কিছু হারানো, কিছু পাওয়া-এক নতুন জীবনের শুরু।❤️
মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সকল সদস্যগণ,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি আপনারা সকলেই ভালো আছেন,সুস্থ আছেন?
আমি @bristychaki,আমি একজন বাংলাদেশী। আমার বাংলা ব্লগ এর আমি একজন ভেরিফাইড ও নিয়মিত ইউজার।আমি বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলা থেকে আপনাদের সাথে যুক্ত হয়েছি।প্রতিদিনের মতো আমি আজও নতুন একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি।আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি পোস্টের ভিন্নতা আনার।তারই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন একটি পোস্ট শেয়ার করছি আশাকরি আমার আজকের পোস্ট টি আপনাদের ভালো লাগবে
২০২৫ সালটা আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের বছর ছিলো।এই পৃথিবীতে কিছুই স্থায়ী নয়।এই সত্যটা যতোবার মেনে নিতে পেরেছি, ততোবারই নিজেকে শক্ত করার শক্তি পেয়েছি।
মানুষের জীবনে সবসময় সবকিছু খারাপ হয় না।মাঝে মাঝে এমন কিছু ভালো ঘটনা ঘটে, যা সমস্ত দুঃখ-কষ্টকে ছাপিয়ে যায়।আমার জীবনে তেমনই এক আলো-আমার সন্তানের সাফল্য।ওদের একটুখানি অগ্রগতি আমার সব কষ্টকে সুখে রূপ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।আমার ছোট্ট মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই খুব শান্ত স্বভাবের,একই সাথে ভীষণ বিচক্ষণ।ও অল্পতেই অনেক কিছু বুঝে যায়,পরিবেশ আর পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। পড়াশোনায় ভালো ছিলো, গানও দারুণ করতো। প্রাথমিক পর্যায়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ১১ বার প্রথম হয়েছে, জেলা পর্যায়ে ৪ বার।কিন্তু হাইস্কুলে ওঠার পর একদিন এমন একটা ঘটনা ঘটলো, যা ওর জীবনটাই বদলে দিলো।একটি প্রতিযোগিতায় এক গ্রুপে এক স্কুল থেকে একজনই গান গাইতে পারবে-কিন্তু সাথে থাকা, আমাদেরই পরিচিত একজন, গায়ের জোরে চার বিভাগেই গান গাইবে বলে আমার মেয়েকে সুযোগই দিলো না।আমি অনুরোধ করেছিলাম-দুটো তুমি, দুটো ও পাক। কিন্তু সে একচুলও ছাড়েনি।সেদিন আমার মেয়ে কান্না করতে করতে ওখান থেকে চলে আসে।তারপর আর কোনোদিন গান করেনি।আজ সে পুরোপুরি গান ছেড়ে দিয়েছে।ও তখনই বুঝে গিয়েছিলো-এই পরিবেশে সে আর কখনোই এগোতে পারবে না।তাই আর কোনো প্রতিযোগিতায় যায়নি।আমিও জোর করিনি।আমিও ঝামেলা আর অন্যায়ের জায়গা এড়িয়ে চলি।পরিবেশের প্রভাবে ধীরে ধীরে ও পড়াশোনাতেও পিছিয়ে যেতে লাগলো।বাসায় দুইজন টিচার রাখলাম, ওর বাবা, আমি-সবাই বুঝিয়েছি।কিন্তু পড়তে বসার সময় হলেই ও কান্না শুরু করে দিতো।ওর এই অবস্থায় আমি ভেঙে পড়তাম, ঈশ্বরের কাছে শুধু প্রার্থনা করতাম,কারণ তখন আর কিছু করার ছিলো না।
২০২৩ সালে একদিন ও মন থেকে বলে ফেললো-“আমার পড়াশোনা করতে একদম ভালো লাগে না।”সেদিন আমি খুব কেঁদেছিলাম।ভাবছিলাম-তাহলে ওর ভবিষ্যৎ কী?২০২৪ সালে আমরা বগুড়ায় আসি।ওকে অল্প সময়ের জন্য একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করাই। প্রথমদিকে সে কোনোভাবেই স্কুলে যেতে চাইতো না। একটাই কথা-“আমাকেও ব্যাটালিয়ন স্কুলে ভর্তি করাতে হবে, নাহলে আমি পড়বো না।”বছরের মাঝামাঝি সেটা সম্ভব ছিলো না। অনেক বুঝিয়েছি, কাজ হয়নি।একদিন রাগের মাথায় মারধোর করে স্কুলে পাঠাতে হয়েছিলো। কয়েকদিন জোর করেই পাঠাতে হয়।কিন্তু সেখানেই শুরু হয় পরিবর্তন।স্কুলের টিচাররা ওকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, খুব ভালো ব্যবহার করেন। ক্লাসের প্রতিটি মেয়েই ওর সাথে মিশতে চায়—কারণ ও শান্ত, ভদ্র, স্নিগ্ধ।আস্তে আস্তে ওরও সবাইকে ভালো লাগতে শুরু করে।স্কুলের প্রতিও আগ্রহ ফিরে আসে।আর আমি তখন বুঝতে পারি-ভালো মানুষ আর সুন্দর পরিবেশ পেলে, হারিয়ে যাওয়া আলোও আবার ফিরে আসে।এবছরের বার্ষিক পরীক্ষায় ও খুবই ভালো করেছে প্রতিটি বিষয়ে আশানুরূপ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থান এসেছে।গতবছর আমি অসুস্থতা ও বিভিন্ন কারণে ওর দিকে একদম নজর দিতে পারিনি তা-না হলে ও প্রথম স্থানেই থাকতো এটা আমার বিশ্বাস।তবে ও ওর জায়গা থেকে খুবই ভালো করেছে যা পুরোটাই ওর নিজের যোগ্যতা এবং সেইসাথে স্কুলের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভালোবাসা আশীর্বাদ।
আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমি শুধু এটুকুই বলি-সব হারানো আসলে হারানো নয়।কিছু হারানো আমাদের বাঁচিয়ে দেয়,আর কিছু পাওয়া-আমাদের নতুন করে বাঁচতে শেখায়।🥰
বগুড়া উপশহর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর কর্তৃপক্ষ এবং সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা সবার আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় কৃতজ্ঞতা জানাই।🙏

OR







.gif)