স্বরচিত কবিতা "নিরব আর্তনাদ" ||
আশা করি সবাই ভালো আছেন, আপনাদের দোয়ায় আমিও অনেক ভালো আছি। গত কয়েকদিন যাবত ইন্টারনেট না থাকায় পোস্ট করতে পারিনি। আজকেও নেট অনেক সমস্যা দেখা দিচ্ছে তবুও পোস্ট করার চেষ্টা করলাম। আজ আমি আমার স্বরচিত কবিতা আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে যাচ্ছি। আমি মাঝে মাঝেই লেখালেখি করি। কবিতা লিখতে বেশ ভালোই লাগে। অবসর সময়ে প্রায়ই আমি কবিতা লেখি। তাই আজ আমি নিজের লেখা একটি কবিতা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আশা করি সবাইকে ভালো লাগবে। বেশ কয়েকদিন থেকে তেমন কবিতা লেখা হচ্ছেনা তাই আজকে ভাবলাম একটি কবিতা লেখা যাক। তাই আজকে আমি একটি কবিতা লিখলাম কবিতার শিরোনাম দিলাম "নিরব আর্তনাদ"।
বন্ধুরা আসুন এখন কবিতাটি সম্পর্কে দুই একটি কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
মূলভাব:
এই গদ্য কবিতার মূলভাব হলো শিক্ষার্থী আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অন্তর্নিহিত বেদনা, আশা, এবং সংগ্রামের চিত্রায়ণ। নিরব আর্তনাদ বলতে বোঝানো হয়েছে সেই নীরব চিৎকার যা শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করার সময়ে অনুভব করে। এই আর্তনাদ প্রকাশ করে তাদের অন্তরের দহন, তাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা এবং তাদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। কবিতায় শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা ও ত্যাগের প্রশংসা করা হয়েছে, এবং একটি দিনের অপেক্ষা করা হয়েছে যখন এই নিরব আর্তনাদ একটি গর্জনে পরিণত হবে যা পৃথিবীকে বদলে দেবে।
নিরব আর্তনাদ
রাতের অন্ধকারে, নক্ষত্রেরা যখন নিস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন,
তখনও একটি কণ্ঠস্বর ভেসে আসে নির্জনতার মাঝে।
শব্দগুলো স্পষ্ট নয়, বরং একটি হৃদয়ের আর্তনাদ।
একটি কিশোর হৃদয়, স্বপ্নে ভরা, ভবিষ্যৎ দেখেছে আলোর পথে।
কিন্তু সেই আলোর পথে রয়েছে কাঁটাভরা এক শেকল,
যা আঁকড়ে ধরে স্বপ্নের পাখির ডানা।
শিক্ষার্থীর মুখে হাসি, চোখে বিস্ময়,
কিন্তু অন্তরে জ্বলছে এক অনন্ত আগুন।
তারা চায় মুক্তি, চায় স্বাধীনতা,
চায় নিজেদের পরিচয়, চায় নিজেদের ভবিষ্যৎ।
প্রতিটি পা রাখছে এক অজানা পথে,
প্রতিটি শ্বাস টেনে নিচ্ছে সাহসিকতার সুর।
কিন্তু সেই পথ যে কাঁটাভরা, নিষ্ঠুরতায় মোড়ানো,
তা তাদের মনে সঞ্চারিত করছে একটি নিরব ভয়।
নিরব আর্তনাদ, যা কেউ শোনে না,
যা কেউ বোঝে না, সেই আর্তনাদ।
কিন্তু সেই নিরবতা যেন একটি প্রার্থনা,
যা ছড়িয়ে যায় প্রতিটি ছাত্রের হৃদয়ে।
তাদের সংগ্রাম, তাদের ত্যাগ,
একদিন আছড়ে পড়বে এই পৃথিবীর বুকে।
তাদের নিরব আর্তনাদ, একদিন রূপ নেবে
একটি গর্জনে, যা বদলে দেবে এই জগৎ।
শিক্ষার্থী আন্দোলন, তুমি হলে
একটি নিরব আর্তনাদের প্রতীক,
যা একদিন কাঁপিয়ে দেবে এই পৃথিবী,
আর বদলে দেবে ইতিহাসের গতিপথ।
এটি শিক্ষার্থী আন্দোলনের আড়ালে থাকা অনুভূতির একটি চিত্রায়ণ, যা প্রকাশিত হচ্ছে একজন শিক্ষার্থীর নিরব আর্তনাদের মাধ্যমে।
আমার মায়ের অনুপ্রেরণায় আমার লেখালেখির জগতে আসা। যদিও মায়ের ইচ্ছে পূরণ করতে পারিনা তবে মাঝে মাঝে সময় পেলে কবিতা লেখার ট্রাই করি। আম্মুর পদ্য কবিতাগুলো আমার কাছে দারুণ লাগে। কি চমৎকার করে স্বরবৃও ছন্দে লিখেন। ৮ ৬ মাত্রার এই কবিতাগুলো আমি নিয়মিত ফলো করি এবং সেভাবে লেখার চেষ্টা করি,তবে দু একটি মাত্রা এদিক সেদিক হলে আম্মুর কাছে ঠিক করে নিই। আমার মায়ের লেখা কবিতার অনেক ভক্ত পাঠক আমি দেখেছি দেশ এবং দেশের বাইরেও, যা আমাকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে। আমার বাংলা ব্লগ পরিবারেও অনেকেই আম্মুর লেখা কবিতাগুলো ভীষণ পছন্দ করে, এটি আমার কাছে অনেক গর্বের। আপনাদের অনুপ্রেরণা পেলে আগামীতে আরো মজার মজার কবিতা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো।
এতক্ষণ ধরে মনোযোগ দিয়ে আমার ব্লগটি পড়ার জন্য আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। দেখা হবে অন্য একটি ব্লগে ততক্ষণে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
আমি আল হিদায়াতুল শিপু। বর্তমানে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট এর একজন ছাত্র। আমি ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি ভ্রমণ করতে অনেক পছন্দ করি। আমি মাঝে মাঝে কবিতা ও লিখি। আমার লেখা কবিতা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটা পত্র পত্রিকা এবং মেগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। কাব্যকলি বইতেও আমার লেখা কবিতা রয়েছে।




Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনার মায়ের অনুপ্রেরণার মাধ্যমে আপনি কবিতা লেখা আরম্ভ করেছেন জেনে বেশ ভালো লাগলো। বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশের চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আপনি চমৎকার একটি কবিতা লিখেছেন পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আসলেই ভাই শিক্ষার্থীদের আর্তনাদ কেউই বুঝতে চাচ্ছে না। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর একটি কবিতা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আসলে ভাই পরিস্থিতি একেবারে কঠিন, প্রতিটি মুহূর্ত খুবই নিস্তব্ধ কাটে। কণ্ঠস্বরের আওয়াজ বের হওয়ার কোন সুযোগ নেই। বুকের ভিতর নিরব আর্তনাদ বয়ে যায়। হৃদয়ের কিছু অনুভূতি কবিতার ছন্দে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর ভিতরেই এই নীরব আর্তনাদগুলো রয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা এবং অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। আপনার গদ্য কবিতাটা বেশ ভালো লেগেছে পড়ে। প্রত্যেকটা লাইন সত্যি অসাধারণ হয়েছে। ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর একটি কবিতা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি খুবই খারাপ। বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের যে অবস্থান হয়তো তাদের দাবি মেনে নিলে দেশের সহিংসতা কমে যেত এবং আবারো পূর্বের মতো শান্তি বিরাজ করত। তবে সেই সময় উপযোগী সুন্দর একটি কবিতা লিখে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন দেখি অনেক ভালো লাগলো। বেশ দারুন হয়েছে কবিতার প্রত্যেকটা লাইন।
আন্দোলনের চিত্র দেখে হৃদয়ের মাঝে অদ্ভুত রকমের কষ্ট তৈরি হয়েছে ভাইয়া। তবে আপনি যে এত ভালো কবিতা লিখেন আগে জানতাম না। সত্যি ভাইয়া আপনি কিন্তু আপনার মায়ের মতই ভালো কবিতা লিখেন। অসাধারণ হয়েছে আপনার লেখা কবিতার লাইনগুলো।