অদৃশ্য ছায়ার শহর: পর্ব ৩
নমস্কার বন্ধুরা,
বেলা তখন তিনটে ছুঁই ছুঁই। সাধারণত অফিসিয়াল কাজে দেরি হয় না, তাছাড়া ব্যাংক সংক্রান্ত ডকুমেন্ট জমা করে রোহনের সরাসরি বাড়ি ফেরার কথা ছিল। দুপুর দুটো নাগাদ রোহন ফোন করে বললো, ওর শরীরটা খারাপ, এক ভদ্রলোক ট্যাক্সি ডাকতে গেছে। সেই কথা বলার কিছু পর থেকে যখন রোহনের ফোনটা সুইচড অফ, মিনিটের কাঁটার সাথে বাড়ির সবার চিন্তার পারদ বাড়ছিল। প্রথমে ভেবেছিল, হয়তো নেটওয়ার্ক সমস্যা, কিংবা ফোনের চার্জ শেষ। কিন্তু মিনিট পেরিয়ে ঘণ্টা কেটে গেলো, তবুও যখন রোহনের খোঁজ নেই, বাড়িতে এক অদ্ভুত অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
রোহনের দাদা সায়ন সরোবর মেট্রো স্টেশনের দিকে ছুটল। রোহন শেষ ওখান দিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার কথা। স্টেশন থেকে বেরিয়ে সায়ন সোজা ব্যাংকে চলে গিয়ে দু’তিনজন ব্যাংক কর্মীর কাছে খোঁজ নিয়েও কোনো লাভ পেলো না। রোহনকে নাকি কেউ ব্যাংকে আসতে দেখেনি। নানান চিন্তা ভাবনা সায়নের মাথায় ঘুরতে লাগল। রোহনের মোবাইলটাও বারবার “সুইচড অফ” বলছে। সায়নের চোখে রীতিমতো আতঙ্ক। শেষমেশ ট্রাফিক পুলিশের কাছে ঘটনাটা জানালো। কর্তব্যরত ট্রাফিক গার্ড গুরুত্ব সহকারে কথা শুনে বলল,
“আপনার ভাই কোন কাজের জন্য বেরিয়েছিলেন?”
“ব্যাংকের কাজে… গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডকুমেন্ট জমা দিতে।”
অফিসার মাথা নাড়ল, “চিন্তা করবেন না। আপনি থানায় যান, আমি সেখানে একটা ব্যবস্থা করা হবে।”
সায়ন বাড়িতে ফোন করে সবটা জানালো, তাতে বাড়িতে রীতিমতো সোরগোল পড়ে গেলো। পাড়াতে আগেই ঘটনা জানাজানি হয়ে গেছে তাই অনেকে এসেছে। কেউ রোহনের মা কে শান্তনা দিচ্ছে, সায়নের ফোন পেয়ে ছেলেরা সব থানায় আসার তোড়জোড় করলো। পাড়ার অনেকে থানায় আসছে জেনে সায়ন তাদের সোজা টালিগঞ্জ থানায় আসতে বললো।
থানার ভেতরে রিপোর্ট লিখতে লিখতে সায়নের হাত কাঁপছিল। পুলিশ প্রথমেই আশপাশের হাসপাতাল গুলোতে ফোন করতে থাকলো। নাহ! কোথাও রোহনের কোনো খবর নেই।
ঘটনা নিয়ে বাড়িতে সায়ন-রোহনের মা রীতিমত ভেঙে পড়েছিলেন। মাঝদুপুরে ছেলে অপহরণ হলো।
থানার পাশে যেসব পড়শীরা ছিল সবাই দলে ভাগ হয়ে গিয়ে রবীন্দ্র সরোবরের আশেপাশের অলিগলি তন্নতন্ন করে খুঁজতে থাকলো। কেউ জিজ্ঞেস করল,
“বাড়িতে বা বাইরে কোথাও কি ঝগড়াঝাঁটি হয়েছিল?
কিংবা কারও সঙ্গে সমস্যা?”
সায়ন মাথা নাড়ল, “না… ও খুবই সাধারণ, কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই।”
সময়ের কাঁটা এগোতে থাকল। শীতের বেলা গড়িয়ে রাস্তায় ধীরে ধীরে সন্ধ্যা বাতি ফুটে উঠছিল। অথচ রোহন নেই। কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে প্রতি থানায় খবর ছড়িয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে মিসিং পার্সনের খবরে ছয়লাপ করে দিয়েছে রোহন ও সায়নের বন্ধু-কলিগ-পড়শীরা। প্রত্যেক মিনিট যেন ঘণ্টার কাছাকাছি। সায়ন সহ অনেকে তখন টালিগঞ্জ থানার কাছাকাছি। যারাই আছে সবার মুখে চিন্তার ছাপ... রোহন নিরাপদে আছে তো?
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রথম MEME Token : $PUSS by RME দাদা
"আমার বাংলা ব্লগের" প্রথম FUN MEME টোকেন $PUSS এখন SUNSWAP -এ লিস্টেড by RME দাদা
X-প্রোমশনের ক্ষেত্রে যে ট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন,
@sunpumpmeme @trondao $PUSS



