চাঁদনি চকের ভিড়ে লস্যির বিরতি
নমস্কার বন্ধুরা,
চাঁদনির অসংখ্য দোকানের কথা বলতে বলতে গলা শুকিয়ে গেছিল। মাথার ভেতর ল্যাপটপ আর ফোনের ভাবনা চলছে, কোথাও দাম ঠিক লাগছে না, কোথাও আবার জিনিসের অবস্থা মন ভরচ্ছে না। সেই সাথে হাঁটতে হাঁটতে কোমড় কোথাও একটা বসার জায়গা খুঁজছিল। ঠিক তখনই চোখে পড়ল একটা ছোট্ট বার। মনে হলো, একটু দাঁড়িয়ে দম নিলে মন্দ হয় না। উহু এটা সেই ধরনের কিছু নয়, নাম বোম্বাই মিল্ক বার। হাঃ হাঃ। কাছে গিয়ে বুঝলাম, এটা সেই ধরনের বার নয়। নামটা পড়ে মনটা আরো হালকা হয়ে গেলো। নামের মধ্যেই একরকম স্নিগ্ধতা। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চোখে পড়ল বিশাল মাপের একটা তামার পাত্র। বেশ পুরনো, মাঝেমধ্যে পালিশ করা হলেও ব্যবহারের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। তখনই আন্দাজ করলাম, এখানে রাতের দিকে নিশ্চয়ই ভালো পরিমাণে গরম দুধ বিক্রি হয়। চাঁদনি চকের ভিড়ের মাঝে এমন একটা দোকান সহজে চোখে পড়ার মতো নয়।
দোকানের ভেতরে ঢুকে দেখি, খুব বড় কিছু নয়। অল্প কয়েকটা জিনিসের মেনু। মেনুর সবকিছু দুধের ওপর নির্ভরশীল। দুধ, দুধ আর দুধ, মাত্র একটি উপাদান ঘিরে গোটা দোকানের অস্তিত্ব। আজকাল লম্বা মেনু দের ভিড়ে সীমিত পরিসরটা বেশ ভালোই লাগল। অল্প কিছু বিষয়ের উপরেই বিশেষত্ব তৈরি করার মতন আরকি। মনে হলো, যারা কম জিনিস রাখে, তারা সেই কয়েকটাতেই বেশি মন দেবে। ছোট্ট মেনু থেকে একটু ভেবে লস্যি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। শীতকাল, তবুও লস্যি!!! চিন্তার কিছু নেই আমি বরফ ছাড়াই লস্যি বানাতে বলেছিলাম।
কয়েক মিনিটের মধ্যে হাতে এসে পড়লো কাগজের গ্লাসে ঢালা ঘন লস্যি। তার ওপর হালকা করে ছড়ানো চাট মসলা। প্রথম চুমুকেই কথা বলার ক্লান্তি নেমে গেলো। লস্যিতে মিষ্টির পরিমাণটা একদম সঠিক ছিল। মিষ্টতা আর চাট মসলার হালকা নোনতা স্বাদ দুই মিলিয়ে অদ্ভুত সুন্দর স্বাদ লাগলো। দোকানটা খুব বেশি সাজানো নয়, পুরোনো কলকাতার একটা আবহ আছে। নিজের জন্য ল্যাপটপ বা ফোন না পাওয়ার কারণে একটু হতাশা লাগছিল এক গ্লাস লস্যি সেই দুঃখে কিছুটা মলমের মতনই কাজ করলো। মাত্র কয়েকটা চুমুকে লস্যি শেষ করে টাকা মিটিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে পড়লাম। চাঁদনি চকের ভিড়ে আবার পা বাড়ালাম।
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রথম MEME Token : $PUSS by RME দাদা
"আমার বাংলা ব্লগের" প্রথম FUN MEME টোকেন $PUSS এখন SUNSWAP -এ লিস্টেড by RME দাদা
X-প্রোমশনের ক্ষেত্রে যে ট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন,
@sunpumpmeme @trondao $PUSS







