আবোল তাবোল জীবনের গল্প [ ফ্রাইডে স্পেশাল ]
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। হৃদয়ের চঞ্চলতা গুলোকে আগলে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যদিও মেয়েটা একটু অসুস্থ, গতকাল সারারাত খুব একটা ঘুমাতে পারিনি। মেয়ে অসুস্থ থাকলে পুরো বাড়িই যেন কেমন নিস্তব্দ হয়ে যায়, আর ছেলে গেছে তার খালার বাড়ি যেহেতু তার স্কুল পরীক্ষা শেষ। তাই আজকে ছুটির দিন হলেও খুব একটা চঞ্চলতা নেই হৃদয়ের মাঝে। আসলে আমরা মানুষ, আর মানুষ হিসেবে আমাদের আবেগটা সবচেয়ে বেশী, আমরা প্রায় সময়েই আবেগে প্রভাবিত হয়ে অনেক কিছু করার চেষ্টা করি।
আমি এর আগেও বলেছি, শিশুদের ব্যাপারে আমাদের অনেক বেশী যত্নশীল হতে হবে, আমাদের স্বাভাবিক চিন্তাগুলো শিশুদের উপর প্রয়োগ করা যাবে না। বরং এখানে নির্দিষ্ট একটা প্যাটার্ন অনুসরণ করতে হবে, এই বিষয়ে আমি ছোট একটা ভিডিও করেছিলাম। কিন্তু কি জানেন? দিন শেষে আমরা সবাই এক জায়গায় মানে একই কাজ করতে থাকি। চাই শিক্ষিত হই বা অশিক্ষিত হই, কোন কিছুরই আর তফাত থাকে না। অথচ আমাদের এমনটা হওয়া উচিত ছিলো না। হ্যা, আবেগ থাকবেই আর সেটা আমাদের সন্তানদের প্রতি একটু বেশী পরিমাণে থাকে, এখানে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।
কিন্তু সেই আবেগটা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে বা রাখতে পারবে সেই বিষয়েও আমাদের চিন্তা করতে হবে। আপনি হয়তো জোর করে অনেক কিছুই করতে পারবেন, কিন্তু সেটা কতটা ফলপ্রসূ হবে সেটাও বুঝতে হবে। আপনি আবেগের ঠেলায় আপনার শিশুকে জোর করে তার চাহিদার অতিরিক্ত খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করলেন, তারপর একটু সময় পরেই সে সেগুলোকে বমি করে ফেলে দিলো। এটা অবশ্যই ভালো কিছু হলো না বরং পরবর্তীতে সেই শিশুরু একটা ভয় কিংবা অনীহা চলে আসবে খাবারের প্রতি। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা থাকা উচিত কিন্তু সেটা যেন ক্ষতির কারণ না হয় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।
কিন্তু বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে আমরা সেই বিষয়ে চিন্তা করি না, বরং এটা ভাবতে শুরু করি যে, শিশু বড় হচ্ছে, তাকে আগের তুলনায় বেশী বেশী খেতে হবে, না হলে সে পুষ্টি পাবে না এবং বড় হবে না। এই বিষযটি কতটা বাস্তব সম্মত সেটাও বিবেচনার দাবী রাখে। না না না আমি তাদের খাওয়ানোতে বাধা দিচ্ছি না বরং আপনার আবেগকে একটু সতর্ক করার চেষ্টা করছি এবং আপনার চিন্তা ভাবনায় একটু পরিবর্তন আনার কথা বলছি। আপনি একজন পুষ্টিবিদ কিংবা শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে দেখতে পারেন, তিনিও একই পরামর্শ দিবেন বলে আমি নিশ্চিত।
আবেগ কিংবা ভালোবাসা দুটোই থাকা প্রয়োজন বিশেষ করে আমাদের সন্তানদের প্রতি। তবে হ্যা, ভাববার বিষয় হলো সেটা যেন তাদের জন্য ক্ষতির কারণ না হয়ে যায়, তাদের মানসিকতায় ভয় ঢুকিয়ে না দেয়, তারা যেন মানসিকভাবে অস্বস্তিতে না ভোগে। আমরা তাদের ভালো চাই কিন্তু সেই চাওয়াটা যেন যথাযথভাবে হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে আমাদের সবার আগে। প্রতিটি শিশুই কোমল মনের অধিকারী তাই তাদের সেই মানসিকতায় জেদ ঢোকানো ঠিক হবে না, সেটাকে সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করতে হবে। আশা করছি আমার কথাগুলো বুঝতে পেরেছেন।
Image Taken From Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||




>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness

OR
Sort: Trending
Loading...
[-]
punicwax (-14)(1)muted 27 days ago
$0.00
Reveal Comment



