ফটোগ্রাফি:- আমার আাঁকা কিছু দেয়াল চিত্র।

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago
"আসসালামু আলাইকুম" আশা করি আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সবাই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো ও সুস্থ আছি। আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে শুরু আজকে আমার নতুন ব্লগ। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আমার আাঁকা কিছু দেয়াল চিত্র। যেগুলো আমি অনেক আগে আমার জমানো টাকা দিয়ে রং তুলি কিনে আমার বাড়ির দেয়ালে আঁকিয়ে ছিলাম। তাহলে চলুন শুরু করা যাক....
আমার পেইন্টিং এর নেশা চাপে যখন আমি কলেজে পড়ি তখন থেকে৷ প্রফেশনাল ভাবে কখনো পেইন্টিং শেখা হয় নাই, তবে নিজের ইচ্ছে থেকে টুকটাক পেইন্টিং করতাম। মাঝে মধ্যে কলেজের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে প্রাইজও পেয়েছি।


১নং ফটোগ্রাফি।

এই পেইন্টিংটির পিছনে একটি লম্বা কাহিনি আছে৷ এত স্বল্প সময়ে বলে শেষ করা যাবে না৷ তবুও একটু বলি। আমার মাথায় এখন পেইন্টিং এর ভূত চেপেছে,যেভাবেই হোক দেওয়ালে পেইন্টিং করায় লাগবে৷ তাই প্রতিদিন কলেজ যাওয়ার জন্য আব্বুর কাছ থেকে দুপুরে খাওয়ার কথা বলে বেশি টাকা নিতাম। এরপর থেকে আমি প্রতিদিন বাস থেকে মঙ্গলবাড়ি নেমে যেতাম। সেখান থেকে আমি কলেজ পর্যন্ত হেটে যেতাম এজন্য প্রতিদিন ৩০ টাকা করে বেঁচে যেত। এভাবে টাকা গুছিয়ে রং কিনতে আমার প্রায় ১৫ দিন লেগেছিল। ১৫ দিন পর আমি এই পেইন্টিংটি করে ইচ্ছে পূরণ করতে পেরেছিলাম।


২নং ফটোগ্রাফি।

এটি আমার রুমের পূর্বদিকের দেওয়ালে করা। এই পেইন্টিংটি করতে আমার ৩ দিন লেগেছিল কারণ তখন আমার কলেজের পরীক্ষা চলছিল। আমি রোজ পড়া শেষ করে রাতে এটি করতাম৷ কোনোদিন ২ টার সময়ও এটি করেছি। এভাবে ৩ দিন পর এটি সম্পূর্ণ হয়েছিল।


৩ নং ফটোগ্রাফি।

এটি আমার ভাইয়ের ঘরের দেওয়ালে করা। আমার রুমের ডিজাইন দেখে আমার ভাই বললো আপু তোর রুমটা সাজালি আমার টাও সাজায় দে। তখন আমার কাছে রং ছিল না। তাই ওর কাছ থেকে এই কাজের জন্য ৫০০ টাকা নিয়েছিলাম যা,আজও শোধ হয় নাই। তারপর ওর রুমে এই পেইন্টিং টি করি। ও এটা অনেক পছন্দ করেছিল।


৪ নং ফটোগ্রাফি।

এটি আমার প্রথম ক্যানভাস ক্যালিওগ্রাফি পেইন্টিং। এটি করার সময় আমি অনেক নার্ভাস ছিলাম। কারণ আগে কখনো আমি এমন পেইন্টিং করি নাই। তবে প্রথম হিসেবে আমার কাছে এটি অনেক ভালো লেগেছে।


৫ নং ফটোগ্রাফি।

এটি আমার বাড়ির ডাইনিং রুমে করা। এটি করার সময় আমি আব্বুর থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছিলাম। কারণ এটি আব্বুর অনেক পছন্দ হয়েছিল। আব্বু খুশি হয়ে আমাকে দিয়েছিল।


৬ নং ফটোগ্রাফি।

এটি করা আমার সর্বশেষ পেইন্টিং। এটিও আমি ডাইনিং রুমে করেছিলাম। ডাইনিং রুমটা সুন্দর করে সাজানোর জন্যই এগুলো করা। এই পেইন্টিংটি করার সময় আমার বাসায় কিছু মেহমান এসেছিল। এবং তারা এটি অনেক পছন্দ করেছিল। কাজের প্রশংসা করলে শুনতে অনেক ভালো লাগে।


আমার করা দেয়াল চিত্র গুলো কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।


পরিশেষে ভুল ত্রুটি থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সকলেই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন।


By mahmuda002
Camera 📸 redmi12
Location

পোস্ট বিবরণ

শ্রেণীফটোগ্রাফি
ক্যামেরাredmi12
পোস্ট তৈরিmahmuda002

👩‍🦰আমার নিজের পরিচয়👩‍🦰


আমি মাহমুদা রত্না। আমি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার চৌদুয়ার গ্রামের মেয়ে। আর মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার জুগীরগোফা গ্রামের বউ। বর্তমানে আমার একটা পুত্র সন্তান আছে। আমি গ্রাজুয়েশন করছি কুষ্টিয়া গর্ভমেন্ট কলেজ থেকে। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ব্লগে কাজ করতে অনেক ভালোবাসি। আমি ছবি আঁকতে,গান গাইতে,কবিতা লিখতে,ক্রাফট এর কাজ করতে অনেক পছন্দ করি। বর্তমানে আমি ফ্রীল্যান্সিং সেক্টরে ডিজাইন এবং এসইও পদে কাজ করছি। আর আমি স্টিমেটে জয়েন করেছি (১৯ - ১১ - ২০২৩) সালে। সংক্ষিপ্ত আকারে আমার নিজের পরিচয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো।


Logo.png

(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )


4gZTTLyoV1msFb1u1BdB14ZHSP5sNg8hbP9cbJyTmUqfzLdXDsNijBKWNGJn5ogmozSiA7cyReMsKwomyC79dv8nHgZj3RKbXhPtULzHviAUBY9Vc8ousmvcnNywqK...hMHPzmtXdqcE25kuBukgtAciNVXSHonSRqmAmfHf9YgyuYwwZo1Nd9dUCogeVvSsKh3MRCxw1Khi2NyeZh4Rt4J9n7wTsZvJ1tiUMafwrMjZ5AQz2ERchsjjJv.png

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

3YjRMKgsieLsXiWgm2BURfogkWe5CerTXVyUc6H4gicdRPxFqYAEtmnwbJrshP4Tdaov4BmxkXJqLhx2USjht6Vy2soth7e34k1TKBQ2RZ2vXNJBF8X9uKH9aLNKFV...xU6W1ggWaLoBhkXz82k34bfNqfnFypapZe2oHzEHELJzLj6msr2RorLQSivfSXJaPiBZmUdQYzewFKsaGxDCyC6yRhEDYu8mNwzeEnkjmmjmpLrQEyQZKZnCTp.png

Posted using SteemPro Mobile

Sort:  
 2 years ago 

আপনার আকা দেওয়াল চিত্র গুলো খুবই মনোমুগ্ধকর ছিল বিশেষ করে ২য় এবং ৩য় টা আমার কাছে বেশি ভাল লেগেছে অনেক ধন্যবাদ আপনার এই সুন্দর ছবি গুলো আমাদের মাঝে গুছিয়ে শেয়ার করার জন্য।শুভ কামনা রইলো।

 2 years ago 

বেশ চমৎকার দেয়ালের চিত্র অঙ্কন করে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাবি। অনেক অনেক ভালো লাগলো আপনার সুন্দর এই আর্ট দক্ষতা দেখে। অসাধারণ হয়েছে আপনার প্রত্যেকটা আর্ট কৌশল। আশা করব এভাবে আরো সুন্দর সুন্দর কিছু অঙ্কন করে আমাদের দেখাবেন।

 2 years ago 

ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।

 2 years ago 

স্কুলে যাওয়ার টাকা জমিয়ে জমিয়ে রং কিনে ঘরের দেওয়ালে আর্ট করে আপনার ঘরটি অনেক সুন্দর করে সাজিয়েছেন দেখছি আপু। আপনার আর্ট করার দক্ষতা অনেক ভালো। আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে অনেক ভালো লাগলো আপু। অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 2 years ago 

ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।

 2 years ago 

দোয়ালের পেইন্টিং গুলো এতোটাই সুন্দর লাগতেছে মনে হচ্ছে ঘড়ের সাথে জীবন্ত গাছ। আসলে পেইন্টিং যে জীবন্ত প্রকৃতি ফুটিয়ে তুলতে পারে সেটা আপনার পেইন্টিং দেখেই বুঝা যাচ্ছে। আপু অনেক অনেক সুন্দর হয়েছে। এতো সুন্দর পেইন্টিং শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

 2 years ago 

অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।

 2 years ago (edited)

বোঝাই যাচ্ছে অংকন করার ব্যাপারে আপনি অনেকটাই আগ্রহ প্রকাশ করেন যার কারণে নিজের জমানো টাকা দিয়ে রং কিনে এনে সেটা দেয়ালে অঙ্কন করেছেন। আপনার এই দেয়াল চিত্র অংকন দেখে আমি সত্যি মুগ্ধ হয়ে গেলাম কোনটা রেখে কোনটার প্রশংসা করবো ভেবেই পাচ্ছিনা। প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে, ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের মাঝে চমৎকারভাবে শেয়ার করার জন্য।

 2 years ago 

আর্ট একটা নেশা। আর এই নেশা চাপলে আর্ট না করা পর্যন্ত শান্তি পাওয়া যায় না।

 2 years ago 

আপনার অংকন করা সুন্দর সুন্দর দেওয়াল চিত্রের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে আমার খুবই ভালো লেগেছে। একই সাথে প্রত্যেকটি দেয়াল চিত্রের খুবই চমৎকার বর্ণনা উপস্থাপন করেছে যেগুলো পড়ে আমার সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে। চমৎকার একটি ফটোগ্রাফির পোস্ট আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 2 years ago 

ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।

 2 years ago 

বাহ আপনি আজকে আমাদের মাঝে বেশ কিছু অসাধারণ ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন। সত্যি আপনার হাতের কাজ দেখে আমি বেশ মুগ্ধ হয়েছি। দেওয়ালে তৈরি করা আপনার প্রত্যেকটি পেইন্টিং দেখতে আমার কাছে বেশ অসাধারণ লেগেছে। আমার কাছে সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে ডাইনিং রুমের পেইন্টিং। আপনার আব্বু খুশি হয়ে আপনাকে ৫০০ টাকা দিয়েছিল জেনে বেশ ভালো লেগলো। ধন্যবাদ এত সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য।

 2 years ago 

তোমাকে ধন্যবাদ মামা সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।

 2 years ago 

পেইন্টিং গুলোর বিষয় বলতে গেলে এক কথায় একদম অসাধারণ হয়েছে। রুমের মধ্যে ওয়ালে যে এরকম দারুন ভাবে পেইন্টিং করা যায় এটা আপনার ফটোগ্রাফি থেকে দেখতে পেলাম আপু। প্রত্যেকটা পেইন্টিং আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। তবে শুরুর দিকে দেখছি আপনি পেন্টিং করার জন্য রং কিনতে বেশ কষ্ট করেছেন হেঁটে পর্যন্ত কলেজে গেছেন। আপনি যে একজন প্রতিভা সম্পন্ন মানুষ এটা বোঝা যাচ্ছে। আপনার জন্য শুভকামনা রইল অবিরাম।

 2 years ago 

বলে না শখের দাম লাখ টাকা। আমারও ঠিক তেমনি হয়েছে। শখ ছিল টাকা ছিল না তাই হেঁটে কষ্ট করে গুছিয়েছি। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।

 2 years ago 

জি আপু নিজের শখ থেকেই নতুন কিছু করা সম্ভব। তবে আপনার বাসার কাছে যদি আমার বাসা হতো তাহলে ছোট ভাই হিসেবে আমিও আপনার কাছে আবদার করতাম আমার রুমে এরকম পেইন্টিং করে দেওয়ার জন্য ☺️☺️।

 2 years ago 

বাহ, আপু আপনি তো দেখছি অনেক সুন্দর আর্ট করেন। ঘরের দেওয়ালে অনেক সুন্দর সুন্দর আর্ট করেছেন। আমরা তো শুধু আর্ট তৈরি করা খাতায় অথবা বিভিন্ন খাতায় এ ধরনের আর্ট গুলো তৈরি করি। আপনার পেইন্টিং গুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে এই বিষয়ে আপনি অনেক বেশি পারদর্শী। খুবই ভালো লাগলো আপু আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে ধন্যবাদ।

 2 years ago 

দেয়ালে আর্ট করতে আমার বেশ ভালো লাগে। ফাঁকা দেয়াল দেখলেই মাথার পোকাগুলো নাড়া দেয় কিছু আাঁকার জন্য।

 2 years ago 

আপু আপনার প্রতিভা যতই দেখছি ততই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছি। কলেজ লাইফ থেকেই আপনি পেইন্টিং করেন জেনে ভালো লাগলো। যদিও কখনো দেয়ালে পেইন্টিং করা হয়নি। তবে আপনার পেইন্টিং গুলো দেখে ভীষণ ভালো লেগেছে আপু। এক কথায় অসাধারণ হয়েছে।

 2 years ago 

অসংখ্য ধন্যবাদ আপু সুন্দর মন্তব্য করে আমাকে আরো আগ্রহী করার জন্য।