কালীপুজোর অপূর্ব প্যান্ডেল
কালীপুজো মানেই শুধু অন্ধকার রাতে প্রদীপের আলো নয়- এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিল্প, সৃজনশীলতা, ধর্মীয় আবেগ এবং বাঙালির দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। প্রতি বছর কালীপুজোর সময় শহর থেকে গ্রাম- সর্বত্র তৈরি হয় নানা ধরনের প্যান্ডেল। কোথাও আধুনিক স্থাপত্যের ছোঁয়া, কোথাও ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের আদল, আবার কোথাও সম্পূর্ণ কল্পনানির্ভর শিল্পকর্ম। প্রথম ছবিটির দিকে তাকালেই যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে, তা হলো প্যান্ডেলের বিশাল স্থাপত্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন রাতের অন্ধকারের মধ্যে একটি প্রাচীন মন্দির আলোকসজ্জায় নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্যান্ডেলের সামনের অংশটি একাধিক ধাপে সাজানো এবং প্রতিটি স্তরেই রয়েছে অসংখ্য কারুকাজ। স্তম্ভ, খিলান, অলংকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্যধর্মী নকশার সমন্বয়ে পুরো কাঠামোটিকে অত্যন্ত জমকালো করে তুলেছিল।
বিশেষ করে মাঝের অংশটি ধাপে ধাপে উপরের দিকে উঠে গিয়ে একেবারে চূড়ায় পৌঁছেছে। এই ধরনের নকশা প্যান্ডেলটিকে অনেকটা ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের স্থাপত্যের মতো করে তুলেছে। প্যান্ডেলের গায়ে চোখ রাখলে দেখা যায় অসংখ্য ছোট ছোট নকশা ও অলংকরণ। কোথাও ফুলের নকশা, কোথাও দেবদেবীর অবয়ব, কোথাও আবার বিভিন্ন পৌরাণিক ও শৈল্পিক মোটিফ।সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো- পুরো প্যান্ডেলটি যেন একটি বিশাল ভাস্কর্য। প্যান্ডেলের ভিতরে প্রবেশ করলে সামনে দেখা যায় মা কালীর অসাধারণ প্রতিমা। প্রতিমাটির নির্মাণশৈলীতে ঐতিহ্যবাহী কালীর রূপের সঙ্গে শিল্পীর নিজস্ব সৃজনশীলতার স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। কালো বর্ণের দেবীমূর্তি, প্রসারিত জিহ্বা, একাধিক হাত, হাতে বিভিন্ন অস্ত্র ও প্রতীক এবং গলায় মুণ্ডমালা- সব মিলিয়ে দেবীর শক্তিশালী রূপটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল।






