কবিতা - নদী।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসী, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভাল আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি কবিতা শেয়ার করব। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, নদী।

হাজার বছর আগে,
এই বরফ শীতল হিমালয় কোলে,
আমার জন্ম হয়েছিল।
আমি নদী, মায়ের কোলে থাকার স্বভাব আমার নেই।
আমি বয়ে চলেছি শহর, নগর, গ্রাম, প্রান্তর ঘুরে
এক সময় বিলিন হয়েছি গভীর সমুদ্রে।
তবে আমি হারিয়ে যাইনি।
মিলিয়ে যাইনি কোথাও।
আমি নদী, আমি এমনই।
আমি ধারণ করেছি কত ইতিহাস!
কত নাম, কত খ্যাতি, কত যশ।
আমার স্মৃতিতে আছে কত দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণা।
কৃষকের কান্না, কৃষকের হাসি,
দুটির কারনই আমি।
কখনও কখনও জেলে বউরা আমার পূজা করে,
কখনও কখনও আবার করে অভিসম্পাত।
কিন্তু আমার দোষ কি?
আমি তো তাদের মা!
মা কি কখনও সন্তানের অমঙ্গল চায়?
এ তো সন্তান, সে নিজের ইচ্ছায় আমার থেকে কষ্ট নেয়।
আমি তাদের পানির যোগান দেই,
তারা পান করে এবং অন্য কাজ করে।
তারা আমার বুকে চড়ে যায় অন্যত্র।
আমি তাদের দেই মাছ, শামুক, ঝিনুক।
কিন্তু তারা দগ্ধ করে আমার বুক,
উত্তোলন করে বালু, আমাকে করে রুক্ষ।
তারা আমার পানিকে করে দূষিত।
ফেলে রসায়ন আর বর্জ।
নদী আমাদের কাছে মায়ের মতই আপন। পরম পাওয়া। নদী আমাদের কখনও উপকার ভিন্ন অপকার করেনা। তবুও মাঝেমাঝে প্রাকৃতিক কারনে নদীর কাছে আমরা অনেক কিছুই হারাই। তাতে নদীর কোন দোষ নেই। দোষ সব আমাদের। কারন আমরাই নদীকে দিন দিন উপেক্ষা, অবজ্ঞা এবং অপব্যবহার করি। তাই এসকল প্রাকৃতিক দূর্যোগের মূল কারন আমরাই।