অদৃশ্য ছায়ার শহর: পর্ব ১২ (অন্তিম)
নমস্কার বন্ধুরা,
"সবকিছুই তোমার মস্তিষ্কের বানানো ভ্রম। আমার সন্দেহ, তুমি প্যারানয়েড স্ক্রিজোফ্রেনিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে আছো।"
ঘরের সবাই নিশ্চুপ। শুধুমাত্র ঘড়ির আওয়াজ। আকস্মিকতায় রোহন বিছানায় শুয়ে চোখ বুজে ফেললো। হঠাৎ "... দাদা… শুনতে পাচ্ছিস? ওরা জানলার ধারে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।"
জানলার বাইরে থেকে পৌরসভার সাদা আলো ঘরে আসছে।
কিছুদিন পর...
ঐ দিনের পর থেকে সায়নদের বাড়ির স্বাভাবিক ছন্দটা বিগড়ে গেছে। বাড়িটা সারাক্ষণ থম মেরে আছে। রোহনের চঞ্চলতা হারিয়ে গেছে। সব সময় আনমনা থাকে। বাড়িতে বসে টুকটাক অফিসের কাজ করছে। প্রজেক্টের ছোটখাটো বিষয় গুলো দেখছে, টিমের বাকিরা ওর মূল কাজ গুলো নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। সায়ন শুরুর কদিন ঘরে বসে কাজ করলেও ফের অফিস যাওয়া শুরু করেছে। বাড়িতে বসে দম আটকে আসছিল। সমাদৃতা প্রায় প্রতিদিন এসে খোঁজ নিয়ে যায়। রোহন রাত ১০ টার পর আর জেগে থাকতে পারে না, স্নায়ু শান্ত করার এবং শক্ত ঘুমের ওষুধ নিত্য রাতের সঙ্গী।
কড়া ওষুধ চলার পরেও রোহন মাঝেমধ্যে ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে ওঠে। সায়ন তাই ভাইয়ের সাথে ঘুমোয়। মন্দের মধ্যেও কদিন সব ঠিকঠাক চলছিল। চিৎকার করার হার কিছুটা স্তিমিত হচ্ছিল। অন্তত প্রথম চার পাঁচ দিনের তুলনায়। দিন পনেরো পর ঘটনার সূত্রপাত।
মাঝরাতে ভাইয়ের গলার আওয়াজে সায়নের ঘুমটা ভেঙে গেলো, পাশে তাকিয়ে দেখে রোহন বিছানায় আর নেই। সায়ন ঝট করে বিছানায় উঠে বসলো, চোখে চশমা লাগিয়ে দেখে রোহন জানলার পাশে দাঁড়িয়ে। "ভাই তুই দাঁড়িয়ে আছিস কেন?"
দাদা, "জানিস...ওরা আবার এসেছে। রোজ রাতে আসে। আমায় ডাকে। ওদের সাথে যেতে বলে।"
সায়ন ছুটে এসে রোহনের কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে দিলো। রোহনের হুঁশ ফেরেনি, বাইরে তাকিয়ে। বোতলটা এনে জলের ছিটে ভাইয়ের চোখে দিলো। হুঁশ ফিরতে ভাইকে টেনে বিছানায় শুইয়ে দিলো। বাকিটা রাত সায়ন জেগে থাকলো।
পরদিন খুব সকালে ডাঃ বর্মন এলেন, "...রোহন আজ তোমার কেমন লাগছে?"
-রাতে ওরা এসেছিল, আমাকে ডাকছিল। ওষুধ খেলে ডাক শুনতে পাই না, গত রাতে ওষুধ খাইনি।
ডাঃ বর্মন, "...ওরা তোমার কাছে কি চায়? সেসব কিছু শুনেছ?" - রোহন, "...ওদের কাজটা নাকি বাকি আছে, তাই ওদের সাথে যেতে বলে আমাকে।"
"তোমার দাদা তো জানালার পাশে কাউকে দেখেনি। তুমি যা শুনেছ বা দেখছ সেসব তোমার মনের ভুল। তোমাকে সেটা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে রোহন।"
রোহন শান্তভাবে ডাঃ বর্মনের চোখে চোখ রেখে "...আপনি মিথ্যে বলছেন। আপনিও তো ছিলেন ওদের মধ্যে।"
সমাদৃতা পাশে দাঁড়িয়ে সব শুনছিল, এগিয়ে এসে রোহনের কাঁধে হাত রাখল, "...রোহন, উনি আমার স্যার, সুনামধন্য সাইকিয়াট্রিস্ট ডাক্তার।"
নাহ! আমি নিশ্চিত, একই গলা, একই বলার ভঙ্গি। আমি সেদিন শুনেছিলাম ওই ঘরটাতে! পরিস্কার মনে আছে, কথা গুলো, "কাজটা এখন শেষ হয়নি"।
ডাঃ বর্মন কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যাওয়ার পর নিজেকে সামলে বললেন, "আমি ওষুধটা বাড়িয়ে দিচ্ছি সায়ন। নিয়মিত খাওয়াতে হবে। রোহন এখনও ভ্রমে। ওকে জলদি ফিরিয়ে আনতে হবে।"
বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার আগে ডাঃ বর্মন সমাদৃতাকে বলে গেলেন, "রোহনের একটু খেয়াল রাখো! এই অবস্থায় অনেক কিছুই..."
ডাঃ বর্মন বেরিয়ে যেতেই হঠাৎ বিছানার নীচে হাত ঢুকিয়ে একটা রক্তের দাগওয়ালা কাগজ বের করল। তাতে লেখা,
Patient Code: 540-B+ || Kidney and Lung
... কোথায় পেলি এটা?
আমি যখন ঐ ঘর থেকে পালিয়ে আসি, তখন বেডের পাশে রাখা একটা টেবিল থেকে নিয়ে...
কথা শেষ না হওয়ার আগে, ওদের বাড়ির বাইরে দুটো গাড়ি এসে দাঁড়ালো। সমাদৃতা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে উঁকি মেরে দেখল, গাড়ি থেকে কজন সিভিল ড্রেসে নেমে এলো, সাথে কজন পুলিশ।
ডাঃ বর্মন ফের ঘরে ঢুকলেন, "রোহন ওই কাগজটা আমাকে দাও, ওটাই তোমার ভ্রমের মূল।"
"একই গলা... এই গলাটাই সেদিন! একই গলা।" - চিৎকার করলো রোহন।
"তুমি অনেক বেশি মনে রেখেছো, সেদিন তোমাকে..."
কলিং বেল বেজে উঠল! দরজা খুলুন, সিবিআই থেকে আসছি। রোহনের বাবা দরজা খুলে দিতেই, দুজন এগিয়ে এসে ডাঃ বর্মনের খোঁজ জানতে চাইল।
রোহন বাবা ঘরের দিকে আঙুল দেখিয়ে দিতে, ওনারা হুড়মুড়িয়ে রোহনের ঘরের সামনে চলে এলো, "...ডাঃ সুজিত বর্মন, আন্তর্জাতিক অর্গান পাচারের অভিযোগে, আপনাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
ততক্ষণে পাড়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। বাড়ির সামনে পড়শিদের ভিড়। একজন অফিসার ডাঃ বর্মনের হাতে হাতকড়া পরাতে লাগল। আরেকজন সায়নের দিকে তাকিয়ে বলল, "আমরা এক বছর ধরে এই অর্গান চক্রের পিছু নিয়েছিলাম। ৫০০ র বেশি যুবক যুবতী নিখোঁজ হয়ে গেছে, আপনার ভাই একমাত্র প্রাণ নিয়ে ফিরেছে।"
হাতের রক্তওয়ালা কাগজটা রোহন অফিসারের দিকে এগিয়ে দিলো, দেখুন যদি আপনাদের কাজে আসে। আশা করছি কাজে লাগবার মতো ডিএনএ স্যাম্পেল পাবেন। এক অফিসার ডাঃ বর্মনকে হাতকড়া পরিয়ে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গেলো।
রোহন রাতের ওষুধ না খেয়েই শুয়ে পড়ল। বাড়িতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কদিন রীতিমতো সুনামি বয়ে গেলো, অবশেষে সবাই কিছুটা শান্তিতে ঘুমোবে...
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রথম MEME Token : $PUSS by RME দাদা
"আমার বাংলা ব্লগের" প্রথম FUN MEME টোকেন $PUSS এখন SUNSWAP -এ লিস্টেড by RME দাদা
X-প্রোমশনের ক্ষেত্রে যে ট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন,
@sunpumpmeme @trondao $PUSS



