উন্মুক্ত!!

in আমার বাংলা ব্লগ5 months ago


আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।

আজ মঙ্গলবার, ১২ ই আগষ্ট ,২০২৫।

আমি @emon42.

বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে


1000584927.jpg


গত শুক্রবারের কথা। অন‍্যদিনের তুলনায় শুক্রবারে আমি একটু বেশিই ব‍্যস্ত থাকি। শুক্রবারে যেন আমি নিশ্বাস নেওয়ার ফুসরত থাকে না। তবে এই শুক্রবারের ব‍্যাপার টা ছিল একটু আলাদা। মোটামুটি আমার দুজন লেকচারার আসবে না। এটা কনফার্ম হতেই আমরা বাকি একটা ক্লাস অফ করে দেয়। অর্থাৎ লাঞ্চ ব্রেকের পরে আর কোন ক্লাস করিনি। ক্লাস না হওয়াই আমি চলে গেলাম আমার চাচাতো ভাইয়ের বাসায়। ভাইয়ার বাসায় শেষ গিয়েছিলাম এক মাস আগে। যাইহোক ভাইয়ার বাসায় গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে শুয়ে আছি। তখন ভাইয়ার ছেলে মাহমুদুল আমাকে বলে কাকু চলো বিকেলে ঘুরতে যায়। আমার শরীর টা ক্লান্ত থাকাই প্রথমে না বলি। কিন্তু পরবর্তীতে আবার ওর আবদারে আর না করতে পারিনি। মাহমুদুল এর বয়স ৫ বছর। মাহমুদুল কে আমি গজো বলেও ডাকি। ঐটা আমি একান্ত ব‍্যক্তিগত ভাবে বলি আর কী।


1000584907.jpg

1000584909.jpg

1000584912.jpg

1000584918.jpg

1000584921.jpg

1000584922.jpg


তো কোথায় যাব ভাবতে ভাবতে সিদ্ধান্ত নিলাম সদরঘাটে যাব। যাএাবাড়ি থেকে জায়গাটা কাছেই। পাশাপাশি আমি আগে কখনও যায়নি। এবং লঞ্চ নৌকা নদী এগুলো দেখলে মাহমুদুল বেশ উপভোগ করবে। শহরের জীবন সবসময় ঘর আর মোবাইলের মধ্যে ওদের জীবন বন্দি। মানুষ প্রকৃতি দেখার সুযোগ ওদের খুব একটা হয় না। দুজন ৫ টার পরে বের হলাম। একটা রিক্সা নিয়ে চলে গেলাম সদরঘাট বিকেল বেলায় রিক্সায় ঘুরতে বেশ ভালো লাগে। আপনার যদি কখনও মন খুব খারাপ থাকে। চেষ্টা করবেন বিকেলে একটা রিক্সা নিয়ে নিরিবিলি ঘুরতে। দেখবেন মন কিছুটা হলেও ভালো হয়ে যাবে। বেশ কিছুক্ষণ পরে আমরা সদরঘাট পৌছে গেলাম। তবে অসংখ্য মানুষের ভীড় কিছুটা বিরক্ত লাগছিল আমার।


1000584904.jpg

1000584905.jpg

1000584934.jpg

1000584932.jpg

1000584931.jpg

1000584933.jpg


যেহেতু আমি প্রথম বার এসেছি সদরঘাটে এইজন্যই প্রথমে আমি চেষ্টা করলাম কীভাবে যাব সেটা বের করতে। নদীর দর্শন পেতে অবশ‍্য ১০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ভেতরে যাওয়া লাগল। যাইহোক ভেতরে গিয়ে প্রথমে ঐভাবে নদীর দর্শন পাইনি। শুধু বড় কিছু নৌযান অর্থাৎ লঞ্চ দৃষ্টিগোচর হয়েছিল। পরবর্তীতে বেশ কিছুটা হেঁটে এগিয়ে যাওয়া পরে মোটামুটি নদী পুরোপুরি দেখতে পাই। মোটামুটি মাস দুই পরে এমন নদীর সংস্পর্শে এলাম। বাতাস টা কিছুটা ভালো লাগছিল। যদিও এই বুড়িগঙ্গা নদীর অবস্থা আগের মতো নেই। কলকারখানা এবং ঢাকার মানুষের বর্জ‍্যতে এই নদী একেবারে দূষিত হয়ে গিয়েছে। বিকেল যতটা যেতে থাকে মানুষের ভীড় যেন ততটাই বাড়তে থাকে। তবে বেশ লাগছিল। আমি নিজেও অনেকদিন পরে এমন উন্মুক্ত পরিবেশে গিয়েছিলাম।

একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম মাহমুদুল বেশ উচ্ছসিত ছিল এগুলো দেখে।সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে অনেকেই আমাদের মতো ঘুরতে এসেছে। এবং অধিকাংশ ছোট নৌকায় উঠছে। ছোট নৌকা গুলো সাধারণ দর্শনার্থীদের নিয়ে নদীর বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। আমার ইচ্ছা করছিল নৌকায় উঠতে। কিন্তু মাহমুদুল এর কথা ভেবে উঠলাম না। কারণ কোন অঘটন ঘটে গেলে তখন কিছু করার থাকবে না। আর ও একেবারেই ছোট সাঁতার জানে না। মোটামুটি ঘন্টাখানেকের বেশি আমরা ওখানে ছিলাম। এরপর চলে যাব ঠিক করি। বাইরে এসে আবার একটা রিক্সায় উঠে পড়ি। তবে আসার সময় যে ভাড়া দিয়ে এসেছিলাম যাওয়ার সময় সেটাতে আর হয়নি। আরও বেশি লেগেছে। মোটামুটি ছোট দুই ঘন্টার একটা আউটিং শেষে বাসায় ফিরি। মন এবং মস্তিষ্ক বেশ হালকা অনুভব করছিলাম তখন।



সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।



IMG-20231027-WA0008.jpg

Facebook
Twitter
You Tube



অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।


আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।





Amar_Bangla_Blog_logo.jpg

Banner(1).png

3jpR3paJ37V8JxyWvtbhvcm5k3roJwHBR4WTALx7XaoRovUdcufHKutmnDv7XmQqPrB8fBXG7kzXLfFggSC6SoPdYYQg44yvKzFDWktyjCspTTm5NVQAdTm7UoN34AAMT6AoF.gif



Heroism_Second.png


1000561739.png


Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.