Freewriting world news
Facebook collect
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ করতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেও আমেরিকার মিত্ররা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে,— ট্রাম্পের কথা ও কাজের মধ্যে মিল নেই, কারণ তিনি ইতিমধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় আরও হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছেন।
পলিটিকো পত্রিকা— আটজন ইউরোপীয় ও এশীয় কূটনীতিকের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ বার্তার কারণে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
ইরান নিয়ে আমেরিকার আসল লক্ষ্য কী এবং হোয়াইট হাউস থেকে আসা পরবর্তী পদক্ষেপের সংকেতগুলো অস্পষ্ট হওয়ায় একজন এশীয় কূটনীতিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন,— "তারা আসলে কী করতে চাইছে সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই নেই।"
আরেকজন কূটনীতিক ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেছেন,— পারস্য উপসাগরে এত বিপুল সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর পর আবার সেগুলো ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি কাজ। তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের চেয়ে আমেরিকার বাস্তব পদক্ষেপের ওপরই বেশি নজর দিচ্ছেন।
ইউরোপীয় একজন কূটনীতিক মনে করেন, এই বিভ্রান্তিকর অবস্থানের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন আসলে নিজেদের জন্য দুটি পথই খোলা রাখছে—হয় তারা একটি জয় দাবি করে সরে আসবে, অথবা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেবে। তার মতে, এই ধরনের আচরণ ট্রাম্প প্রশাসনের এক ধরণের অস্থিরতাকেও প্রকাশ করে।
আমার বিশ্লেষণ হচ্ছে— মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই আমেরিকার প্রায় ৫০ হাজার সৈন্য মোতায়েন ছিলো। তারা ও ইরানের হামলার ভয়ে আমেরিকার বিভিন্ন ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন হোটেল ও বাসায় অবস্থান করছে। সেখান থেকেই তারা ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে নতুন করে আরো ১০ হাজার স্পেশাল ফোর্স জড়ো করা হয়েছে— ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২,০০০ থেকে ৩,০০০ প্যারাট্রুপার। এছাড়াও জলপথে ইউএসএস ট্রিপলি এবং ইউএসএস বক্সার নামক যুদ্ধজাহাজে করে আরো কয়েক হাজার মেরিন সেনা (৩১তম এবং ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট) এই অঞ্চলে জড়ো করা হয়েছে।
আমি সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক— ক্যাট ইনস্টিটিউট এবং টিআরটি ওয়ার্ল্ডে বিশ্লেষকদের ধারণা প্রায় একি। এত কম সৈন্য দিয়ে ইরানের একটা দ্বীপ ও দখলে নেয়া যাবে না। সম্পূর্ণ ইরান দখল করে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হলে অন্তত ৫ থেকে ১৬ লাখ সৈন্যের প্রয়োজন হতে পারে।
আমার ধারণা আমেরিকার কিছু স্পেশাল ফোর্স জড়ো করার কারণ হচ্ছে— কিছু লিমিটেড অপারেশন করে আবার সেইফ জায়গায় ফিরে যাওয়া। যেমন— হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে আইআরজিসির অবস্থানে গ্রাউন্ড অপারেশন চালানো, আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার ধ্বংস করা। যেগুলো বিমান হামলায় ধ্বংসা করা যাচ্ছে না।
যেটা আবার হিতেবিপরীত ও হতে পারে। মার্কিন স্পেশাল ফোর্স অধিকমাত্রায় হতাহত হলে, ফুলস্কেল গ্রাউন্ড ইনভেশন ছাড়া, আমেরিকার হাতে আর অপশন ও থাকবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চাচ্ছে এটা'ই।
অধিকমাত্রায় কফিন আমেরিকায় ফেরত গেলে, জনগণ ও বলবে— যাও পূর্ণশক্তিতে প্রতিশোধ নাও।
আমি উপরের এক কূটনীতিকের সাথে একমত। এত অস্ত্রসস্ত্র জমা করে, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এনে, যুদ্ধ বিমান এনে, এত টাকা খরচ করে, এখন যুদ্ধ না করে ফিরে যাওয়াটা আমেরিকার জন্যে ঠিক হবে না।

