পুরনো দিনের ডায়েরি ( পর্ব ১৫ )
Image Created by OpenAI
আপনাদের সাথে "পুরনো দিনের ডায়েরি" গল্পের ১৫ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো রাহুল যখন লোকটার কাছে মালতি নামটা তুললো, তখন সবকিছু কেমন যেনো এলোমেলো মতো হয়ে গেলো। কারণ মালতি লোকটার মেয়ে ছিল। এরপর সবকিছু রাহুলের কাছে একটা স্তব্ধ মতো হয়ে গেলো অর্থাৎ কানে তালা লাগলে যেমন হয়, ঠিক সেরকম। ট্রেনের আওয়াজ, মানুষের কথা কোনোটাই যেনো সে আর শুনতে পাচ্ছে না। মনে হলো রাহুল বোঝার আগেই অতীতের সবকিছু সামনে দাঁড়িয়ে গেছে। এই স্টেশনে রাহুলের বাবা একা ছিল না, এখানে আরো একটা মানুষের জীবন থমকে গিয়েছিল। রাহুল এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুঝলো যে, এখনো ডায়েরির আসল গল্প শুরু হয়নি।
মালতি যে বৃদ্ধ লোকটির মেয়ে ছিল, এই কথাটা শোনার পরের থেকে রাহুলের ভেতরটা যেনো শুন্যতায় ভরে গেলো। এই শব্দের মধ্যে যে কত আবেগ, চাপা কান্না আর না বলা ইতিহাস লুকিয়ে আছে, সেটা বুঝে উঠতে পারেনি প্রথমদিকে রাহুল। রাহুল লোকটার দিকে তাকিয়ে ছিল এক নজরে। লোকটার শরীর কাঁপছে না, মুখে কোনো নাটকীয় ভাব নেই। কিন্তু তার চোখ দুটো দেখে রাহুল বুঝতে পারে যে, অনেকদিন ধরে বয়ে চলেছে এই চোখের জল। এরপর লোকটা রাহুলকে এখানে বসতে বললো এবং বললো- এই গল্প দাঁড়িয়ে বলা যায় না। তারা দুইজন সেই পুরোনো বেঞ্চ-এ বসলো। যাইহোক, এরপর বৃদ্ধ কথা শুরু করার আগে অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে রইলো।....
