অর্কিড ফুলের জীবনী।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
ফুল পছন্দ করে না এই পৃথিবীতে এমন কোন মানুষই নেই। বিভিন্ন রকমের ফুল আমার ভীষণ পছন্দের তাই আজকে আমার পছন্দের এবং আমার জীবনের সঙ্গী বলা চলে একটা ফুলের জীবনী এবং আমার সাথে কিভাবে জড়িয়ে গেল তার কাহিনী আপনাদের সাথে শেয়ার করব, আশা করি আজকের আমার এই অর্কিড ফুলের জীবনী আর আমার সাথে জুড়ে থাকার কাহিনী আপনাদের ভালো লাগবে। আমি তখন অনেক ছোট ছিলাম যখন আমি জীবনে প্রথম অর্কিড ফুল দেখি। আমি তখন সম্ভবত নবম শ্রেণীতে পড়তাম। একদিন হঠাৎ স্কুল থেকে বাড়িতে এসে দেখতে পেলাম আমাদের পড়ার কাচের টেবিলে সুন্দর একটা কাচের স্বচ্ছ সাদা ফুলদানির মধ্যে বেশ কয়েকটা অর্কিড ফুল অর্থাৎ অর্কিড ফুলের বেশ কয়েকটা স্টিক রয়েছে। আমার কাছে ফুলটা ছিল একদমই অচেনা তাই দেরি না করে দিদির কাছে জিজ্ঞাসা করলাম যে এটা কি ফুল দিদি বলল অর্কিড ফুল। নামটা খুবই অদ্ভুত লাগলো আর শুনেছিলাম এটা নাকি বিদেশি ফুল। আমি মনে ভাবলাম বিদেশি ফুলের বিদেশি নাম এদেশের হলে হয়তো এদেশের মতনই নাম হত। ফুলগুলো কি একটা কেমিক্যাল দেওয়া কোটোর মধ্যে থাকতো এবং সেই কোটসহ জলের মধ্যে ফুলদানির মধ্যে রাখা থাকতো। দেখতে ভীষণ ভালো লাগতো আর পড়তে পড়তে এমন সুন্দর ফুলের সৌন্দর্য দেখতে আরো ভালো লাগতো।
এই ফুলগুলো নষ্ট হয়ে গেলে আবার এই ফুল একটা দাদা দিয়ে যেত। এমন সুন্দর ফুল দেখতে ভীষণ ভালো লাগতো এবং ফুলটার সাথে একটা মায়া জড়িয়ে যেত অনেক স্মৃতি মনের অনেক আবেগ জড়িয়ে পড়তো। ফুলটার সাথে যেন মনের অনেক কথা বলতাম যা অন্যদের কারোর কাছে বলা যেত না। বেশ কয়েকবার অর্কিড ফুল আসার পর আর আসতো না কারণ সিজন শেষ হয়ে গেছিল এবং অর্কিড ফুলের দাম অনেক বেশি ছিল। ছোট থেকে বড় হয়ে গেছে এবং বিয়ে হয়ে গেছে। তার মধ্যে বেশ কয়েকবার অর্কিড ফুল দেখেছি কিন্তু দোকানে বা ছবিতে। বিয়ের পর হঠাৎ করে পাশের বাড়িতে দেখলাম প্রচুর অর্কিড ফুল ধরেছে দেখে ভীষণ ভালো লাগতো তাই ছাদে গিয়ে বেশ সময় কাটাতাম এবং পাশের বাড়ির ওই ফুটে থাকা অর্কিড ফুল দেখতাম। হঠাৎ একদিন আমার বর বাড়ি ফেরার সময় ছোট্ট একটা চারা গাছ এনে বলল পাশের বাড়ির জেঠু দিয়েছে। আসলে পাশের বাড়িতে জেঠু ছিল তারই প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানোর শখ ছিল এবং তার গাছের মধ্যেই বেশ কয়েকটা গাছ ছিল অর্কিড। তিনি ওই গাছের ছোট চারা বের হতেই আমাদের একটা চারা উপহার দিয়েছে। আমি দেখি ভীষণ খুশি হয়ে জিজ্ঞেস করলাম যে কি রংয়ের অর্কিড ফুল ফুটবে।বর বলল সে জানেনা ফুল ফুটলেই দেখা যাবে।
বর সুন্দর একটা বড় টবে গাছটি রোপন করল এবং আমাকে শিখিয়ে দিল কিভাবে গাছের যত্ন নিতে হবে। আমি প্রতিদিন গাছের যত্ন নিতে থাকলাম এবং অপেক্ষায় থাকলাম কবে ফুল ধরবে। প্রথমবার যখন গাছে কুড়ি ধরল আমি এবং আমার বর ভীষণ খুশি এবং আনন্দের অনুভব করলাম এবং অপেক্ষা করতে লাগলাম কবে ফুল ধরবে। একে একে ফুল ফুটতে ফুটতে পুরো স্টিক ফুটে গেল আর এই দৃশ্য দেখে প্রতিনিয়ত আমরা আমাদের মন ভরিয়ে তুলতাম। বাড়ির বাইরের অর্থাৎ উঠোনে এবার রাস্তা দিয়ে দেখতে চমৎকার সুন্দর লাগতো কারণ জানলায় ফুলটা সুন্দরভাবে শোভা বৃদ্ধি করতো। এই অর্কিড ফুল একবার ফুটলে প্রায় দুমাস থাকে তারপর ধীরে ধীরে একটা একটা করে ফুল ঝরে যায়। এবছর যখন এই অর্কিড গাছের আর একটা ডাল জন্ম নিচ্ছিল তখন আমি বুঝেছিলাম যে এই ডালেও নতুন করে ফুল ফুটবে। তাই আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করার উদ্দেশ্যেই একদম ছোট্ট থেকে পর্যায়ক্রমে ছবি তোলা শুরু করেছিলাম। একদম ছোট্ট অবস্থাতে গাছের গোড়া থেকে ডালটি বের হয়েছে এবং ধীরে ধীরে বড় হয়ে সেই ডালটি বেশ সুন্দর একটা পরিপূর্ণ ডালে পরিণত হয়েছে যার থেকে সুন্দরভাবে নতুন ফুলের জন্ম দিতে পারবে। প্রচুর পাতা দেখা গেছে এই ডালে, ডালটি বড় হওয়ার পরে আমি প্রতিদিন দেখতাম ফুল ফোটার জন্য কোন স্টিক বের হচ্ছে কিনা।
প্রথম যেদিন একটা স্টিক বের হতে দেখলাম সেদিন খুব খুশি হয়েছিলাম যে আমার অপেক্ষা এবার শেষ হয়েছে। ধীরে ধীরে ডালটি বড় হলো এবং ছোট ছোট ফুল বের হতে শুরু করল আর আমিও সেগুলোর পর্যায়ক্রমে ছবি তুলতে থাকলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করার উদ্দেশ্যে। পরবর্তীতে দেখলাম আরো একটি ডাল থেকে ফুল ধরার জন্য আরও একটি স্টিক বেরিয়েছে এবং সেটাতেও কুড়ি ধরা শুরু করেছিল। আমাদের এই অর্কিড ফুলের গাছটি একদম জানলার সাথে বেঁধে দেওয়ার কারণে বাইরে থেকে বেশ সুন্দর লাগে জানলাটিকে দেখতে। ফুল না ফুটলে গাছটাকে দেখলেও ভালো লাগে আবার ফুল ফুটলে সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায় এবং জানালার দিকে যাতায়াতের সময় সবাই তাকাতে থাকে। সত্যি কথা বলতে প্রায় এক মাস থেকে দেড় মাস আগে হয়তো সব ফটোগ্রাফি গুলো পড়ে রেখেছিলাম কিন্তু পোস্টটা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রায় দুমাস হতে চলল এখনো ফুল গাছের ফুটেই রয়েছে তাই হঠাৎ মনে পড়ল আর আপনাদের সাথে অর্কিট ফুলের জীবনীটা তুলে ধরলাম। বেশ ভালো লাগে চোখের সামনে এমন গাছের বা ডালের একটু একটু করে বড় হয়ে ওঠা এবং তাতে সুন্দর ফুল ফল হতে দেখতে।
ক্যামেরা পরিচিতি : Realme
ক্যামেরা মডেল : realme narzo 60 pro
ক্যামেরা লেংথ : 26 mm
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।


















