশোধ হবে অনেক বেশী ভয়াবহ।

Image Taken From Pixabay

ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah

break .png
Leader Banner-Final.pngbreak .png

আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

break .png

Banner.png

Sort:  
 last month 

আমরা জানি না সামনে আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে, হয়তো বড় ধরণের কোন ভূমিকম্প কিংবা কিছুই না, কিন্তু এটা সত্য যে একটা ভয়ের আবহ তৈরী হয়েছে আমাদের মাঝে।

আসলেই ভাই ভূমিকম্প নিয়ে সবাই বেশ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। অনেকে তো ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছে। আসলে আমরা প্রকৃতির উপর প্রচুর পরিমাণে অত্যাচার করেছি বা করছি। তাই প্রকৃতি আমাদের উপর কোনো না কোনোভাবে চরম প্রতিশোধ অবশ্যই নিবে। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।