অরিগ্যামিঃডগির আদলে বুক মার্ক তৈরি।

in আমার বাংলা ব্লগlast year

শুভেচ্ছা সবাইকে।

কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালো আছেন।আমিও ভালো আছি।প্রত্যাশা করি সবাই সবসময় ভালো থাকেন,নিরাপদে থাকেন। আজ ১১ই মাঘ ,শীতকাল,১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। আজ একটি অরিগ্যামি পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

o26.jpg

o22.jpg

গ্রামের বাড়িতে এসেছি গতকাল। ৮/১০ দিন থাকার ইচ্ছে আছে। প্রায় দশ মাস পর গ্রামে এসেছি। ভালই লাগছে। তবে গ্রামে একটু শীত বেশি।দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুর বলে শীতটা আরো একটু বেশি। এই সময়টা না আসতে পারলে শীতটা এবার উপভোগ করতে পারতাম না।আশাকরছি গ্রামে আগামি কয়েকটা দিন ভালই কাটবে। বন্ধুরা, আমার বাংলা ব্লগের নিয়মিত ব্লগিংয়ে আজ নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হলাম।প্রতি সপ্তাহে ন্যায় আজও একটি অরিগ্যামি পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আজ আমি ডগির মুখের আদলে বুক মার্ক এর অরিগ্যামি তৈরির পদ্ধতি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। বিভিন্ন ভাবে ভাঁজ করে যেহেতু অরিগ্যামি তৈরি করা হয় ,তাই কাগজের ভাঁজ বেশ সাবধানে দিতে হয়। কাগজের ভাঁজ ভুল হলে সম্পূর্ণ অরিগ্যামিটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অরিগ্যামি তৈরিতে ভাঁজ বেশ গুরুত্বপুর্ণ। আর তাইতো অরিগ্যামিকে বলা হয় কাগজে ভাঁজের খেলা। যেহেতু কাগজের ভাঁজের বর্ণনা করা কঠিন তাই আমি বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছি। যাতে ছবি দেখে যে কেউ এই অরিগ্যামিটি বানিয়ে নিতে পারেন। আর বুক মার্ক বেশ গুরুত্বপূর্ন বই পড়ুয়াদের জন্য। বুক মার্ক ব্যবহার করলে সহজেই পড়া পৃষ্ঠা খুঁজে পাওয়া যায়। ডগির আদলে বুক মার্ক এর অরিগ্যামিটি বানাতে আমি রঙ্গিন কাগজ,লাল ও কালো রং এর সাইন পেন উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করেছি । তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক,ডগির আদলে বুক মার্ক এর অরিগ্যামি তৈরির বিভিন্ন ধাপ সমূহ।

উপকরণ

o1.jpg

১।রঙ্গিন কাগজ
২।কালো ও লাল রং এর সাইন পেন

ডগির আদলে বুক মার্ক এর অরিগ্যামি তৈরির বিভিন্ন ধাপ সমূহ

ধাপ-১

o2.jpg

o4.jpg

o3.jpg

প্রথমে ১৫ সেঃমিঃX ১৫সেঃমিঃ সাইজের এক টুকরো রঙ্গিন কাগজ নিয়েছি ডগি আদলে বুক মার্ক এর অরিগ্যামি বানানোর জন্য।এবার কাগজের টুকরোটি উভয় পাশে কোনাকুনিভাবে ভাঁজ করে নিয়েছি।

ধাপ-২

o6.jpg

o7.jpg

এবার ভাঁজ খুলে নিয়েছি। এরপর দু'পাশের কোনা মাঝ দাগ বরাবর ভাঁজ করে নিয়েছি।

ধাপ-৩

o8.jpg

o9.jpg

এভার কাগজটিকে উল্টিয়ে নিয়েছি। এবং ছবির মতো পরপর ভাঁজ করে নিয়েছি।

ধাপ-৪

o10.jpg

কাগজটিকে মাঝ বরাবর ভাঁজ করে নিয়েছি।

ধাপ-৫

o11.jpg

ভাঁজের এক অংশকে পুনরায় মাঝ বরাবর ভাঁজ করে নিয়েছি।

ধাপ-৬

o12.jpg

o13.jpg

o14.jpg

এবার ছবির মতো পরপর ভাঁজ করে নিয়েছি।

ধাপ-৭

o16.jpg

o17.jpg

o18.jpg

দু'পাশের কাগজ ভাঁজ করার পর মাঝখানে যে কোনা কাগজটি তৈরি হয়েছে, তা হাতের চাপে চারকোনা ভাঁজ করে নিয়েছি। ফলে ডগির নাক তৈরি হয়েছে।

ধাপ-৮

o20.jpg

o21.jpg

এবার ছোট করে ভাঁজ করা কাগজের অংশগুলোর কোনা কিছুটা অংশ ভাঁজ করে নিয়েছি। এবং উপরের দিকে দু'পাশের কোনা অংশ ভাঁজ করে কান বানিয়ে নিয়েছি।

ধাপ-৯

o24.jpg

এরপর কালো রং সাইন পেন দিয়ে ডগির চোখ ও নাক রং করে নিয়েছি। এবং লাল রং এর সাইন পেন দিয়ে ডগির জিহবা ও কানের কিছু অংশ রং করে নিয়ে ডগি আদলের বুক মার্ক বানানো শেষ করেছি।

উপস্থাপনা

o27.jpg

o28.jpg

o29.jpg

আশাকরি আমার আজকে ডগির আদলে বানানো বুক মার্ক এর অরিগ্যামি আপনাদের ভালো লেগেছে।আবার দেখা হবে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে।সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন। নিরাপদে থাকুন।শুভরাত্রি।

পোস্ট বিবরণ

পোস্টঅরিগ্যামি
পোস্ট তৈরি@selina 75
মোবাইলSamsung A-10
তারিখ২৫শে জানুয়ারি, ২০২৫ইং
লোকেশনঢাকা

আমার পরিচয়

আমি সেলিনা আখতার শেলী। বর্তমানে গৃহিনী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি।স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা।এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।

সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

image.png

image.png

image.png

Sort:  
 last year (edited)

আপনার তৈরি বুক মার্ক আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। আসলে প্রতিনিয়ত আপনি খুবই চমৎকার চমৎকার বিভিন্ন পোস্ট করে থাকেন। আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে আপনার পোস্ট গুলো দেখতে। অনেক সময় এবং ধৈর্য ধরে প্রত্যেকটি ডাই এবং অরিগ্যামি তৈরি করে থাকেন। এতো চমৎকার পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

 last year 

চেস্টা করি সময় নিয়ে পোস্ট রেডি করতে। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 last year 

হ্যাঁ আপু গ্রামে একটু শীত বেশি। ঠিকই বলেছেন কাগজের ভাঁজ উল্টা হলে সম্পূর্ণ বুক মার্ক নষ্ট হয়ে যায়। কাগজ দিয়ে ডগির আদলে দারুন একটি বুকমার্ক তৈরি করেছেন আপু। বুকমার্ক আমাদের বেশ প্রয়োজনীয় একটা জিনিস। বুকমার্ক তৈরি করার প্রতিটি ধাপ দারুন ভাবে আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। প্রতিটি ধাপ বিস্তারিত বর্ণনা সহকারে শেয়ার করে নেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

 last year 

জি আপু বেশ ঠান্ডা গ্রামে। একেবারে হাড়কাঁপানো শীত।ধন্যবাদ আপু।

 last year 

Daily Task

dt1.png

dt2.png

 last year 

রঙিন কাগজ দিয়ে ডগির আদলে অনেক সুন্দর করে বুকমার্ক তৈরি করেছেন আপু। যেটা দেখতে খুবই সুন্দর লাগছে। ধন্যবাদ সুন্দর একটি ডাইপোস্ট শেয়ার করার জন্য।

 last year 

অনেক ধন্যবাদ আপু।

 last year 

বেশ সুন্দর ডগির আদলে বুক মার্ক তৈরি করেছেন আপনি। বেশ দুর্দান্ত হয়েছে দেখে ভালো লাগলো আপু। আগে প্রায় সময় আমি বুকমার্ক তৈরি করতাম। বুকমার্ক তৈরি করার প্রতিটি ধাপ দারুন ভাবে আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে অরিগ্যামি পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

 last year 

আবারও করা শুরু করুন ভাইয়া। তবে আমরাও নতুন নতুন বুক মার্ক দেখতে পাবো।ধন্যবাদ ভাইয়া।

 last year 

কাগজ দিয়ে ডগির অরিগ্যামি তৈরি করেছেন বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে চোখ আর মুখের অংশটা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। রঙিন কাগজের ভাজে ডগির আদলে এমন চমৎকার অরিগ্যামি কিভাবে তৈরি করতে হয় সেটা আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।

 last year 

চোখ মুখের অংশটিই ডগি আকার দিয়েছে। ধন্যবাদ ভাইয়া।

 last year 

বাহ্ আজকে দেখছি আপনি ডগির চমৎকার একটি বুকমার্ক তৈরি করেছেন। আপনার তৈরি করা বুকমার্ক এর প্রশংসা না করে থাকতে পারলাম না আপু। সত্যি বলতে অসাধারণ হয়েছে আপনার বুকমার্কটি। এতো সুন্দর করে ধাপে ধাপে উপস্থাপন করেছেন দেখে তো আমি ও শিখে ফেললাম।

 last year 

আপনাকে শেখাতে পেরে আমারও বেশ ভালো লাগছে। ধন্যবাদ ভাইয়া।