ঝাপসা চোখে শনিবার
নমস্কার বন্ধুরা,
বেশ কদিন ধরেই ভাবছিলাম চোখ দেখাবো। ইচ্ছে ছিল, কিন্তু সময়টা পাচ্ছিলাম না। দেখতে দেখতে প্রায় এক বছর কেটে গেছে শেষ চোখ দেখানোর পর। দৈনন্দিন কাজের ব্যস্ততায় বিষয়টা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল, অথচ মনে মনে জানতাম এভাবে ফেলে রাখা ঠিক নয়। অবশেষে সুযোগ বুঝে ঠিক করলাম, শনিবারই যাবো। তাই শুক্রবারই নিয়ম করে সময় নিয়ে বুকিং করে রাখলাম, যেন কোনও অজুহাত না থাকে। রাতেরবেলা ঘুমোনোর সময় মনে হচ্ছিল দশটার মধ্যে চোখের হাসপাতালে পৌঁছতে পারবো না। সকালে আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো। একটু দেরি হয়েই পৌঁছালাম। তবে সেই দেরি আমার জন্য আশীর্বাদ হলো। বেলা বেড়ে যাওয়ার কারণে তখন হাসপাতালের ভিড় অনেকটা কমে গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা ছাড়া টেস্ট সেরে ফেলতে পারলাম।
আমি সাধারনত দিশা হাসপাতালে চোখ দেখাই। দিশা হাসপাতালে চোখ দেখানোর পুরো পদ্ধতি বেশ ভালো। প্রথমে ডিজিটাল মেশিনে চোখের পাওয়ার মাপা হয়। তারপর সেই রিপোর্ট হাতে আরেকটা ঘরে গেলে সেখানে একজন অপ্টোমেট্রিস্ট ম্যানুয়ালি আবার চোখের পাওয়ার পরীক্ষা করেন। প্রতিটি ধাপে বারবার বলা হয়, এটা ভালো দেখাচ্ছে, না ওটা? এই পুরো প্রক্রিয়াটাই বেশ পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নির্ভরযোগ্য। শেষে ডাক্তারবাবু সমস্ত রিপোর্ট একসাথে দেখে সমস্যার কথা শোনেন। ব্যাস।
সকাল এগারোটার একটু পরে যাওয়ার জন্য পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত করতে পেরেছি। এক ধাপ শেষ হতেই আরেক ধাপ। কোথাও অপেক্ষা করতে হয়নি বললেই চলে। তবে মাঝপথে একটু সমস্যা তৈরি হলো। আমার বাম চোখে হঠাৎ করে ঝাপসা দেখছি, বিষয়টা ডাক্তার বাবুকে জানাতেই ফের শুরু থেকে ধাপে ধাপে। চোখে এট্রোপিন ড্রপ দেওয়া হলো। জানতাম এতে কিছু সময়ের জন্য দৃষ্টি ঝাপসা হয়, তবু তখন বিষয়টাকে খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। শেষমেষ কিছু আর পাওয়া গেল না চোখের পাওয়ার আগের মত নিয়ে আছে তাতে কোন ধরনের পরিবর্তন হয়নি। সেটা সত্যিই খুব শান্তির প্রায় বছর খানেক বাদেও চোখের পাওয়ার এর স্থিরতা আসার জন্য একটা প্রশান্তি অবশ্যই হয়েছে। চোখ দেখিয়ে হাতের প্রেসক্রিপশন নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম তখনই বুঝতে পারলাম এট্রোপিন দেওয়ার ফল শুরু হয়ে গেছে।
চোখ দেখাতে যাওয়ার আগে ভেবেছিলাম, কাজ সেরে আরামে চশমা বানিয়ে ফিরবো। কিন্তু চোখে ড্রপ দেওয়ার পর সব হিসেব উল্টে গেল। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বুঝলাম, সামনে কিছুই পরিষ্কার করে দেখতে পাচ্ছি না। এমনকি রোদের দাঁড়ায় ঠিকঠাকভাবে চোখ খুলতেও পারছিলাম না। ফেরার পথে তখন আর তাড়া ছিল না, বরং একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। চোখ দেখানো হলো ঠিকই, কিন্তু সেই দিনটা আর কোন কাজই করা গেল না। চোখ দেখানো হলো সেটাই একটা কাজের কাজ।
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রথম MEME Token : $PUSS by RME দাদা
"আমার বাংলা ব্লগের" প্রথম FUN MEME টোকেন $PUSS এখন SUNSWAP -এ লিস্টেড by RME দাদা
X-প্রোমশনের ক্ষেত্রে যে ট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন,
@sunpumpmeme @trondao $PUSS




